বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৪

সোনামণি

 আজকে তোমার ছুটি হবে না 

ও সোনামণি 

আজকে তোমার ছুটি হবে না। 

যতই কাঁদো মা বলে 

বুক ভাসিয়ে নয়ন জলে, 

তবু তোমার ছুটি হবে না 

ও সোনামণি 

আজকে তোমার ছুটি হবে না। 

বায়না ধরে তুমি, ও-মামনি 

যতই বলো করতে দয়া 

না পারলে (অ আ) 

তোমায় আজকে ছুটি দেবো না, 

ও সোনামণি 

আজকে তোমার ছুটি হবে না। 

ও সোনামণি, শিক্ষা ছাড়া জীবন 

সুন্দর হয় না। 

(ই ঈ) পড়া দাও 

শিক্ষা নিয়ে বাড়ি যাও, 

ও সোনামণি 

জীবনে অনেক বড় হও তুমি 

তোমার জন্য রইলো শুভ কামনা। 

আজকে তোমার ছুটি হবে না 

ও সোনামণি 

না পারলে (অ আ) 

যতই বলো করতে দয়া 

আজকে তোমার ছুটি হবে না। 

মনের কথাই বড়ো

 লোকের কথায় হয়নারে প্রেম 

মনের কথাই বড়ো, 

ভালোবাসতে চাও যদি 

হৃদয়ে সাহস রাখিও। 

মানুষ দিবে জ্বালা তোমায় 

বলবে কেহ পাগল, 

নিন্দা তোমার সইতে হবে 

অনর্গল। 

যারে তুমি বাসবে ভালো, 

মন উজাড় করে ভালোবাসিও। 

ভালোবাসার এমনই জ্বালা 

না দেখলে বন্ধু কালা, 

কাঁদে মন পাগলা। 

হৃদয় থেকে যেটা আসে সেটাই মূল 

মুখে যেটা বলে সেটা ফুল, 

ঝরে যেতে পারে, যেমন ঝরে মুকুল। 

নিন্দা তুমি সইতে পারলে 

ভালোবাসিও। 

লোকের কথায় হয়নারে প্রেম 

মনের কথাই বড়ো। 

মৃত্যুর অপেক্ষায়

 এটাই জীবন। 

বাবা মা’র সেবা করো 

ভাই বোন মিলে-মিশে একসাথে থাকো। 

খাও দাও ঘুমাও 

কাজ করে জীবন বাঁচাও। 

হাসো, কাঁদো, লড়ো, 

মানুষের জন্য কিছু করো। 

এটাই জীবন। 

পড়ালেখা করে জ্ঞানী হও 

মানুষের মতো মানুষ হও, 

পশুর মতো জীবন গড়ো না। 

দুঃখ বলতে পৃথিবীতে নেই কিছু 

যদি নিজেকে ভাবো তুমি সুখী। 

এটাই জীবন। 

নিজের সাথে বাজি ধরা, 

মৃত্যুর অপেক্ষায় বেঁচে থাকা। 

এটাই জীবন৷ 

মরে পশুর মতো- 

রাস্তায় পড়ে থেকো না, 

মানুষের মতো মানুষ হও। 

মায়ের আঁচল

 আদর করে হাত বুলিয়ে যতনে 

ছায়া দিয়ে রাখে মা তার আঁচল তলে 

যতই আসুক ঝড় তুফান মেঘ বৃষ্টি, 

মায়ের মতন আপন কেউ নাই এই জগতে। 

তুমি মায়া মা, ছায়া সাতরাজার ধন। 

হিরা কাঞ্চন মুক্তা মানিক রতন 

তুচ্ছ মায়ের ভালোবাসার কাছে মন। 

সন্তানদের বলি বিনয় করে 

দিসনা ভাই মায়ের মনে ব্যথা 

খোদার কাবা ভেঙ্গে পড়ে, 

মায়ের মতন নাইরে কেউ এই জগতে। 

মা যদি পায় ব্যথা 

ইবাদত তোর বৃথা 

যতই ডাকিস খোদারে, 

মায়ের দোয়ায় তুই শ্রেষ্ঠ মানুষ হবি। 

মায়ের মতন আপন কেহ নাই এই জগতে 

হিরা কাঞ্চন মুক্তা মানিক রতন 

তুচ্ছ মায়ের ভালোবাসার কাছে মন, 

যতই আসুক ঝড় তুফান মেঘ বৃষ্টি 

ছায়া দিয়ে রাখে মা দিয়ে তার দৃষ্টি। 

মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই

 আমিও মানুষ। 

আমারও ইচ্ছে হয় বাঁচতে। 

আমিও চাই সঠিক পথে চলতে। 

আমি শিশু 

আমি কিশোর 

আমি ছেলে 

আমি মেয়ে 

আমি পুরুষ 

আমি নারী। 

চুড়ি পরে 

ঘরে বসে থাকার নাম জীবন নয়। 

আমারও হচ্ছে হয় 

প্রতিবাদ করি 

মানুষের জন্য লড়ি। 

আমি আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত কেনো? 

আমি আমার অধিকার চাই। 

আমি নারী 

তাই বলে ঘরের বাহিরে আসতে পারবোনা কেনো? 

আমি আমার অধিকার চাই। 

আমি ছাত্র 

আমি আমার অধিকার চাই। 

আমি আমার দেশকে ভালোবাসি 

এটা কি আমার অপরাধ? 

আমি শিশু 

কেন হই ধর্ষণ নির্যাতন? 

এটা কি স্বাধীন দেশ 

এটা কি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ? 

এই দেশে কি আইন আছে 

আইন থাকলে আইনের শাসন কোথায়? 

আমারও ইচ্ছে হয় 

মানুষ হয়ে বাঁচি। 

আমি বাঁচতে চাই। 

মৃত্যু সবারই হয় 

বাঁচার মতো বাঁচতে কয়জনে পারে? 

আমি স্বাধীন দেশে 

স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাই। 

লজ্জা লাগে ভাই 

কেমন মানুষ হায়। 

আলেম হয়ে জালেমের মতো কাজ করে যায়। 

ছাত্র গেছে বেয়াদব হয়ে 

শিক্ষকের কদর নাই। 

কেমন মানুষ হায়। 

আসল মানুষ কোথায়? 

অহংকার করে লাভ কি ভাই? 

টাকা পয়সা সবকিছু মাওলার দান। 

শিক্ষকের কাছে শিক্ষা নিরাপদে নাই 

টাকার কাছে বিক্রি হয় শিক্ষার মান। 

বিদ্যালয় কেড়ে নেয় ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণ। 

লজ্জা লাগে ভাই। 

ছেলের কাছে মা হয় যখন অপমান। 

কোথায় সেই মানব প্রেম? 

ছাত্রের হাতে ছাত্র খুন। 

মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে। 

আমিও মানুষ। 

মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই। 

ভালোবাসা

 যখন তখন যেখানে সেখানে 

আটকিয়ে যাই আমি 

তোমার মায়ার বাঁধনে, 

এটাই প্রেম এটাই ভালোবাসা 

আমার হৃদয়ের একটি আশা 

বেঁচে থাকুক এই ভালোবাসা। 

যতদিন থাকবে এই দেহে প্রাণ 

গাইবো শুধু তোমার নামের গান, 

তুমি আর আমি 

দুইয়ে মিলে এক হয়েছি, 

এটাই প্রেম এটাই ভালোবাসা 

এই হৃদয়ের একটি আশা 

বেঁচে থাকুক আমার ভালোবাসা। 

ওগো মোর প্রিয়

মোরে ভালোবাসিও। 

সাদা রং মোর খুব প্রিয় 

বিদায়ে মোর গায়ে জড়িয়ে দিও, 

আমার হৃদয়ের একটি আশা 

বেঁচে থাকুক এই ভালোবাসা। 

ভালোই আছি

 কেমন আছিস তুই? 

এখন কী আর আমার কথা মনে পড়ে তোর। 

এখন কী তোর ইচ্ছে হয় 

দুজনে মিলে টিএসসি, দোয়েল চত্বর, শাহবাগ, 

ঘুরতে। মনে চায় তোর, 

তোকে জড়িয়ে ধরে কপালে মিষ্টি চুমু দেই। 

তুই কেমন আছিস? 

জানিস, আমার ইচ্ছে হয়, 

তোকে জড়িয়ে ধরে মিশে যেতে তোর মাঝে। 

তোকে দেখতে ইচ্ছে হয় 

লাল শাড়ি, কাপালে লাল টিপ, 

খোঁপায় গোলাপ ফুল, মুখে লিপস্টিক 

হাতে মেহেদি, যেন এক লাল পরী। 

খুব ইচ্ছে হয় তোকে দেখতে 

সেই-দিনের মতো। 

তোর কী মনে পড়ে সেই দিনগুলো? 

দুইয়ে মিলে এক হয়ে ঘুরে ছিলাম 

বইমেলায়। 

তুই একটি বই পছন্দ করে বলেছিলি 

ভালোবেসে ভালো থেকো, 

হ্যাঁ’রে তোকে ভালোবেসে ভালোই আছি, 

যেমন পানি বিহীন বৃক্ষ বাঁচে 

তেমনি বাঁচি। 

ব্যথার রং

 আমার ব্যাথার রংগুলো যদি চিনিতে তুমি 

বুঝিতে প্রিয়া এই ব্যাথার দরিয়া। 

চোখে আর আসে না তো জল 

শুকিয়ে গেছে কেঁদে অন্তর। 

যেদিন আর থাকবোনা এই ধরায় 

কেঁদো নাগো সেদিন জড়িয়ে আমায়। 

আমি অনেক পেয়েছি তোমার ভালোবাসা 

ঘৃণা আর অবহেলা কাছ থেকে প্রিয়া। 

তুমি নওতো দূরে আছো মোর হৃদয়ে 

এখন আর আমি কাঁদিনা তুমি তুমি করে। 

বেঁচে আছো এটাই বড়ো

 বেঁচে আছো এটাই বড়ো 

কীসের এতো চিন্তা করো। 

বেঁচে আছো এটাই বড়ো 

মরে গেলে তোমার টাকা অন্যে খাবে, ইতিহাস পড়ো। 

বেঁচে আছো এটাই বড়ো 

কত গেলো, কত এলো, কে কার জন্য রইলো। 

বেঁচে আছো এটাই বড়ো 

মানুষ ধরো, মানুষের জন্য কিছু করো। 

বেঁচে আছো এটাই বড়ো 

একঘন্টা অক্সিজেন দুহাজার টাকা, মেডিক্যালে গিয়ে দেখো। 

বেঁচে আছো এটাই বড়ো 

লোভ লালসা হিংসা ছাড়ো। 

কীসের এতো চিন্তা করো 

বেঁচে আছো এটাই অনেক বড়ো। 

নয় আমার কথা

 ব্যথা বেদনা দিয়েছে 

করেছে তোমায় অবহেলা, 

কী হয়েছে তাতে 

তুমি মানুষ ছুঁয়ে দেখো এ-বেলা। 

কী পেয়েছো অন্যের হৃদয়ে আঘাত দিয়ে 

অন্যের ক্ষতি করে? 

মানুষের ভালোবাসা মানুষের ভেতর। 

কাকে দিয়েছো গাল 

তুমি কাকে দিয়েছো মার? 

মানুষের চেয়ে দামি কিছুই নাই আর। 

তোমার হৃদয়ে হিংসা, অহংকার, পুষে 

কী পেয়েছো তুমি? 

নিজের জন্যই নয় 

এই মানুষের জন্যও কিছু করতে হয়। 

তুমি মানুষের সাথে নেই 

মানুষের মাঝে নেই 

মানুষের উপকারে নেই 

তোমার মানবজনম বৃথা, 

এটা নয় আমার কথা 

পড়ে দেখো কুরআন, বাইবেল, গীতা। 

দেইখা আইলাম আমি

 দুঃখ সুখের খেলা চলে 

মাটির পিঞ্জিরার ভেতরে, 

দেইখা আইলাম আমি 

সবাই কাঁদে গোপনে। 

এই পিঞ্জিরাতে বৃষ্টি 

এই পিঞ্জিরাতে খড়া, 

এই পিঞ্জিরার লাগি 

মানুষ পাগল পারা। 

কেহ কাঁদে সুখের লাগি 

কেহ কাঁদে সুখে রাখার লাগি, 

আবার কেহ পাগল 

সুখ ছুঁইতে, ধরে জীবন বাজি। 

মন, এই সুখের লাগি 

কত ভালোবাসাবাসি, 

সুখের দেখা তুমি পেয়েছ কী? 

দেইখা আইলাম আমি 

সবাই কাঁদে গোপনে, 

দুঃখ সুখের খেলা চলে 

মাটির পিঞ্জিরার ভেতরে। 

ঠিকানা

 খাঁচার পাখি খাঁচায় সুন্দর 

বনের পাখি বনে, 

মনের পাখি না থাকলে মনে 

মন কেঁদে মরে। 

পান্থশালা জুড়ে 

কত স্মৃতি তোমায় ঘিরে, 

তুমি যদি বুঝতে 

এসে তুমি দেখতে। 

দ্যাখো আমার বুক ছিড়ে 

এই হৃদয়ে শুধুই তুমি। 

ঠিকানা আমার একটাই 

তোমায় পাই আর না পাই, 

দমে দমে আমি শুধু 

তোমাকেই চাই। 

বিরহ কেন আমায় পুড়িয়ে মারে, 

তুমি যদি বুঝতে 

এসে তুমি দেখতে। 

দ্যাখো আমার বুক ছিড়ে 

এই হৃদয়ে শুধুই তুমি। 

তুমি তুমি করে 

বিরহ আমায় পুড়িয়ে মারে, 

এই হৃদয়ে শুধুই তুমি 

শুধুই তুমি জপে। 

পান্থশালা জুড়ে 

কত স্মৃতি তোমায় ঘিরে, 

তোমার কথা ভেবে 

নয়নে বারি ঝরে 

আমার দুনয়নে বারি ঝরে। 

যে জীবনে প্রেম নাই

 ধংস্ব করে দাও আমায় 

তবু তোমার প্রেম হতে দূরে রেখো না, 

তোমার এসক মহব্বত হতে দূরে রেখো না 

আমায়৷ 

যে জীবনে প্রেম নাই, সে জীবন বৃথা। 

প্রেম দাও আমায় 

নয়তো জীবন নিয়ে যাও তুমি, 

প্রয়োজন নেই এই জীবন 

যে জীবনে প্রেম নাই তোমার। 

তুমি প্রেমময় 

তুমি দয়াময় 

এটাই তোমার ধর্ম, 

কাদামাটি পুড়াইয়া করো খাঁটি 

যেমন সোনা না পুড়াইলে 

পাকা হয় না, গহনা হয় না। 

এই জীবন চাই না আমি 

নিয়ে যাও তুমি, 

যে জীবনে প্রেম নাই তোমার 

ধংস্ব করে দাও এই জীবন আমার। 

যে জীবনে প্রেম নাই তোমার 

সে জীবন প্রয়োজন নেই আমার। 

প্রেম ছাড়া জীবন অভিশাপ 

মানব জীবন বৃথা, 

প্রেমহীন এই জীবন চাই না আমি 

ধংস্ব করে দাও আমায় 

তুমি ধংস্ব করে দাও আমায়। 

কত রঙের মানুষ দেখলাম

 কেহ মারে হাতে, কেহ মারে ভাতে। 

কত রঙের মানুষ দেখলাম এই দুনিয়াতে। 

কেহ রাখে মাথায় হাত, কেহ রাখে কমড়ে। 

কেহ আবার গাল ছুঁয়ে, পাঁছায় লাথি মারে। 

কেহ বলে জান, নাও ফুল। 

কেহ বলে ভালোবাসা করাটাই ভুল। 

কেহ আবার ফুল নিবে না, চায় অশ্রু। 

দিনরাত বলদের মতো খেটে যায় স্বামী, 

সোনার গহনা পরে বউ সাজে রাজরাণী। 

বাপের টাকা পোলা উড়ায়, মেয়ে বলে- 

এইযে বাবা এইটা আমার বয়ফ্রেন্ড, 

কী যুগ আইলো রে! মনে চায় যাইগা আয়ারল্যান্ড। 

ভিক্ষুকও আজ দু’টাকা ভিক্ষা নেয় না যে 

পাঁচ টাকা দশ টাকার নিচে, 

আমার মনে হয় আমি একাই গরিব এ-দেশে। 

ধনী দেশে আমি করি বসবাস, 

ভাতের বদলে খেয়ে যাই ঘাস। 

কত রঙের মানুষ দেখলাম এই দুনিয়াতে। 

স্বার্থ ছাড়া আপন পোলা-ও বাপ ডাকেনা যে। 

ক্যাসিনো’র আর্তনাদ

 সবাই যদি ভালো হয় 

খারাপ হবে কে, 

খারাপ যদি না থাকে 

ভালোর মূল্য কমে যাবে। 

ও দাদা, এই চিন্তা লইয়া 

খুললাম ক্যাসিনো, 

লক্ষকোটি টাকা আয় করমু। 

ও দাদা, ভেবেছিলাম কী 

এখন দেশে চলে কী! 

ভাবিনাই তো জেলেতে যামু, 

জেলের ভাত খাইয়া মোটা হমু। 

পাপ ছাড়ে না তার বাপেরে, 

ছাইড়া দে মা সৎ পথে যামুরে। 

সবাই যদি ভালো হয় 

খারাপ আসলে কে? 

নিজ ভালো তো জগত ভালো 

এখন বুঝছিরে, 

ভালোর মূল্য কখনো কমে না যে। 

কিতাবের চেয়ে মানুষ বড়

 মানুষের লেখা জ্ঞান মানুষে পড়িয়া নিজেকে দাবি করে জ্ঞানী। 

খোদার জ্ঞান নিজের অন্তরে নাহি ধারণ করো তুমি। 

কিতাবে যত লেখা এগুলো সব মানুষের কথা। 

খারাপ, ভালো, পথের কথা। কে কোন কালে পেয়েছে ব্যথা। 

আমরা মানুষ মাত্র, জ্ঞানের মূল মন দেবতা। 

মানুষ ছাড়া খোদার পরিচয় নাই, এটাই সত্য কথা। 

নিজেকে ভেবো না তুমি মহাজ্ঞাণী। আসলেই মূর্খ আমি। 

জ্ঞানের মূল মন দেবতা জেনে রাখো তুমি। 

কোন জ্ঞানে, দরজা জানালা বন্ধ ঘরে মানুষ প্রবেশ করিলো। 

কোন জ্ঞানে, মানুষ পানিতে ভেসে সাগর নদী পারি দিলো। 

কিতাব মানুষকে কখনো দেয় না মুক্তি, শুধু পথ দেখায় বেটা। 

এই কিতাবেই আছে লেখা, কিতাবের চেয়ে মানুষ বড়। 

জ্ঞানের মূল মন দেবতা। সে জ্ঞান হৃদয়ে ধারণ করো তুমি। 

আসলেই মূর্খ আমি নিজেকে ভাবি মহাজ্ঞানী। 

তোমার চেয়েও বড় জ্ঞানীগুণী এই জগতে আছে, খোঁজে লও তুমি। 

জ্ঞানের মূল আমার দয়াল মাওলা, পাঠ্যপুস্তক এগুলো সব মানুষের লেখা। 

আমি বড়োই অপরাধী

 ইটের বাটায় পুড়াইয়া 

মাটি যেমনে করে খাঁটি 

আমায় তেমনি দয়াল পুড়াইলে 

কী হইতো তোর ক্ষতি? 

মরার আগে আমায় 

একবার মরতে যদি দিতি, 

নাহি ভয় মরার সময় 

তুই যদি হইতি আমার সাথী। 

কর্মদোষে হইলাম আমি 

এই জগতে দোষী, 

ওরে ও-জগতবাসী 

আমি বড়োই অপরাধী, 

তবু তোদের ভালোবাসি। 

ওরে ও-জগতবাসী 

যেদিন আমার আসবে ডাক 

যেতে পরপারে 

দয়ালেরই মুখের বাণী 

শুনাইস মোর কানে, 

চাওয়ার আর কিছুই নাই 

তোদের কাছে, আমি অপরাধী 

ক্ষমা করিস মোরে, 

যাচ্ছি আজ আমি পরপারে। 

আমি টোকাই

 একমুঠো খাবারের জন্য 

রাস্তায় রাস্তায় কাগজ টুকাই। 

পচাগান্ধা কয়ে, কতজনে খাবার দেয় ফেলে 

আমি পেলে তা খাই। 

মানুষের লাথি উষ্ঠা খেয়ে, 

ছোট থেকে বড় হয়েছি পথে ঘাটে। 

ইচ্ছে আমার ছিলো 

তোমাদের মতো ইশকুলেতে যাবো, 

স্বপ্ন আমার মিথ্যে ছিলো 

ছাত্র নয়, টোকাই পরিচয় হলো। 

আমায় দেখে কেহ দেয় গালি 

কেহ দেয় তালি, 

কেহ আবার বলে 

এই বেটা এখান থেকে গেলি। 

কতশত টোকাই। পথশিশু, অসহায় 

ব্যস্ত শহরের মোড়ে 

ঘুরে ঘুরে বলে, 

ফুল নিবেন স্যার ফুল। 

তবু ভালো আছি ভাই 

আমি টোকাই। 

হৃদয়ে ময়লা

 পশু বুঝি হয়েছে মানুষ 

মানুষ হয়েছে আজ পশু, 

পশু করে মানুষের উপকার 

মানুষ করে আজ মানুষের ক্ষতি! 

এ-তো কয়লার চেয়েও কয়লা 

জমছে হৃদয়ে ময়লা, 

নিজ স্বার্থের জন্য 

ঘটায় যত ঝামেলা। 

হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি, 

শান্তির সমাজকে নষ্ট করে, 

অশান্তি সৃষ্টিকারী। 

পশু বুঝি হয়েছে মানুষ 

মানুষ হয়েছে আজ পশু! 

আমি অধম তুমি উত্তম। 

তোমরা শ্রেষ্ট আমি নিকৃষ্ট। 

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হয়ে, 

না চিনিলাম আমার স্রষ্ঠাকে। 

জমছে হৃদয়ে ময়লা, 

এ-তো কয়লার চেয়েও কয়লা। 

নিজ স্বার্থের জন্য 

ঘটায় যত ঝামেলা। 

শীতের ব্যথা

 ঠান্ডায় কর্ম জীবন অচল 

ঘরে নেই কম্বল, 

নাকে ডুকে বালি 

মুখে আসে কাশি, 

ব্যথায় ভরে বুক 

অসহায় মানুষের নেই সুখ। 

শীত! 

থরথর করে কাপে গাঁ, 

কেউ গরম কাপড় 

সাহায্য দিয়ে যায় না। 

কোথায় ইশ্বর 

কোথায় ভগবান 

কোথায় আল্লাহ্ মহান? 

অসহায় মানুষের পাশে 

নেই কি কোনো দয়াবান? 

কত নামি দামি সাহেব 

পৃথিবীর বুকে, 

কেউ তো আসে না 

দুঃখীর দুঃখ ঘুচে দিতে। 

কাঁদে অসহায় মানুষ 

ঠান্ডায়, 

মানবতা ডাকে তোমায় 

কোথায় ফিরে এসো তুমি? 

হোক তোমার জয় 

স্বার্থের স্বার্থ ভুলে, 

দাও তুমি দুঃখীর দুঃখ ঘুচে। 

রক্তে লেখা চিঠি

 একদিন যেতে হবে 

কেউই থাকে না 

বেঁচে চিরদিন রঙিন ধরায়, 

আমিও একদিন যাবো 

যেতে হবে। 

যাবার সময় হয়তো 

তোমার সাথে আমার দেখা হবে না, 

আমার ভালোবাসা ছিল, আছে, থাকবে, 

তুমি ভুলে যেও না আমায়। 

আমি কবি হয়ে 

প্রতিদিন তোমার বাড়িতে এসে 

কবিতা শুনিয়ে যাবো তোমায়, 

তুমি তোমার বাড়ির ঠিকানাটা দিয়ে আমায়, 

আমি আগের ঠিকানায় আছি। 

ছোট্ট ভবন প্রান্তশালা জুড়ে 

গাঁথা আছে তোমার আমার কতশত স্মৃতি! 

আচ্ছা, তোমার মনে পড়ে 

একদিন তুমি বলেছিলে 

যেদিন আমি থাকবো না  

সেদিন তুমি কি করবে? 

আমি হেসে গিয়ে তোমায় বলেছিলাম 

মাটির ছোট্ট একটি ঘরে ঘুমিয়ে থাকবো, 

ধুর বোকা। 

হ্যাঁ, আমি বোকা নই পাগল আমি 

পাগলের মতো তোমায় ভালোবাসি, 

আমি পাগল হয়ে যাই 

তোমায় একনজর দেখতে না পেলে, 

সত্যি বলছি আমি তো পাগল। 

তোমার যোগ্য আমি নই, 

আমি তো পাগল 

পাগলের মতো ভালোবাসি তোমায়। 

মানুষ কত কিছু চায় 

কত কিছু পায়, 

আমি শুধুই তোমায় চাই। 

আমি আগের ঠিকানায় আছি, 

তুমি যদি আসতে না পারো, 

তোমায় লেখা আমার রক্তে লিখা 

চিঠির উত্তরটা দিও, 

ইতি তোমার পাগল প্রেমিক। 

মহাকাব্য

 প্রতিবাদ করতে জানিনে 

প্রতিবাদ কাকে বলে তা-ও বুঝিনে, 

প্রতিবাদী মন হয়ে উঠেনি আমার এই মন। 

আমি তোমায় নিয়ে 

প্রতিবাদ করতে পারবোনে, 

আমার সাহস হয়নি হবেও না। 

আচ্ছা, ভালোবাসা যায় যাকে 

তাকে নিয়ে কী প্রতিবাদ করা যায়? 

জানা নেই আমার,

ভালোবাসি আমি তোমায় খুব। 

ভালোবাসার মানুষের বিরুদ্ধে 

প্রতিবাদ করা যায়নে। 

আমি তোমায় নিয়ে 

প্রতিবাদ করতে পারবোনে, 

আমি পারবো, তোমায় নিয়ে 

কবিতা লিখতে, মহাকাব্য লিখতে, 

পারবো ভালোবাসতে তোমায়। 

আমি তোমায় নিয়ে অনেক কিছুই করতে পারি 

শুধু পারবোনে প্রতিবাদ করতে। 

তুমি কী করে পারলে প্রতারণা করতে 

বলবে কী? 

তোমার মুখে হাসি শোভা পায় 

প্রতারণা নয়। 

নারীর হাসি ফুলের মাঝে নয় 

নয় চাঁদেরও মাঝে, নারীর হাসি 

নারীর মুখেই সুন্দর দেখায়। 

আমায় ভালোবাসতে হবে 

তা আমি তোমায় বলেনি, 

শুধু বললেই হতো আমায় 

আমি তোমার প্রিয় নই, 

তবুও নিজেকে বলতে পারতেম 

আমি ভালোবেসেছি তোমায়। 

যাকে ভালোবাসা যায় তাকে নিয়ে 

প্রতিবাদ করা যায়নে, 

আজ কবিতা লিখি আমি 

তোমায় নিয়ে কাব্য লিখি, মহাকাব্য, 

যে কাব্যে শুধুই তুমি 

যে কবিতায় শুধুই তুমি, 

খুব ভালোবাসি তোমায়। 

মেয়ে যখন বধুয়া

 মায়ের কোলে জন্ম নিলো, 

মেয়েটি এলো দুনিয়াতে, 

পিতা-মাতা হলো খুশি, 

পেয়ে আঁধার রাতে। 

দুচক্ষু খুলিয়া, দু-পা হাঁটিয়া, 

মেয়ে যখন হলো বধুয়া, 

সোয়ামির ঘরে এলো 

নতুন বধুয়া। 

সুখে-দুঃখে রবে সুয়ামির সাথে 

নতুন বধুয়া, 

বধুয়ার মনে কত আশা, 

পাবে সোয়ামির ভালোবাসা, 

হা, কত স্বপ্ন লইয়া, 

এলো সোয়ামির ঘরে 

নতুন বধুয়া। 

পরের মাকে মা ডাকিবে 

পরের বাবাকে ডাকিবে বাবা, 

পরের বোনকে বোন ডাকিবে 

পরের ভাইকে ডাকিবে ভাই, 

করিতে তাদের আপন 

এলো সোয়ামির ঘরে 

নতুন বধুয়া। 

কখনো পর হয় কি আপন? 

যদি নাহি ভাবে, 

যদি নাহি করে তাহারা আপন! 

কত স্বপ্ন, কত আশা, 

মেয়েটি আজ নতুন বধুয়া, 

পিতা-মাতা খুশি 

মেয়েটি বুঝি আছে আজ সুখী। 

ওগো মোর সোয়ামি 

কি করিলে পাইবো তোমার মন? 

আমি করিতে চাই তোমার 

সেবা যতন। 

আমাকে করিও-না পর, 

পরকে করিতে আপন, 

তোমার চরণ করিলেম চুম্বন। 

ওগো মোর প্রাণের সোয়ামি, 

কাহার পানে চাহিয়া? 

মোর গায়ে করিলে আঘাত, 

দিলে মিথ্যে অপবাদ, 

বলিয়া কাঁদে নতুন বধুয়া। 

সোয়ামির ঘরে গিয়ে 

সোয়ামির হাতে 

নির্যাতন হয়, 

এই বাংলার অনেক বধুয়া যে! 

যৌতুকের টাকা দিতে নাহি পারিলে 

ভাগ্যে খাবার জুটে নাহি রে। 

কেরোসিন গায়ে দেয় ঢেলে 

আগুনে জ্বলে পুড়ে, 

ঘৃনা লাঞ্ছনা বুকে লয়ে 

শ্বশুর শ্বাশুড়ির হাতে 

সোয়ামির হাতে, 

মারা যায় 

এই বাংলার অনেক বধুয়া রে। 

অনেক নতুন বধুয়ার 

সুন্দর জীবন 

অসুন্দর হয়ে যায় 

এই যৌতুকের কারণে। 

দুচক্ষু খুলিয়া, দু-পা হাঁটিয়া, 

মেয়েটি আজ নতুন বধুয়া। 

মানুষ হবি কবে

 কত জ্ঞানী গুণী বলে গেলো 

রেখে গেলো জ্ঞানের কথা, 

তবুও মন রইলি তুই বাঁকা 

কবে সোজা হবি বেটা! 

পরের ধন মেরে খেয়ে 

সেজদা দিলে মসজিদ ঘরে, 

যায় কি পাওয়া মাওলা? 

আসবে না আর কোনো কাজে 

সেজদা দিলে তুই মসজিদ ঘরে, 

নিজের মন যায় মরে 

পরের ধন খেলে মেরে। 

“কাহারে করিছ ঘৃণা তুমি ভাই, 

কাহারে মারিছ লাথি? 

হয়তো উহারই বুকে ভগবান 

জাগিছেন দিবা-রাতি!” 

জাতীয় কবির কথা 

কবে সোজা হবি বেটা! 

কত জ্ঞানী গুণী বলে গেলো 

রেখে গেলো জ্ঞানের কথা 

তবুও মন রইলি তুই বাঁকা, 

কবে সোজা হবি 

কবে মানুষ হবি? 

নিজের মন যায় মরে 

পরের ধন খেলে মেরে। 

মা আমার মুক্তিযোদ্ধা

 আমার মা মুক্তিযোদ্ধা 

হ্যাঁ, আমার মা মুক্তিযোদ্ধা। 

আমার মা যুদ্ধ করে যাচ্ছেন 

দিন-রাত তিনি যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। 

ছিলাম আমি কোথায় 

এলাম হেথায় 

দেখলাম তোমায়, 

চোখ মেলে মা জননী। 

ঘরে বাহিরে শ্রম করে 

রোদে পুড়ে 

করেছো বড় তুমি মোরে। 

আমার মা মুক্তিযোদ্ধা 

হ্যাঁ, আমার মা মুক্তিযোদ্ধা। 

করে কত সংগ্রাম 

ঝরিয়ে গা থেকে ঘাম 

আমার মা জননী। 

ওহে জ্ঞানী গুণী 

তোমার মা একজন মুক্তিযোদ্ধা 

মায়ের চরণতলে সঁপে দাও 

তোমার জীবনখানি। 

মা তুমি মুক্তিযোদ্ধা 

অনেক যুদ্ধ করে 

আমায় বড় করেছো তুমি। 

তোমার চরণতলে জান্নাত 

দেখিছি আমি, 

মা আমায় বানাও তোমার 

চরণের দাসি। 

ভালোবাসি

 নাইবা হলে তুমি মোর জীবনে 

আছগো তবুও তুমি মোর হৃদয়ে, 

থাকোগো তুমি যতদূরে 

আছগো তুমি মোর হৃদয় জুড়ে। 

খোঁজে দেখো বন্ধু তুমি, 

আমি আছি আজো হয়ে তোমার সাথী। 

আমার নিঃশ্বাসে তুমি 

আমার চিন্তায় তুমি 

আছো তুমি চেতনায়। 

একদিন দূর আকাশের তারার মতো- 

জ্বলে জ্বলে নিবে যাবো আমি, 

নিবে যাবে মোর ঘরের বাতি 

হবোগো আমি মৃত্যু পথের যাত্রী। 

তবুও বলছি ওগো তোমায়- 

ভালোবাসি। 

বন্ধু নেই

 মানুষের কতকিছু থাকে 

বন্ধু থাকে 

প্রেমিক থাকে প্রেমিকা থাকে, 

অভিমান করে 

রাগ হলে চুপটি করে বসে থাকে 

আর আমার কিছুই নেই। 

রাগ করি না 

রাগ করার মানুষ নেই 

অভিমান করি না 

অভিমান করার মানুষ নেই 

মন খারাপ করি না 

মন থাকলে না মন খারাপ হবে, 

তাই বসে থাকতেও পারি না 

শুধু ছুটাছুটি করি 

কোথায় যেনো মানুষটি। 

সুখ দুঃখ বলে চ্যাচিয়ে কান্না করি না 

দুঃখ পেয়ে অবাক হই না, খুব হাসি 

কারণ দুঃখ দেখার মানুষ নেই, 

মানুষের কতকিছু থাকে 

টাকা থাকে 

বাড়ি থাকে গাড়ি থাকে 

ঘরে সুন্দর নারী 

আর আমার ভালোবাসার মানুষ নেই 

নেই বন্ধু। 

বড্ড আমার হাসি পায় 

দেখে আজব দুনিয়া হায়, 

মানুষগুলো কেমন জানি! 

বৃদ্ধাশ্রমে

 মা ডাক মধুময়, মা ডাক পবিত্রময়। 

মা তুমি চাঁদ, মা তুমি চন্দ্র, 

মা তুমি গ্রহ, মা তুমি তাঁরা, 

তোমার প্রেমে আমি হই আত্মহারা। 

মা তুমি সাত রাজার ধন 

মা তুমি আনন্দ, মা তুমি সুখ, 

মা তুমি হাসি, 

মা তোমায় আমি ভালোবাসি। 

মায়ের চরণ তলে জান্নাত 

সত্য কি নয়, 

তবে কেনো 

জান্নাতের ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রমে হয়? 

জান্নাতগুলো বৃদ্ধাশ্রমে শুয়ে 

খোকা খোকা বলে ডাকে, 

ভুলে তুমি গেলে- 

কোন জান্নাতকে পেয়ে? 

মায়ের চেয়ে বড় জান্নাত 

আছে নাকি পৃথিবীর বুকে? 

মা যদি জান্নাত হয় 

তবে কেনো বৃদ্ধাশ্রমে রয়? 

মা, হয় জান্নাতের মণি 

আজ শপথ নেও তুমি, 

আর যেন না হয় ঠিকানা 

বৃদ্ধাশ্রমে কোনো মা জননীর। 

বাবা আমার বাবা

 ক্যান আমার সাথে 

তুমি কথা বলো না, 

খোকা বলে আমায় 

ক্যান তুমি ডাকো না? 

বাবা আমার বাবা। 

সবার বাবা আছে 

ভালোবেসে ডাকে কাছে, 

আমার বাবা আমায় ছেড়ে 

ঘুমিয়ে আছে মাটির ঘরে, 

তাই বুঝি আমার কথা 

এখন তার মনে ধরে না। 

বটবৃক্ষের মত রাখতে আমায় 

দিয়ে তুমি ছায়া, 

আমি এখন কষ্টে আছি 

হারিয়ে তোমার মায়া, 

বাবা আমার বাবা। 

যাদের বাবা আছে 

ভালোবেসে রাখে কাছে, 

সন্তান তবু নাহি বুঝে 

বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে 

বোকা কিছু খোকা যে! 

সন্তান থাকতেও একদিন 

তারা আর বাবা ডাক 

শুনতে পাবে না, 

বৃদ্ধাশ্রমে নয় বাবার ঠিকানা 

হোক সন্তানের অন্তরে 

করি এই কামনা। 

আমি আজ কষ্টে আছি 

হারিয়ে জন্মদাতা, 

বাবা আমার বাবা। 

প্রদীপ

 প্রভু আমার আমি করে, 

সবে মরে! 

বিশ্ব ভুবন শুধুই তোমার- 

আমার আমি নাহি গো। 

ধরি গো তোমার চরণ 

প্রভু ক্ষমা করো মোরে, 

ডাকিবো তোমায় 

এসেছিলুম স্বীকার করে 

ভুলে রয়েছি ভবের মায়ায় পড়ে। 

প্রভু কাম-গন্ধে মেতে রইলুম 

তোমার গন্ধ নাহি নিলুম। 

বৈশাখি ঝড় তুফান 

নদীর মাঝে উঠে যদি মহান, 

আমি কিভাবে দেব পারি! 

তুমি যদি না হও নায়ের কান্ডারী। 

প্রভু শুনেছি এ ভবে 

তোমার নাম জপিলে, 

উদ্ধার করো তুমি হয়ে রহিম রহমান। 

ওগো প্রভু দয়াময়, 

আমার অন্ধকার ঘরে 

জ্বালাও তোমার আলোর প্রদীপ। 

তুমি যদি তোমার নিজ গুণে 

নাহি করো দয়া, 

থাকবো আমি- 

অন্ধকার ঘরে পতিত হইয়া। 

প্রেম দাও আমায়

 প্রিয় তোমারি হৃদয়ে 

ভালোবাসায় গড়বো আমি 

প্রেমের এক প্রেম মহল, 

তুমি আমার শুধুই আমার 

হবেনি গো আমার? 

প্রিয় প্রেম দাও আমায়। 

প্রিয় হৃদয় দেয়ালে লিখেছি তোমার নাম 

ভালোবাসা দিয়ে আলোকিত করবো- 

অন্ধকার হৃদয় আমার, 

প্রিয় প্রেম দাও আমায়। 

প্রিয় তোমারি কাজল কালো চোখ 

তোমারি গোলাপ রাঙা ঠোঁট, 

তোমারি চুলের সুবাস 

কারিলো হৃদয় আঁখি আমার 

প্রিয় প্রেম দাও আমায়। 

প্রিয় তোমারি মধুময় কন্ঠের বুলি 

আমারি হৃদয়ে শুনি, 

দেখিলে তোমায়- 

প্রাণ বাঁচে আমার! 

প্রিয় প্রেম দাও আমায়। 

আজ বসন্তের ফুলগুলো 

ছুঁতে চায় তোমায়, 

কোকিলের সুরে বলে 

প্রিয় প্রেম দাও আমায়। 

প্রিয় আমার মাঝে নেই প্রেম 

আমি যে প্রেম ভিখারী, 

মরিবো যদি গো- 

নাহি পাই তোমায়! 

প্রিয় প্রেম দাও আমায় 

প্রেম দাও আমায়। 

পিতা মাতা

 বুঝবে একদিন তুমি বুঝবে 

খুঁজবে একদিন তুমি খুঁজবে 

কাঁদবে একদিন তুমি কাঁদবে 

পিতা মাতা হারিয়ে গেলে। 

যাদের পিতা মাতা আছে বেঁচে 

করো তারা পিতা মাতার সেবা। 

বুঝবে তুমি একদিন 

পিতা মাতার মর্ম হারিয়ে গেলে। 

মায়ের আঁচলে মুঁছেছি চোখের পানি 

আদর করে বাবা বুকে টেনে নিয়ে 

দুঃখ ঘুচে দিয়ে 

বলেছে আমার খোকা মণি, 

কাঁদবে তুমি একদিন কাঁদবে 

পিতা মাতা হারিয়ে গেলে। 

জানিয়া রাখো নদীর ঢেউ 

সাগর ছাড়া নদীর নাই আপন কেউ। 

পিতা মাতার মনে আঘাত দিও না কেউ 

পাবে না খোদার দয়া, খোদার দেখা। 

যদি পিতা মাতা থাকে বেঁচে 

তাদের সেবা করিও আগে। 

ভাববে তুমি একদিন ভাববে 

পিতা মাতার কথা, 

পিতা মাতার চেয়ে নাই কেউ আপন 

দিও না কেউ পিতা মাতার মনে ব্যাথা। 

মা- বাবার দোয়া আর খোদার দয়া, 

এই দুইটা ছাড়া কখনো 

কোন মানুষের জীবন আনন্দময় হয় না। 

নতুন প্রজন্ম

 পরাজয়ের ভাবনা মাথায় নয় 

জয় আমাদের হবে নিশ্চয়, 

আমরা অতীতে জ্বলে উঠা 

ঐ দূর আকাশের তারা 

আমরাই বর্তমান 

আমরাই আগামীর নতুন দ্বারা। 

আমরা গড়বো এই সোনার বাংলা, 

আগামীতে বাংলাদেশ মাথা- 

উঁচু করে বলবে, এই বাংলার কথা। 

আমরা হবো শান্তিময়, 

আমরা হবো প্রেমময়, 

আমরা হবো সেরাদের সেরা। 

শান্তির আলো 

আমরা ছড়িয়ে দিবো বিশ্বময়, 

ভয়কে করবো জয় 

নেই আমাদের ভয়। 

আমরা নতুন প্রজন্ম 

পরাজয়ের ভাবনা মাথায় নয় 

জয় আমাদের হবেই 

হবে নিশ্চয়। 

নয় আমারি

 এই দুনিয়ায় দেখলাম কত 

কেউ হইলো না মনের মতো 

কার জন্যে ঝরে দুআখি 

যাবে রে মন ছেড়ে একদিন 

এ খাঁচার পাখি। 

আমার আমার যারে বলি 

সেতো নয় আমারি 

কার জন্যে ঝরে দুআখি 

যাবে রে মন ছেড়ে একদিন 

এ খাঁচার পাখি। 

মন আমার কেঁদে বলে 

বন্ধু যদি দয়া করে 

মরে ওরে বাঁচতে পারে 

দেখিয়া ঐ-রূপ পাখি, 

কার জন্যে ঝরে দুআখি 

যাবে রে মন ছেড়ে একদিন 

এ খাঁচার পাখি। 

বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৪

তুমিই আমার শক্তি

 আমি ভালোবাসি তোমাকে 

তুমি কি ভালোবাসো আমাকে? 

ভালোবাসিলে রাখিও- 

তোমার চরণে আমারে। 

তোমাকে দিয়ে আমার শক্তি, 

তুমি উড়ে গেলে আমি লাশ। 

কায়া দেখতে অনেকেই আসবে 

থাকতে মায়া করো, 

আমি ঘুমিয়ে গেলে- 

তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর আর পাবে না। 

আমি ভালোবাসি তোমাকে 

তুমি কি ভালোবাসো আমাকে? 

দুঃখের পরিচয় নিজ নিজে 

সুখের পরিচয় সবাই দেয় ভবে। 

আমি রেখেছি তোমাকে আমার ভিতরে, 

তুমিই আমার শক্তি 

তুমি উড়ে গেলে আমি লাশ। 

আমি ঘুমিয়ে গেলে 

তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর আর পাবে না। 

তোমারে তুমি

 ছিলে কোথায় এসেছো কোথায় 

যাবে কোথায় তুমি 

একবারও কি ভেবে দেখেছো 

মন আমার খানি 

কেবা এলো কেবা গেলো 

কেবা ঘুমিয়ে ছিলো 

এই ঘরে শুনি। 

হাওয়া নিয়ে এতো অহংকার 

হাওয়া বের হলে ঠাঁস তুমি 

বন্ধ করো এতো নাচ 

এতো অহংকার জ্ঞানী 

দুচোখ বন্ধ ঘরে 

দেখো তারে 

হাওয়ার গতিবেগ মণি। 

মন 

আর কত নেবে জন্ম 

মৃত্যু হবে 

খাবে ঘাস 

হবে লাশ 

এবার চেনে নেও তোমারে তুমি। 

তোমাকে ঘিরে আমার বইমেলা

 দিনটি ছিলো সোমবার ২৫তারিখ বিকেল,

ঘড়ির কাঁটায় ৫টা ত্রিশ মিনিট প্রায়,

তুমি বললে একটি সেলফি হয়ে যাক

হেসে গিয়ে আমি বলে উঠি অবশ্যই,

এরপর কিযে হয়ে গেলো আমার!

বাড়ি নাকি তোমার মোহাম্মদপুর

আচ্ছা, শেওড়াপাড়া থেকে মোহাম্মদপুর যেতে

কত টাকা ভাড়া? খুব ইচ্ছে হয়

তোমার বাড়ি উড়ে উড়ে চলে আসি,

তোমাকে ঘিরে আমার বইমেলা। 

তুমি জানো,

আমি লুকিয়ে লুকিয়ে তোমার প্রোফাইল দেখি,

তোমার ছবিগুলো দেখে একা-একা হাসি,

অনেকে দেখে আমায় পাগল বলে। 

২৬তারিখ রাতে, দুচোখের পাতায় ঘুম ছিলো না আমার,

শুধু তোমার কথা ভেবে। 

আজ তারিখ সাতাইশ, দিনটি মেঘলা 

সন্ধ্যা হয়েছে, বাহিরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে,

এই বৃষ্টি দেখে খুব ইচ্ছে হচ্ছে

তোমাকে জড়িয়ে ধরে বৃষ্টিতে ভিজে যাই। 

খুব ইচ্ছে হয় জানো,

তোমার হাতে চা খাই, তুমি বানিয়ে দেবে,

আর আমি বলবো ‘ভালোবাসি- ভালোবাসি’।

তোমাকে ঘিরে আমার বইমেলা

আচ্ছা, কবে দেখা হবে আবার দুজনের?

খুব ভালোবাসি তোমায়। 

যেমন খুশি তেমন

 দয়াল দেখেন 

দয়াল শুনেন, 

দয়াল বিচার করিবেন। 

দয়াল ছাড়া কেউ বুঝে না 

কাঙালের মনের বেদনা 

কাঙালের যাতনা, 

তিনিই ঘুচে দিবেন 

তোমার আমার সকল বেদনা। 

দয়াল দেখেন 

দয়াল শুনেন। 

সুখে রাখুক আর দুঃখে রাখুক 

যেমন খুশি তেমন, 

এটাই তার সুবিচার 

আমার কাছে আপন। 

দয়াল ছাড়া কেউ বুঝে না 

কাঙালের মনের বেদনা 

কাঙালের যাতনা। 

ভালোবাসুক কিংবা করুক ঘৃণা, 

আমি তো তারই সৃষ্টি। 

তবে কিসের এত চিন্তা 

পেলে বেদনা? 

ভুলে গিয়ে সকল যাতনা 

মন, 

আনন্দে- 

আল্লাহু আল্লাহু জপো না। 

জন্মেছি কতবার

 আমি রবীন্দ্রনাথ হয়ে জন্মেছিলেম 

জন্মেছিলেম নজরুল হয়ে 

তোমার ভালোবাসা পাবো বলে 

জন্মেছি কতবার যে। 

তুমি আমার সে, 

“আমারও পরানও যাহা চায় 

তুমি তাই তুমি তাই গো” 

তুমি আমার সে, 

“তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি 

প্রিয় সে কি মোর অপরাধ?” 

শুধু তোমারি ভালোবাসা পাবো বলে 

আমি জন্মেছিলেম কতবার যে। 

ওগো, আমার ভালোবাসা 

তুমি কি মনে করিয়া- 

দিলে দূরে ছুড়িয়া? 

তোমার ভালোবাসা 

আমার কাছে ইবাদত। 

আমি আবার মরে গিয়ে জন্ম নিয়ে 

তোমার কাছে এসেছি, 

এই জন্মে যদি 

তোমার ভালোবাসা নাহি পাই, 

মরে গিয়ে ফিরবো না আর 

ধূলির ধরায়। 

আমি রবীন্দ্রনাথ হয়ে জন্মেছিলেম 

জন্মেছিলেম নজরুল হয়ে, 

শুধু তোমার ভালোবাসা পাবো বলে 

জন্মেছি কতবার যে। 

জীবন বড়ই সুন্দর

 আমি চেয়েছি যা 

পাইনি গো তা 

পেয়েছি শুধু যন্ত্রণা। 

জীবন বড়ই সুন্দর 

যদি গো দুঃখকষ্টগুলো 

আপন করা যায়। 

আমার কেটেছে জীবন ধরায় 

পেয়ে ঘৃণা অবহেলা লাঞ্চনায়। 

জীবন বড়ই সুন্দর 

যদি গো দুঃখকষ্টগুলো 

আপন করা যায়। 

চাইনা গো আর সুখ আমি 

মরীচিকার পিছে করে ছুটাছুটি। 

সুখ আর আমি 

তোমায় ছুঁইবো না। 

দুঃখ তুমি 

আমার বন্ধু হও না। 

মৃত্যুকে আমি সুন্দর দেখেছি। 

আমি কালো বলে 

তুমি আমায় ভালোবাসোনি। 

জীবন বড়ই সুন্দর 

যদি গো দুঃখকষ্টগুলো 

আপন করা যায়। 

একবার এসে পাশে বসে 

হাতে হাত ধরে 

নিয়ে যাও আমায় 

না ফেরার দেশে। 

চাইনা গো তা 

পাইনি গো যা 

পেয়েছি শুধু যন্ত্রণা 

আমি পেয়েছি শুধু যন্ত্রণা। 

কবিতার নেশায়

 নিঃশ্বাসে কবিতা 

বিশ্বাসে কবিতা 

কবিতা চিন্তায় 

কবিতা চেতনায়, 

প্রতি অক্তে কবিতা 

রক্তে কবিতা 

বুকে কবিতা। 

কবিতার নেশায় মাতাল হয়ে 

কবি পড়ে থাকে পথে ঘাটে 

শুধুই কবিতা কবিতা জপে। 

নিঃশ্বাসে কবিতা 

বিশ্বাসে কবিতা 

কবিতা চিন্তায় 

কবিতা চেতনায়, 

প্রতি অক্তে কবিতা 

রক্তে কবিতা 

বুকে কবিতা 

ধ্যানে জ্ঞানে শুধুই কবিতা। 

কোথায় আইন

 আর কত ঝরবে চোখের জল 

কবে শেষ হবে এমন নিষ্ঠুরতা? 

নেই কোথাও প্রতিবাদ, 

ধর্ষণ নির্যাতন 

কত শিশুর, কত নারীর, ঘটে মৃত্যু। 

অনেকেরই কন্ঠে একটি সুর 

আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন, 

হা, বড্ড হাসি পায় 

কারণটাই বুঝি এমন হয় 

ক্ষমতার শক্তিতে 

ধর্ষক কারাগারের বাহিরে রয়। 

কবে বন্ধ হবে, হবে কবে শেষ 

দিন যতই বেড়ে চলছে 

ততই ধর্ষণ নির্যাতন বাড়ছে, 

যে শিশুটি যাওয়ার কথা স্কুলে 

সে আজ শুয়ে আছে মাটির কবরে 

যে নারীটি মাথা উঁচু করে বলবে কথা 

সে আজ লজ্জায় লুকায় মুখ 

পেয়ে ব্যাথা। 

নারী তুমি মা 

নারী তুমি বোন 

নারী তুমি মেয়ে 

নারী তুমি বউ 

লজ্জা তোমার নয় 

লজ্জা আজ আমার, 

নারী জাতি যখন পুরুষ জাতিকে বলে ধর্ষক। 

কেমন পুরুষ হয়ে জন্ম নিলেম 

লজ্জা বড়ই লজ্জা, কোথায় আইন? 

ধর্ষণের শাস্তি হোক প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড 

তবেই যদি ঘুচে পুরুষ জাতির কলংক। 

কামনা

 যেদিন শুনবে তুমি 

পৃথিবীতে নেই আমি 

সেদিন কান্না করো-না তুমি, 

মুছে তোমার চোখের পানি 

আসিও আমার লাশ দেখিতে তুমি। 

তোমার মুখের হাসি 

ভুলিয়ে দেয় আমার যত দুঃখ 

আমার যত বেদনা, 

আমার মরণের খবর শুনে 

সেদিন তুমি কান্না করো-না 

ধন্য হবো ওগো আমি 

দেখিলে আমার বিদায়ে 

তোমার মুখের হাসি। 

আমার দেখতে ইচ্ছে হয় না 

তোমার চোখের কান্না 

আমার মরণের খবর শুনে 

সেদিন তুমি কান্না করো-না। 

যেদিন শুনবে তুমি 

পৃথিবীতে নেই আমি 

সেদিন কান্না করো-না তুমি, 

আমায় হাসি মুখে 

বিদায় দিও তুমি 

তোমার থেকে করি এই কামনা। 

এপিঠ ওপিঠ

 তুমি আমার নয়নে 

তুমি আমার হৃদয়ে 

তুমি আমার বিশ্বাসে 

তুমি আমার নিঃশ্বাসে। 

আমারি তুমি 

তোমারি আমি 

তুমি আমি 

আমি তুমি। 

তুমি বিহীন 

আমি মূল্যহীন 

একটি মুদ্রার 

এপিঠ ওপিঠ। 

তুমি আমার নয়নে 

তুমি আমার হৃদয়ে 

তুমি আমার বিশ্বাসে 

তুমি আমার নিঃশ্বাসে। 

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৪

একটা কিছু হোক

 হোক একটা কিছু হোক 

বড়দিনে ছোট মনগুলো বড় হোক 

অমানুষগুলো মানুষ হোক 

গরীবগুলো ধনী হোক 

বড়লোকের ছোট মনগুলো বড় হোক। 

হোক ভালো কিছু হোক 

ভালোবাসার বিজয় হোক 

ভালো কবির জন্ম হোক 

ভালো শিল্পীর জন্ম হোক 

বাংলাদেশের উন্নতি হোক 

দূর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ হোক। 

হোক একটা ভালো কিছু হোক 

নারী নির্যাতন বন্ধ হোক 

শিশু নির্যাতন বন্ধ হোক 

ধর্ষকের কঠোর শাস্তি হোক 

হোক ভালো কিছু হোক 

একটা ভালো কিছু হোক, 

বড়দিনে একটাই প্রার্থণা হোক 

অমানুষের মৃত্যু হোক 

ভালো মানুষের জন্ম হোক। 

এই শহরে

 কারে আমি মানুষ কই 

আমি নিজেই মানুষ নই 

আমরা আজব মানুষ হই, 

গুজবে দিয়া কান 

কেড়ে নেয় তাজা প্রাণ 

আসলে আমরা মানুষ নই 

অমানুষের সন্তান বুঝি হই। 

স্ত্রী করে পরকীয়া 

স্বামী করে পরকীয়া 

সংসার জীবন নাহি টিকে সই 

আমরা আজব মানুষ হই, 

ও সই 

দেশের কি দোষ 

দোষ আমাদের চরিত্রে 

আমরা আজব মানুষ হই। 

আমি কেমন মানুষ হই? 

নারী ধর্ষণ 

শিশু নির্যাতন 

ঘটে মৃত্যু 

দেখিয়াও মুখ বুঝে রই, 

বিচার চাইলাম কই। 

ও সই 

মানুষ আর হতে পারলাম কই! 

মানুষের মুখোশ পরে 

অমানুষরাই ঘুরে এই শহরে, 

ও সই 

কারে আমি মানুষ কই। 

আমি সিরিয়া

 ফাটছে বোমা 

করছে গুলি 

জ্বলছে আগুন 

আমি সিরিয়ার বুকে, 

আছিগো মা অনেক সুখে 

ফেলিস না জল তোর চোখে 

বিশ্ব মানবতা ঘুমিয়ে আছে 

আজ স্বার্থের কাছে। 

মূলকে ছেড়ে 

ভুলকে দিয়েছে জন্ম 

আজ মানুষ সেজেছে দেবতা 

নামে শুধু বিশ্ব মানবতা। 

সমাজ 

তোমায় যদি শান্তি 

নাহি দিতে পারি 

তবে আমি মানুষ নহে 

অমানুষ ভবে, 

মানুষতো সে হবে 

যে তোমায় শান্তি দিবে। 

হে বিধাতা 

আর কত সইবো নীরবতা? 

ফাটছে বোমা 

করছে গুলি 

জ্বলছে আগুন 

আমি সিরিয়ার বুকে, 

ঈশ্বর ডাকি তোমায় 

বুক ফেটে যায় 

দেখে অবুঝ শিশুর কান্না 

কবে পাবো স্বাধীনতা 

আমি সিরিয়া। 

আমার সোনার বাংলা

পাখির কন্ঠে বিজয়ের সুর 

বলিয়া যায় ভালোবাসি 

আমার এই সোনার বাংলা, 

ভেসে গিয়েছিলো রক্তে রাজপথ 

সেই বায়ান্ন একাত্তরের দিন। 

মনে পড়ে যায় সেই দিনের কথা 

মা বলেছিলো তুমিই পারবে 

এনে দিতে স্বাধীনতা, 

সালাম বরকত রফিক জব্বার 

আরো কত নাম না জানা 

বাংলা মায়ের বীর সন্তান 

ঢেলে দিলো তাজা প্রাণ। 

নয়টি মাস ঝরিতে থাকে 

বাঙালির গাঁ থেকে রক্তজল 

কত নির্যাতন 

অবশেষে এলো স্বাধীনতা 

পেলাম পরিচয় 

হাতে বিজয়ের পতাকা। 

বাংলা মায়ের 

বাংলা সন্তান আমি, 

আজ আনন্দে সবাই 

এক সুরে বলি 

আমার সোনার বাংলা 

তোমায় ভালোবাসি। 

আমি নুসরাত বা তনু নই

 দাদীর কবরের পাশে শুয়ে আছে নুসরাত 

আমরা ফেসবুক কাঁপাচ্ছি 

ধর্ষক মহাসুখে আপেল কমলা খেয়ে 

কারাগারে ঘুমাচ্ছে 

হঠাৎ একদিন সবাই চুপ হয়ে যাবে 

তনুর মত, 

এটা কোনো নতুন কথা নয় 

ক্ষমতা যার আইন তার 

বিচার চেয়ে লজ্জা দিবেন না কেউ 

আমি লজ্জিত নই। 

ধর্ষক কারাগারের বাহিরে ঘুরে 

অমানুষগুলো মানুষের মুখোশ পরা 

ভুলে যাবেন না দাদা 

এটা কোনো নতুন কথা নয় 

আগেও এমন বহু মেয়ে হয়েছে ধর্ষণ, 

মা মেয়ে হয়নি কি ধর্ষণ 

হয়নি কি শিশু নির্যাতন এদেশে 

কয়জনা পেয়েছে বিচার? 

ভুলে যাবেন না দাদা 

এটা কোনো নতুন কথা নয় 

বিচার চেয়ে লজ্জা দিবেন না কেউ 

আমি নুসরাত বা তনু নই। 

অনেকে বলেছে ক্ষমা করে দিস বোন 

তোকে বাঁচাতে পারিনি তাই 

হাস্যকর কথা আজ বলতে চাই না ভাই, 

বাংলার নারী আমি 

আমি মেয়ে আমি শিশু 

নিরাপদ জীবন চাই 

চাই নিরাপদ দেশ 

আমি নুসরাত বা তনু নই। 

আমার কোন দুঃখ নেই

 আমার কোন দুঃখ নেই 

দুঃখ আবার কী? 

দুঃখকে আমি মাটি চাপা দিয়েছি 

যেদিন তোমায় সুখের 

পালকিতে চড়তে দেখেছি। 

আমার কোন দুঃখ নেই 

আমি তোমার দুঃখে হয়েছি দুঃখী 

তোমার সুখে হয়েছি আমি সুখী, 

তুমি কাঁদলে আমি কাঁদি 

তুমি হাসলে আমি হাসি 

দুঃখ আবার কী? 

তুমি শিখিয়েছো আমি শিখেছি 

কিভাবে ভালোবাসাবাসি 

আজ ভুলতে পারো তুমি 

আমি ভুলিনি, 

দুঃখকে আমি মাটি চাপা দিয়েছি 

যেদিন তোমায় সুখের 

পালকিতে চড়তে দেখেছি। 

মনে পড়ে বঙ্গবন্ধু তোমায়

 এই বাংলায় আমি দেখেছি নেতা কত 

পাইনি বঙ্গবন্ধুর মত। 

আমি স্বপ্নে দেখেছি দেখেছি স্বপ্নে 

আমার সোনার বাংলা 

মাথা উঁচু করে বলেছে 

আমিই বাংলাদেশ, আমিই বঙ্গবন্ধু। 

আমি স্বপ্নে দেখেছি বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে 

বাংলা পেয়েছে স্বাধীনতার প্রাণ। 

বাবা ছাড়া যেমন সন্তান হয় না 

বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশ মানি না, 

শেখ মুজিব মানেই বাংলাদেশ 

বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধুর দেশ। 

যখন বঙ্গবন্ধুর কথা ভাবি 

তখন মনে পড়ে একাত্তরের কথা 

মনে পড়ে ১৯৪৮ সালের কথা 

মনে পড়ে ১১ই মার্চ বাংলা ভাষার মর্যাদা 

দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করা 

এক মহান নেতার কথা, 

মনে পড়ে ১৯৪৮ থেকে শুরু করে 

একবার নয় দুইবার নয় বার বার 

জেলে থাকা এক রাষ্টনায়কের কথা, 

মনে পড়ে জেলে থাকা 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। 

সেই সংগ্রাম অনেক ব্যথা 

বেদনার অশ্রু ও বুকের ইতিহাস 

বায়ান্নর একাত্তরের ইতিহাস। 

কি অপরাধ ছিলো? 

বাংলার মানুষের অধিকার চেয়েছিলো 

চেয়েছিলো বাংলার 

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে 

চেয়েছিলো ক্ষুধা 

দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে 

চেয়েছিলো বাংলার শোষিত বঞ্চিত 

মানুষকে শোষনের হাত থেকে মুক্তি দিতে, 

বিনিময়ে আমরা দিলাম তাকে 

মৃত্যু উপহার! ছি বাঙালি ছি। 

দুঃখ আমার লেগেছে, শত হলেও 

আমি তো মানুষ। 

১৫ই আগস্ট কালোরাতের ঘটনা 

ঘাতকেরা ভুলতে পারে, 

ইতিহাস কখনো ভুলবে না 

ভুলবে না বঙ্গ-সৈনিক। 

যতদিন থাকবে বাংলাদেশ 

ততদিন থাকবে বঙ্গবন্ধু। 

তোরা কোনদিনও ক্ষমা পাবি না 

স্বার্থবাদী ঘাতকের দলেরা। 

মনে পড়ে বঙ্গবন্ধু তোমায় 

তুমি আছো অন্তরে আমার, 

আছো তুমি মিশে- 

বাংলার দেশ প্রেমিকদের অন্তরে। 

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ 

বাংলাদেশ মানেই শেখ মুজিবুর রহমানের দেশ। 

মন মন্দিরে

 আমি পান করেছি প্রেমের সুধা 

বিসর্জন দিয়ে কামের ক্ষুধা, 

পুড়িয়েছি মানব দেহরে 

মন মন্দিরে তোমার পূজা করে। 

আমি মসজিদ ঘরে সেজদা দেই না 

মন্দিরেতে আমি যাই না 

গির্জায় গিয়ে প্রার্থণা করার প্রয়োজন মনে করি না, 

সবখানেতেই তুমি থাকো

ডাকার মতো ডাকলে তোমারে, তুমি আমারে তোমাতে রাখো। 

মানব ধর্মই বড় ধর্ম, 

ধর্ম বানিয়েছে মানুষ 

মানুষ ছাড়া এই জগতে ধর্ম বলতে কিছুই নাই 

মানুষ ভালোবাসি তাই। 

হায়! ফতুয়া দেয় ভণ্ডের দলে 

ডাকে আমায় নাস্তিক বলে, 

আমি জাত-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে 

মানবতার গান গাই। 

মুসলিম মরলে হয় মাটি 

হিন্দু মরলে ছাঁই, 

মানব ধর্মই বড় ধর্ম 

এছাড়া মানবের কিছুই নাই। 

আমি পান করেছি প্রেমের সুধা 

বিসর্জন দিয়ে কামের ক্ষুধা, 

পুড়িয়েছি মানব দেহরে 

মন মন্দিরে তোমার পূজা করে। 

মোহামেডান ল

 সূফী হতে গেলে সংসার ত্যাগী হতে হয় না, জঙ্গলে যেতে হয় না,

গাছের পাতা খেতে হয় না, ছালার চট পরতে হয় না,

প্রমাণ বিশ্ব আশেকে রাসুল (সঃ) সম্মেলন।

মানুষ কখনো জমির মালিক নয়, জমির মালিক আল্লাহ তাআলা,

১৯৯১সালে দেওয়ানবাগী হুজুরের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে

জমি রেজিস্ট্রেশন হয় এই বাংলাতে।

ভুলের মাঝে ছিল জাতি, ইহুদী-নাছারাগণ ইফতার করে দেরিতে,

দেওয়ানবাগী হুজুরের কারণে ১৯৯৩সাল থেকে

সঠিক সময়ে ইফতার করার সুযোগ লাভ হয় এই বাংলাতে।

আজ সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার দেওয়ানবাগী হুজুরের অবদান,

আগে ছিল সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার বৃটিশদের রেওয়াজ,

দেওয়ানবাগী হুজুরের আবেদনে

১৯৮২সালে থেকে সাপ্তহিক ছুটি শুক্রবার হয় এই বাংলাতে।

মানবজাতির জীবন বিধান পবিত্র আল- কুরআন ৬৬৬৬টি নয়

৬২৩৬টি আয়াত হয়, দেওয়ানবাগী হুজুর

পবিত্র কুরআন গবেষণা করে প্রমাণ করেছে,

১৯৯৭সালে প্রকাশিত পবিত্র কুরআন শরীফে

সর্বমোট ৬২৩৬টি আয়াত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেওয়ানবাগী হুজুর সর্বপ্রথম বলেন জায়নামাজে কাবা মদিনার ছবি

পায়ের নিচে রেখে নামাজ আদায় করা চরম বেয়াদবী,

দেওয়ানবাগী হুজুরের আহ্বানে সারা দিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে

এ ধরনের জায়নামাজে নামাজ আদায় না করার পরামর্শ দিয়েছে।

কোরবানি বান্দার নামে নয় আল্লাহর নামে দিতে হয়,

সূরা আনআম ১৬২নম্বর আয়াতে দেখো পড়ে, দেওয়ানবাগী হুজুরের আহ্বানে

এদেশের আপামর মুসলমানগণ তাদের ভ্রান্ত রেওয়াজ সংশোধন করে নিয়েছে।

পবিত্র আশুরা শুধুমাত্র শিয়াদের অনুষ্ঠান নয়

এদিন অপরিসীম রহমত ও বরকত ময়,

দেওয়ানবাগী হুজুর এদিনের তাৎপর্য তুলে ধরার পরে

সরকার এর গুরুত্ব উপলদ্ধি করে, পবিত্র আশুরার দিনটি সরকারিভাবে

বিশেষ গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে এই বাংলাতে।

পবিত্র ইদে মিলাদুন্নবি (সঃ) বিশ্বনবির শুভ জন্ম দিবস, ওফাত দিবস নয় 

দেওয়াবাগী হুজুরের প্রস্তাবে সিরাতুন্নবি (সঃ) বাতিল করে, ১৯৯৬সাল থেকে

রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ইদে মিলাদুন্নবি (সঃ) ধুমধামের সাথে পালিত হয় এই বাংলাতে।

বিশ্বনবি গরিব নয় শ্রেষ্ঠ ধনী, দেওয়ানবাগী হুজুরের মুখে সর্বপ্রথম শুনি

দোজহানের বাদশাহ্ ছিলেন, পবিত্র কুরআন ও হাদিস শরীফে

লেখা আছে দেখো পড়ে জ্ঞানী।

আল্লাহ নিরাকার নন, সাধন করলে দুনিয়ায় আল্লাহকে পাওয়া যায়

শ্রেষ্ঠ তাফসীর ‘তাফসীরে সূফী সম্রাট দেওয়াবাগী-তে লেখা রয়।

মিলাদ হারাম নয়, মিলাদে হযরত দয়াল রাসূল (সঃ)-এর দিদার হয়।

শুধু আরবিতে নয়, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা, বাংলাতে খুৎবা হবে

দেওয়ানবাগী হুজুরের আহ্বানে বাংলাদেশের বহু মসজিদে আজ বাংলাতে খুৎবা হয়।

একই দিনে সারা বিশ্বে ইদসহ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা সম্ভব,

দেওয়ানবাগী হুজুরের প্রস্তাব ওআইসি মেনে নেয়।

এ প্রস্তাবটিও বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ বিবেচনাধীন তা রয়েছে,

আজ হোক কাল হোক একই দিনে সারা বিশ্বে ইদ পালন হবেই।

যার এতো অবদান, সে যদি ভণ্ড হয় জামানার মোজাদ্দেদ কে?

উম্মতে মোহাম্মদী আইন মোহামেডান ল ছেড়ে দিয়ে

মুসলমান মানে উমাইয়াদের আইন!

সব ভুলের অবসান ঘটাতে দেওয়াবাগী আসলেন এই ধরাতে।

রাসুল (সঃ) বলেন অন্য অন্য নবিদের মধ্যে ৭২ফেরকা,

আমার উম্মতের মধ্যে ৭৩ফেরকা, এক দল জান্নাতি ৭২দল জাহান্নামী।

যারা আশেকে রাসুল তারাই জান্নাতি হবে। আত্মশুদ্ধি, দিলজিন্দা, নামাজে হুজুরি,

আশেকে রাসুল বানায় হযরত বাবা দেওয়ানবাগী।

এই মহামানবের শিক্ষা নিলে ধর্মের সঠিক জানবে, আল্লাহ ও রাসুল তুমি পাবে

স্বভাব চরিত্র হবে সুন্দর, সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী শ্রেষ্ঠ সংস্কারক।

কথাগুলো অধমের

 ১. 

তুমি মানুষ হও। 

আমি তো মানুষের ঘরে জন্ম নিয়েছি, 

আবার মানুষ হতে হবে কেনো? 

বাঘের ঘর থেকে বাঘের বাচ্চা জন্ম নেয় 

বিড়ালের ঘর থেকে বিড়ালের বাচ্চা জন্ম নেয়, 

কিন্তু মানুষের ঘর থেকে মানুষের বাচ্চা জন্ম নেয় না। 

তাই, তুমি মানুষ হও।


২. 

মনটা যদি ময়লার ডাস্টবিন হতো তাহলে হিংসা অহংকার, ঘৃণা রাখতাম 

কিন্তু এইটা মহাসম্পদ তাই এখানে ভালোবাসা রাখি।


৩. 

দুঃখের মাঝে মহা-মূল্যবান আনন্দ লুকিয়ে থাকে, 

অন্যের উপকার করিলে তাহা উপলদ্ধি করা যায়।


৪. 

যার হৃদয় পবিত্র ময় 

তার চরণধুলিও প্রিয় হয়।


৫. 

মন যদি শুদ্ধ হয় শুদ্ধ হবে তুমি, 

তোমার মাঝেই খুঁজে পাবে আমি।


৬. 

আনন্দ তাহা নয় 

যাহা তুমি পাও, 

আনন্দ তাহা হয় 

যাহা তুমি অন্যকে দাও।


৭. 

হৃদয়ে যদি না থাকে আলো 

চেহারা যতই হোক ভালো 

থাকবে তুমি চিরকাল কালো।


৮. 

অমানুষ হয়ে বাঁচার চাইতে 

মানুষ হয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।


৯. 

সমাজ নদীতে তোমাকে ডুবিয়ে মারার জন্য 

সাপ কুমির স্বার্থবাদী হিংস্র প্রাণী অনেক আছে, 

তুমি তোমার লক্ষ্য ঠিক রেখে মানব তরী বেয়ে যাও। 

শ্রম আর লক্ষ্য ঠিক থাকলে তরী ডুবানোর ক্ষমতা কারোর নেই। 


 

১০. 

প্রেম বিহীন ডাক আমার মাওলা শুনে না, 

বিশ্বাসই প্রেম, প্রেমই খোদা।


১১. 

পিতা মাতাকে যারা বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে তাদের কপাল পোড়া, 

সন্তান থাকতেও একদিন বাবা ডাক শুনতে পাবে না ওরা।


১২. 

মরার পরে মানুষকে মহামানব না বানিয়ে বেঁচে থাকতে কদর করেন।


১৩. 

উছিলা বিহীন আল্লাকে তালাশ করিলে 

নছিবে জিলাপি মিলে আল্লা মিলে না।


১৪. 

যে মুর্শিদের অধীনে চলে 

তার অহংকার করা সাজে না, 

কারণ মুর্শিদ অহংকার দমন করার শিক্ষা দেয়।


১৫. 

সকল মহামানব একই সুতায় গাঁথা, 

তাঁরা কখনো জাত-ধর্ম নিয়ে ঘামায় না মাথা।


১৬. 

আমার জন্মের গন্ধ লেগে আছে 

আজো মায়ের আঁচলে, 

আমরা সন্তান স্বার্থপর 

মুখ থেকে মুছে ফেলি মায়ের বুকের দুধ!


১৭. 

যার চিন্তা ভাবনা সুন্দর হয় 

তার জীবনটাও সুন্দরময়।


১৮. 

আপনি লোভকে দমন করেন, 

নয়তো লোভ আপনাকে দমন করবে।


১৯. 

জীবনে যা পেয়েছেন সব বোনাস পেয়েছেন 

আপনি যা হারিয়েছেন তাও বোনাস 

কারণ না হারালে কিছু পাওয়া যায়না।


২০. 

যার ভিতরে মানুষের প্রতি ভালোবাসা নেই 

তার ভিতরে মাতৃভূমির প্রেমও নেই 

নেই তার ভিতরে আল্লা ও রাসুলের ভালোবাসা। 


 

২১. 

বেঁচে থাকলে গুণ গুলো হয় দোষ, 

মরে গেলে দোষ গুলো হয় গুণ।


২২. 

যার মায়া আছে তার কিছুই নেই, 

যার মায়া নেই তার সবই আছে।


২৩. 

মৃত্যু ঈমানদারের জন্য আর্শিবাদ 

আর বেঈমানের জন্য অভিশাপ।


২৪. 

দুনিয়াটা পরীক্ষা হল, জন্মের শুরু থেকে- 

মৃত্যুর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পরীক্ষা দিতে হয়।


২৫. 

একজন চরিত্রহীন মানুষের টাকার বস্তা টানার চেয়ে 

একজন চরিত্রবান মানুষের পায়ের জুতা টানা অনেক ভালো।


২৬. 

যে শিক্ষা গুরুকে সম্মান করে, 

সে শিক্ষার আলোতে প্রকৃত আলোকিত মানুষ হতে পারে।


২৭. 

পাপের জন্ম দেহ থেকে নয়, 

পাপের জন্ম মন থেকে হয়।


২৮. 

তুমি যদি তোমার হৃদয়কে আলোকিত করতে পারো 

সারা পৃথিবী তোমার জন্য আলোকময়।


২৯. 

যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব নেই তাদেরকে মানুষ বলে 

মানুষকে লজ্জা দিয়েন না, কারণ পবিত্র গ্রন্থে এদের পশু বলা হয়।


৩০. 

যার চিন্তা যেমন 

তার কাছে আমি তেমন।


৩১. 

নামের আগে সূফী থাকলে সূফীর পোশাক পরলে 

প্রকৃত সূফী হয়না, চরিত্রে সূফী হতে হয়।


৩২. 

বড় হওয়াটা জীবনে বড় কিছু নয় 

সৎ ভাবে বেঁচে থেকে মৃত্যুবরণ করাটাই বড়। 


 

৩৩. 

যার অন্তর ঘুমিয়ে আছে 

তার ইশ্বরও ঘুমিয়ে থাকে, 

জাগ্রত চক্ষু দিয়ে ইশ্বর দেখা যায়না 

ইশ্বর দেখিতে হয় অন্তর চক্ষু দিয়ে।



৩৪. 

শুধু আয়না মুছলে ময়লা যায় না 

চেহারার ময়লাও মুছতে হয় 

নইলে নিজেকে অপরিস্কার দেখায়।


৩৫. 

যে দেওয়ানবাগীকে পেয়েও- 

ঠিক মত ভালোবাসতে পারল না, 

সে কাউকেই ভালোবাসতে পারল না।


৩৬. 

বই পড়ে জ্ঞানী হওয়া যায় মানুষ নয় 

যদি মানুষ হওয়া যেতো 

শিক্ষিত মানুষের কর্মকাণ্ড এতো জঘন্য হতো না! 


৩৭. 

হৃদয়ে যার প্রেম নাই 

সমাজে সে অশান্তি সৃষ্টি করে।


৩৮. 

হিংসা অংহকার দিয়ে কী হয়, মরলে তুমি মাটি! 

মানুষ হতে পারলে আল্লা-ওয়ালা হওয়া যায়, মানুষ হও ভাই।


৩৯. 

ইশ্বরের সেবা করিতে মনে যদি ইচ্ছে জাগে 

মানবের সেবা করিও তুমি আগে।


৪০. 

যতদিন চোখ রঙিন থাকে ততদিন মানুষ হাসে 

যেদিন চোখ সাদা-কালো হয়ে যায় 

সেদিন বুঝতে পারে বাস্তবতা কী, এবং তখনি মানুষ কাঁদে।


৪১. 

আদর্শ লিপি থেকে শুরু করে 

হাজারো আদর্শ বই পড়ে, 

আপনি যদি আদর্শবান মানুষ হতে না পারেন 

আপনার শিক্ষা জীবন বৃথা। 

 

৪২. 

ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা করে 

তারা প্রকৃত ধার্মিক নয়, বকধার্মিক। 


৪৩. 

বড় বড় ডিগ্রি আপনার কাজে আসলেও 

আমাদের সমাজের কাজে আসবে না 

যদি না আপনি ভালো মানুষ হোন।


৪৪. 

প্রভুর প্রেমে পড়লে দেহ হয় কয়লা 

ঠাঁই দিয়া চরণে তাঁর, দূর করে হৃদয়ের যত ময়লা।


৪৫. 

আপনার মাঝে থাকে সে 

ধরিতে চাইলে করেগো ছলনা 

বাঁচেনা অধমের প্রাণ বাঁচেনা, 

দেখিয়া তাহার রূপের হাসি 

বিনা দড়িতে পরেছে গলায় ফাঁসি!


৪৬. 

করলে করো পর হবো যাযাবর 

তবু তোমার নামে বাঁধবো অদৃশ্য ঘর, 

যে ঘরেতে একলা বসে করবো সাধনা 

জপবো তোমার নাম আমি আর কারো না।


৪৭. 

যখন তাহারে দেখিয়া ছিলাম 

যখন তাহার চোখে চোখ রাখিয়া ছিলাম 

যখন তাহার মুখের কথা শুনিয়া ছিলাম 

যখন তাহার চরণ ছুঁইয়া ছিলাম 

তখন মনে হইয়া ছিলো 

সে মোর কত্ত আপন কত্ত আপন।


৪৮. 

লোক সমাজের চিন্তা ভয় আমার মাঝে দিওনা 

তোমাকে ভালোবাসার দিও ভক্তি পাওয়ার বাসনা, 

পক্ষ ছেড়ে লক্ষ্য যেন থাকে তোমার দিকে 

ধ্যানে জ্ঞানে তোমায় আঁকি পাপীর বুকে।


৪৯. 

ফ্রিজে গোস্ত লুকিয়ে যেনো নাহি রয় 

গোস্ত বিতরণের প্রতিযোগিতা যেনো হয়, 

শুনেছি আল্লাহ তাআলা ভোগে নয় ত্যাগে খুশি হয়। 


 

৫০. 

আল্লাহকে ভালোবাসতে চাইলে বিশ্বনবি মোহাম্মদ (সঃ)-কে 

ভালোবাসতে হবে, প্রিয় নবির শিক্ষাই মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা। 

যারা মানুষের মনে কষ্ট দেয় তারা কোনদিনও বিশ্বনবি এবং আল্লাহর 

ভালোবাসা পাবে না। কারণ মানুষ ছাড়া আল্লাহর কোনো দলিল নেই 

আর প্রিয় নবি হচ্ছেন সৃষ্টি জগতের রহমত। 


৫১. 

ভালো মানুষের বন্ধু হয় না, 

ভালো মানুষের বন্ধু একমাত্র সৃষ্টিকর্তা।


৫২. 

মুর্শিদ মুরিদের জন্য কাঁদে 

মুরিদ মুর্শিদের জন্য কাঁদে না, 

যে কাঁদে সে মুরিদ নয় 

মুর্শিদের গোলাম বা প্রকৃত প্রেমিক।


৫৩. 

মানুষে মানুষে নাহি করো হিংসা বিদ্বেষ 

স্বয়ং বিধাতার উপদেশ, 

তোমাদের দ্বারাই আসিবে সমাজে কল্যাণ 

যদি ছাড়িতে পারো মানব অহংকার।


৫৪. 

মৃত্যুর ভয় আমায় দেখিয়ো না 

তাতে আমি এক পা পিছু হবো না সত্য প্রকাশে, 

আমি যেইদিন জন্ম নিয়েছি সেইদিন মৃত্যুর ভয় ছেড়ে দিয়েছি 

কারণ জন্ম নিলে মৃত্যু অনিবার্য।


৫৫. 

কায়ার দেহের মায়া করলেই লস, লাভবান সে 

যে কায়ার দেহের মায়া ছেড়ে দিয়েছে।


৫৬. 

যত ভুলবা তত পড়বা 

যত পড়বা তত জানবা 

যত জানবা তত মানবা 

যত মানবা তত বড় হইবা।


৫৭. 

যে আমায় ভালোবাসে আমি তাকে ভালোবাসি 

যে আমায় নিন্দা করে আমি তাকেও ভালোবাসি।


৫৮. 

পৃথিবীতে বহু রূপের মানুষ থাকে, 

নিজের রূপ আগে চিনতে পারলে 

তখন বহু রূপের মানুষগুলোকে চিনতে সহজ হবে। 


 

৫৯. 

মৃত্যুকে দমে দমে মনে রাখাও একটা ইবাদত।


৬০. 

যে সম্মান নিতে জানে না 

তাকে আমি সম্মান করি না। 


৬১. 

শিক্ষকের পরিচয় ছাত্র, 

ছাত্রের পরিচয় আদব।


৬২.

মৃত্যুর চেয়ে আপন আর কিছু নেই, সবাই পর করে দিলেও 

মৃত্যু তোমায় একদিন আপন করে নিবে।


৬৩.

পাখি বিহীন খাঁচা মূল্যহীন 

খাঁচার নহে পাখির যত্ন নিন।


৬৪.

মন, রঙিন কাপড় নিয়ে আনন্দ উল্লাস করিওনা, 

একদিন আমিও সাদা কাপড় পরিধান করবো।


৬৫. 

আগুনের কাজ আগুনে করে পানির কাজ করে পানি 

ভালো কাজ ভালো লোকে করে 

তা দেখে খারাপ লোকের জ্বলে হৃদয়খানি।


৬৬.

নিজের কাছে কিছুই রাখিনি, যা ছিলো সব দিয়েছি এই মানুষেরে

বিনিময়ে এই মানুষ দিয়েছে ‘ঘৃণা, অবহেলা’ তবু এই মানুষেরে ভালোবাসি।


৬৭.

তোমরা না গিয়ে দেওয়ানবাগীর কাছে না দেখে এই মহামানবকে

তাঁর সমালোচনা করো, আর আমি তাঁর কদম মোবারকে থেকে 

তাঁর গোলামি করে তাঁর প্রসংশা করি তাকে ভালোবাসি। 


৬৮. 

মৃত্যুর পর মানুষের জন্ম হয়।


৬৯.

তুমি পবিত্র হইলে আমি পবিত্র হই 

তুমি অপবিত্র রইলে আমি মানুষ নই।


৭০.

যার দেহ পুড়েছে গুরুর প্রেমে 

যমে তারে শ্রদ্ধা করে। 


 

৭১.

আসা যাওয়ার যন্ত্রণা না দিয়ে 

তোমার এশক মহব্বতে পাগল বানিয়ে 

মৃত্যুর আগে মৃত্যু দাও। 


৭২.

সুন্দর চরিত্র হচ্ছে আল্লাময় জগতে যাওয়ার প্রবেশপত্র,

এবং আদব বিশ্বাস সাহস ও মহব্বত হচ্ছে আল্লাময় জগতে থাকার পরিচয়পত্র। 


৭৩.

বেহেশত পাবার জন্য দুনিয়ায় এসেছেন? 

সকল কিছু মানুষের জন্য সৃষ্টি 

আর আপনি সেই সৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন! স্রষ্টার জন্য নয়

বেহেশতও বলে স্রষ্টা আমি আপনাকেই চাই। 


৭৪.

রাত যত গভীর হয়

সৃষ্টির প্রতি স্রষ্টার তত দয়া হয়। 


৭৫.

বিশ্ব স্রষ্টা সৃষ্টিকে কখনো কষ্টে রাখে না

সৃষ্টি তার নিজের ভুলের কারণে কষ্টে থাকে। 

ভুলেছি বেদনা

 তোমায় বাসলে ভালো হৃদয় হয় শুদ্ধ 

তুমি সত্য তুমি সুন্দর তুমি পবিত্র। 

সুন্দর তোমার সৃষ্টি ওগো দয়াময় 

তোমার চরণে দিও মোরে আশ্রয়। 

যতন করে রাখবো ধরে 

তোমার চরণ হৃদয় মাঝারে, 

তোমার ধ্যানে থাকি যেন 

জীবন মরণে। 

সকল সুখ দিয়ে তোমার চরণে 

ঘুচেছি মোর দুঃখ ভুবনে, 

তোমায় দেখেছি আপনায় 

ভুলেছি বেদনা ভালোবেসে তোমায়। 

তোমায় বাসলে ভালো হৃদয় হয় শুদ্ধ 

তুমি সত্য তুমি সুন্দর তুমি পবিত্র। 

সুন্দর তোমার সৃষ্টি ওগো দয়াময় 

তোমার চরণে দিও মোরে আশ্রয়। 

সাধন ভক্তি

 কত মানব ধন্য হইলো পাইয়া চরণখানি

আমি অধম আজও তোমায় ভালোবাসতে পারিনি

দয়াল আজও তোমায় ভালোবাসিনি।

কতজনে ভাঙা তরী লইয়া দিলো পারি

আমি অধম পারে বইসা অঝোর-নয়নে কাঁদি

দয়াল তোমায় পাইতে কাঁদি।

জানি না কোন কর্মদোষে

রাখো দূরে তোমা হতে

আমি বড় পাপী দয়াল

আজও তোমায় ভালোবাসতে পারিনি

আমি অধম আজও তোমায় ভালোবাসিনি।

জানি না কোন সাধনায় পাইবো তোমায় আমি

নিজগুণে আপন মনে ক্ষমা করো তুমি

দয়াল ক্ষমা করো তুমি।

দাও হে ভিক্ষা নূরের চরণখানি

চুমিতে চুমিতে যেন আমি অধম মরি

দয়াল আমি অধম মরি।

দয়াল মরিতে চাই তোমার চরণে

একটাই র্প্রাথণা করি

আমার সকল সাধন ভক্তি তোমার চরণখানি।

বিচার করবে তোমার আমার

 বিচারের দিবসে বসে খোদা আরশে 

বিচার করবে তোমার আমার, 

মন, বলো কেন খোদা নিরাকার। 

দুনয়নে দেখেছ এই পৃথিবীর আলো 

আপন মাঝে আঁধার কালো! 

দেখবে কেমনে খোদারে ডুবে আছো আঁধারে। 

জ্ঞান নয়ন না খুললে দেখা যায় না খোদা। 

মন, বলো কেন খোদা নিরাকার। 

খোদা দেখছে মানসুর হেল্লাজ 

খোদা দেখছে প্রিয় মোহাম্মদ, 

খোদা দেখছে বহু নবি ওলি সূফী সাধক। 

করলে খোদা পাওয়ার সাধনা 

মিলে মন সাঁই রাব্বানা, 

মন, বলো কেন খোদা নিরাকার। 

আরবি শিখতে তুমি মাদ্রাসায় গিয়েছ 

বাংলা শিখতে বাংলা মাস্টার ধরেছ, 

ঠিক তেমনি করে মন পেতে খোদার দর্শন 

ধরতে হয় মুর্শিদ করতে হয় সাধন। 

এই যুগেতে আল্লা ও রাসুল পাওয়ার শিক্ষা 

দিচ্ছেন আমার প্রাণের মুর্শিদ সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা। 

মন, যাও বাবে রহমতে 

তাঁর শিক্ষা নিয়ে দেখো প্রিয় রাসুল ও খোদারে, 

তখন আর রবে না খোদা নিরাকার। 

বিচার করবে তোমার আমার 

বিচারের দিবসে বসে খোদা আরশে। 

প্রিয় মোহাম্মদ আমার

 প্রিয় মোহাম্মদ আমার 

তুমি উম্মতের কান্ডার 

তুমি বিনে আমি অধমের 

নাই জগতে কেউ আর। 

প্রিয় মোহাম্মদ আমার 

তোমার শুভ জন্মদিনে 

খুশি হয় না কাফেরগণে 

ইয়াজিদ আর মুনাফিকে 

প্রচার করে ইদে মিলাদুন্নবি বেদআত। 

প্রিয় মোহাম্মদ আমার 

তুমি নূরের ফুল 

আশেকে রাসুলের মূল 

তুমি মাথার তাজ 

তোমার নূরে সৃষ্টি তামাম। 

প্রিয় মোহাম্মদ আমার 

বানাও তোমার চরণের ধুল 

স্বভাবে আশেকে রাসুল 

মুর্শিদ আমার ভেঙেছে ভুল 

তুমি সৃষ্টির মূল। 

প্রিয় মোহাম্মদ আমার 

শুভ শুভ শুভদিনে 

তোমার নূরের কদমে 

প্রেমও ভক্তি রইল আমার 

হতে চাই তোমার গোলাম। 

প্রিয় মোহাম্মদ আমার 

তুমি উম্মতের কান্ডার 

তুমি বিনে আমি অধমের 

নাই জগতে কেউ আর। 

উপদেশ দিতে নয়

 না বললেই নয় তবু কিছু কথা বলতেই হয় 

বন্ধুরা তোমাদের উপদেশ দিতে নয়, 

খাও দাও সঞ্চয় করো জ্ঞান অর্জন করো 

এটাও এক বড়ো সঞ্চয়, বৃদ্ধকালে অর্থের বড়ো প্রয়োজন হয়। 

বাবা মায়ের ভালোবাসায় তুমি রঙিন 

বাবা মা বৃদ্ধ হলে ভুলে যেওনা তাদের ঋণ, 

থেকো তাদের পাশে 

এটাও এক বড়ো সঞ্চয় আখেরাতে। 

বন্ধুরা উপদেশ দিতে নয় তবু কিছু কথা বলতেই হয় 

যারা ছিলো তোমার বিপদের দিনে 

তুমিও থেকো তাদের বিপদে, 

যে তোমাকে শত্রু ভাবে তুমি তাকে বন্ধু করে নিও 

তখন সে আর তোমার শত্রু নাহি রবে। 

না বললেই নয় তবু কিছু কথা বলতেই হয় 

জীবন খুবই সুন্দর, সুন্দর পৃথিবীর মানুষ 

তুমি বেঁচে থাকো এই মানুষ ভালোবেসে, 

কজনে পারে এই মানুষকে ভালোবাসতে? 

এটাও এক বড়ো সঞ্চয় মানব জীবনে। 

তোমাদের উপদেশ দিতে নয় 

তবু কিছু কথা বলতেই হয়, 

বাবা মাকে ভালোবেসে তাদের দোয়াতে তুমি থাকো 

এটাও এক বড়ো সঞ্চয় সন্তান হিসেবে। 

বন্ধুরা তোমাদের উপদেশ দিতে নয় 

মানুষের হৃদয়ে আঘাত দিতে নেই, 

তাতে ব্যথা পায় প্রভু দয়াময় 

ব্যথা পায় আমার হযরত মোহাম্মদ, 

কজনে পারে এই মানুষকে ভালোবাসতে? 

তুমি বেঁচে থাকো এই মানুষের দোয়াতে। 

ইদ আনন্দ ইদ বেদনা

 আকাশে বাঁকা চাঁদ উঠেছে 

ঘরে ঘরে আনন্দের বাহার বসেছে 

ইদ এসেছে ইদ এসেছে, 

আজ খুশিতে মন নাচবে 

মেহেদি রঙে হাত সাজবে 

ইদ এসেছে ইদ এসেছে। 

ধনী দিলে গরিব পায় 

নয়তো গরিব নীরবে কাঁদে হায়, 

ধনী খায় 

গরিব খায় না, 

ইদ আনন্দ ইদ বেদনা। 

ইদ মানে শুধু আনন্দ নয় 

কিছু মানুষের জন্য বেদনাময়, 

তবে সেই বেদনার হবে অবসান 

যদি কমে গরিব ধনীর ব্যবধান। 

গরিব ধনী সবাই নাকি ভাই ভাই 

এসো বুকে বুক মিলাই সবে, 

তবেই তো ইদের প্রকৃত আনন্দ 

সবার মাঝে রবে, 

সবার মাঝেই রবে। 

মুক্তিযুদ্ধে সূফী সম্রাট

 হাসি মুখে দাও বিদায় যাবো আমি যুদ্ধে 

বাংলা মাকে মুক্ত করে আসবো ফিরে তোমাদের বুকে, 

শুনে সূফী সম্রাটের মুখের কথা কাঁদে পিতা কাঁদে মাতা 

সূফী সম্রাট পাষাণে বেঁধে বুক, বাংলা মাকে দিতে সুখ 

গেলো যুদ্ধে সঙ্গী সাথী ৭২জনকে সাথে নিয়ে। 

পাকিস্তনী সৈন্যদের বিরুদ্ধে ২৬শে এপ্রিল ১৯৭১ শাহবাজপুরে 

সূফী সম্রাট যুদ্ধ করে অস্ত্র নিয়ে নিজ হাতে, 

সূফী সম্রাট ভারতের মাটিতে দুইটি মসজিদ করে নির্মান 

২৭শে আগস্ট শুক্রবার সে মসজিদে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিয়ে 

সূফী সম্রাট করে জুম্মার নামাজ আদায়, 

আল্লাহর রহমত চেয়ে মোনাজাত, ইমামতি করে সেদিন সূফী সম্রাট। 

১৯শে নভেম্বর ১৯৭১সাল পবিত্র ইদুল ফিতর, উঠেছিল ইদের চাঁদ 

‘ইদের চাঁদ ফিরে যাও তাদের কাছে 

যারা আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, 

আমাদের আবার কিসের ইদ। 

শুনে সেদিন সূফী সম্রাটের কথা, মুক্তিযোদ্ধরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে 

বিচ্ছেদ যাতনায় মাটিতে গড়াগড়ি করে। 

সূফী সম্রাটের ভবিষ্যৎ বাণী স্বাধীন বাংলাদেশ আমার জন্মভূমি। 

‘আল্লাহর কসম! আগামী বকরা ইদের আগে দেশ স্বাধীন হবে 

আপনাদের নিয়ে ইদুল আযহার নামাজ আদায় করবো আমি রেসকোর্স ময়দানে। 

সেই ঘোষণার ২৭দিন পর বাংলা স্বাধীন হয়, ১৬ই ডিসেম্বরে বিজয়ের পতাকা উড়ে 

সূফী সম্রাট রেসকোর্স ময়দানে ইদের নামাজের ইমামতি করে। 

বাংলার প্রথম ইমাম সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী মহান, 

জয় বাংলা বাংলার জয়, মুক্তিযুদ্ধে সম্রাটের অবদান কম নয়। 

বীর মুক্তিযোদ্ধা সূফী সম্রাট মাভৃভূমিকে মুক্ত করে, গেলো পীরের দরবারে 

একযুগ গোলামি শেষে দায়িত্ব পেলো সূফী সম্রাট মানবজাতিকে মুক্তি দিতে। 

সূফী সম্রাটের শিক্ষা নিলে, মুক্ত হবে সাড়ে তিন হাত মানব দেহ 

ষড়রিপুর বেড়াজাল থেকে। তাই বলি 

‘মাতৃভূমির জন্য যুদ্ধ করিয়া বিজয় যে অর্জন করিয়াছে সে বীর, 

যে নিজের সাথে যুদ্ধ করিয়া বিজয় অর্জন করিয়াছে সে শ্রেষ্ঠ বীর।’ 

হাসি মুখে দাও বিদায় যাবো আমি যুদ্ধে 

বাংলা মাকে মুক্ত করে আসবো ফিরে তোমাদের বুকে। 

মানি না তোমাদের ধর্ম

 নিরাকার আল্লা মাটির দেবতা ইশ্বর আমি বিশ্বাস করি না। 

নরক স্বর্গ দোজখ বেহেস্ত নিয়ে মগ্ন তোমরা। 

তুই বেহেস্তে যাবি তুই দোজখে যাবি তুই নরকবাসী তুই স্বর্গবাসী, 

হা হা, কে কোথায় যাবে! আমি মানুষ ছাড়া কিচ্ছু বুঝি না। 

তোমাদের ধর্ম আমি মানি না। 

তোমরা নাস্তিক কাফের ভণ্ড যা ইচ্ছে বলো, আমি এক খোদাতে বিশ্বাসী। 

আপনায় যিনি বিরাজমান, আমি তাহারি করি সন্ধান। 

যে ধর্মে নাই মানব প্রেম, আমি সে ধর্ম মানি না। 

বিশ্বাস করি না তোমাদের ধর্ম। 

আদমসুরাতে যিনি বিরাজমান খেলছে বিশ্ব লয়ে, 

আমি তাহার ধ্যান করি 

তাহাতে সঁপে দিয়েছি জ্ঞান ধ্যান মোর প্রাণ। 

আমি নামাজ আদায় করি দিল-কাবা ঘরে বসে, মসজিদ ঘরে নয়। 

যে ঘরে আমার প্রভু থাকেন, সে ঘরেই সেজদায় মগ্ন থাকি। 

আমি মাটির মূর্তিতে পূজা দেই না, মানুষ মূর্তিতে ভক্তি করি। 

মন্দির মসজিদ গির্জায় ইশ্বর খুঁজি না, আমি মানুষের মাঝে ইশ্বর দেখি। 

মোল্লাবাদী উগ্রবাদী যুগে যুগে খেয়েছে ধর্ম, মানুষকে করেছে ঘৃণা। 

আমি মানি না তোমাদের ধর্ম মানি না, যে ধর্মে নাই মানব প্রেম। 

আমি এক খোদাতে বিশ্বাসী, তাহারি সন্ধান করি আপনায়। 

নিরাকার আল্লা মাটির দেবতা ইশ্বর আমি বিশ্বাস করি না। 

হবে খুশি মাহবুব-এ-খোদা

 জানি জানি সবই জানি 

এই জানার নাই দাম, 

জানাটা যেমন প্রয়োজন 

মানাটাও হয় যে আপন। 

জানলে না মানলে পরে 

লাভ হবেনা মাটির ঘরে, 

জানি জানি সবই জানি 

এই জানার নাই দাম। 

কত কষ্ট গর্ভধারিণী মা করেছে 

জন্মদাতা পিতার গায়ের ঘাম ঝরেছে, 

সে বাবা মাকে ভুলে 

কার কপালে চুমু দিলে! 

পিতা মাতার ঠিকানা ক্যান বৃদ্ধাশ্রম? 

মুর্শিদ আমার দেওয়ানবাগী বলেন 

পিতার মাতার মনে কষ্ট দিলে, 

কেউ পাবে না আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় নবিকে। 

জানি জানি সবই জানি 

এই জানার নাই দাম, 

পিতা মাথা যাদের আছে বেঁচে করো সেবা 

হবে খুশি মাহবুব-এ-খোদা। 

জানি জানি সবই জানি, মানি না 

প্রকৃতঅর্থে তুমি কিছুই জানলে না, 

জানার মতো যদি জানতে 

জেনে তুমি মানুষ হতে। 

মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে 

সিজদা দিলে মসজিদ ঘরে, 

পাওয়া যায় না মাওলা। 

জানলে না মানলে পরে 

কিছুই না তুমি জানলে, 

জানি জানি সবই জানি 

এই জানার নাই দাম। 

ভালোবাসি সূফী সম্রাট

 ধর্মের নামে হানাহানি মারামারি কাটাকাটি যখন 

তুমি সত্যের করলে উন্মোচন মিথ্যে হলো দমন। 

ধর্মের কালো আঁধার গেলো সরে 

বিশ্বে মোহাম্মদী ইসলামের জয়, আশেকে রাসুল ঘরে ঘরে। 

বিশ্বে মোহাম্মদী প্রেমিক আজ তোমার কারণে 

থাকি যেনো জীবন মরণ সূফী সম্রাট তোমার চরণে। 

ভালোবাসি ভালোবাসি সূফী সম্রাট তোমায় 

ভালোবাসা ছাড়া আমার জীবনে আরকিছুই নাই। 

তুমি এলে এই ধরায় করলে ভুবন আলো 

তোমার পরশে ঘুচে গেলো আশেকে রাসুলদের হৃদয়ের যত কালো। 

ভালোবাসা ছাড়া আমার জীবনে আরকিছুই নাই 

ভালোবাসি ভালোবাসি সূফী সম্রাট তোমায়। 

ভালোবাসার বিনিময়ে পাই যেনো তোমারে 

তোমার শিক্ষা নিয়ে মানব চরিত্র মানুষ করি আমি আমারে। 

ভালোবাসি ভালোবাসি সূফী সম্রাট তোমায় 

তুমি ছাড়া আমি গোলামের জীবনে আরকিছুই নাহি চাই। 

চরণধুলি

 তোমার চরণধুলি নিয়ে হৃদয় করিবো পরিস্কার 

ভিক্ষা দাও হে দয়াল মুর্শিদ চরণধুলি তোমার। 

ষড়রিপু দমন করিয়া তোমার কাছে নাও 

তোমার চরণধুলি আমায় ভিক্ষা দাও। 

ষড়রিপুর বেড়াজালে বন্দি এই মানব দেহ 

ভিক্ষা দাও হে দয়াল মুর্শিদ তোমার চরণধুলি গো। 

মোর নয়নে মাখিবো তোমার চরণধুলি 

মোর নয়নজলে ধুইবো তোমার রাঙা দুচরণখানি, 

তবেই ভরিবে অধমের প্রাণ 

চরণধুলি দাও হে ভিক্ষা ওগো দয়াল মুর্শিদ মহান। 

তোমার চরণধুলি অমূল্য সম্পদ অধমের জীবনে 

ঐ রাঙা দুচরণের গোলাম হইতে কত পাপী কাঁদে ভুবনে। 

দাও হে ভিক্ষা দয়াল মুর্শিদ চরণধুলি তোমার 

অপরিস্কার হৃদয় পরিস্কার করিবো আমার। 

তোমার চরণধুলি অমূল্য সম্পদ অধমের জীবনে 

ঐ রাঙা দুচরণের গোলাম হইতে কত পাপী কাঁদে ভুবনে। 

মানব জাতি

 ইশ্বরকে পাইনি মসজিদ মন্দির গির্জায়। 

মানুষের মাঝে পেয়েছি, আমি মানুষ ভালোবেসে যাই। 

কখনো আমি পথশিশু, কখনো আমি অসহায়, 

কখনো আমার জন্ম হয়েছে ধনীর ঘর-খানায়। 

মরে গিয়ে আমি বারবার ফিরে এসেছি এই মানুষের মাঝে। 

আমি ধনীর ঘরে যখন ছিলাম দেখেছিলাম তখন 

কিভাবে ধনী আহার অপচয় করে, আমি পথশিশু যখন ছিলাম 

জাত-ধর্ম ভুলে পঁচা-বাসি খাবার খেয়ে বেঁচে ছিলাম। 

শুনেছি ‘পশুর ঘরে পশুর জন্ম হয়, মানুষের ঘরে মানুষ নয় 

মানুষকে নাকি মানুষ হতে হয়। 

আমি মানুষ হতে মানুষের মাঝে আসি, মানুষ ভালোবাসি। 

মানুষ করে নিন্দা মানুষ করে হিংসা, পাই লজ্জা ব্যথায় কাঁদি। 

সব অহংকার হবে একদিন ধ্বংস, আযান বিহীন নামাজের মধ্য দিয়ে গো, 

কিভাবে আমি বাঁচি! বিশ্বাস করো হে মানব জাতি, 

ইশ্বরকে পাইনি আমি মসজিদ মন্দির গির্জায়। 

মানুষের মাঝে পেয়েছি, আমি মানুষ ভালোবাসি। 

নিজের সঙ্গে অধম যখন কথা বলি

 ১. 

অধম মৃত্যু কি? 

দেহের সাথে রুহের বিচ্ছেদ। 


২. 

মানুষকে জ্ঞান দেয়ার জন্য নয়, আমার জন্ম 

মানুষের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করার জন্য। 


৩. 

আবার যদি আসিস অধম এই দুনিয়ায় 

মানুষ তুই ভালোবাসিস ভাই, 

দুঃখ দিয়েছে ঘৃণা করেছে কি হয়েছে তাতে? 

সবাই কি আর জানে এই মানুষে ইশ্বর থাকে। 


৪. 

সারাজীবন রূপের নিলি যত্ন 

আপন মাঝে আছে রত্ন, 

তার খবর নিয়েছিস কি অধম? 

দমে দমে শেষ হচ্ছে তোর সাধের মানবজনম। 


৫. 

আমি অধম দুধের শিশু 

জ্ঞান শক্তি নাই কিছু 

ঘুরি জ্ঞানীর পিছু পিছু 

যদি কর্মফলে ভাগ্যে মিলে 

জ্ঞানের পরশ আপন মাঝে। 


৬. 

আমি জ্ঞানী নই 

আমি পণ্ডিতও নই 

আমি অধম হই। 


৭. 

সুখ দুঃখ যার কাছে সমান সে শুদ্ধ পুরুষ, কেন কাঁদিস মন? 

সুস্থ আছিস ভালো আছিস মনে রাখিস অধম। 


৮. 

কাঁধেতে ঝুলিয়ে ব্যাগ গায়েতে পাঞ্জাবি 

রাখিলে লম্বা চুল আর দাড়ি 

তাতে কি অধম তুই কবি হবি? 

কাগজে কলম ঘষিলে হয় কি কবিতা 

যদি না হৃদয় থেকে বের হয় শব্দ কথা। 


 

৯. 

সমালোচনা করার মানুষ পৃথিবীতে অভাব নাই 

অধম তুই নিজের প্রশংসা নিজেই করিস ভাই, 

লেজ ছাড়া কুকুরগুলো ঘুরে এই শহরে 

সুযোগ পেলে খেয়ে দেয় মেধা, মাংস খায় যেমন করে। 


১০. 

কোনকিছুর আশা অধম তুই করিস না 

তোর আছে যতটুকু এই মানুষকে দিয়ে যা, 

যদি ওরা মানুষ হয় বলবে তোর কথা 

নয়তো থাকবি তুই তোর মতো করে একা, 

মৃত্যু তোর হবে অধম একদিন 

সে কথা ভেবে পথ চলিস, তুই করিস না কখনো ঋণ। 

শান্তির মূল, আলোর প্রদীপ

 শান্তির মূলকে ছাড়িয়া, শান্তি খুঁজিয়া বেড়ায় মানুষ 

শান্তি খুঁজিয়া পায় না। শান্তির দূত বাবে রহমতে 

সেথায় মানুষ যাও। 

শান্তির বাণী শুনিবে তাহার মুখে 

নূরের রূপ দেখিবে তুমি দুচোখে, 

সেথায় শান্তি পাইবে 

অশান্তি জনমের লাগিয়া ভুলিবে। 

শান্তির ঠিকানা বাবে রহমত 

সেথায় থাকে সূফী সম্রাট হযরত। 

তাহার কাছে গেলে, তাহারে দেখিলে, 

তাহার শিক্ষা নিলে, রইবে না তোমার দুঃখ চিন্তা ডর, 

শান্তির ঠিকানা বাবে রহমত। 

সেথায় নাই লোভ লালসা হিংসা বিদ্বেষ 

মানে সবাই সূফী সম্রাটের আদেশ, 

ঘুচে দেয় মনের কালি, হৃদয়ে আল্লা আল্লা জপি। 

আশেকে রাসুলদের প্রেমের বাগান 

চলে সেথায় মোহাম্মদী আইন। 

শান্তির ঠিকানা বাবে রহমত 

সেথায় থাকে সূফী সম্রাট হযরত। 

-২ 

আলো আলো করে মানুষ আলো খুঁজিয়া পায় না 

আলোর প্রদীপ বাবে রহমতে সেথায় মানুষ যাও। 

আলোর প্রদীপের কাছে না গেলে আলো পাওয়া যায় না, 

করিলে আলোর খোঁজ পাবে তুমি আলোর ঠিকানা। 

পেয়েছে যারা সূফী সম্রাটের খোঁজ, সূফী সম্রাটকে ছাড়ে না 

আমার মুর্শিদ দেওয়ানবাগীকে ভুলে না। 

আলোর মূলকে ছাড়িয়া মানুষ আলো খুঁজিয়া পায় না 

আলোর প্রদীপ বাবে রহমতে সেথায় মানুষ যাও। 

হেরাগুহার আলোর শিক্ষা দিচ্ছে মাহবুব-এ-খোদা, 

পেয়েছে যারা সূফী সম্রাটকে জীবন থাকতে ভুলে না। 

শান্তির মূল, আলোর প্রদীপ 

বাবা দেওয়ানবাগী আমার মুর্শিদ। 

ধ্যানের ছবি এসেছে

 গরিব ধনীর ভেদাভেদ ভুলে

ইদে মিলাদুন্নবির আনন্দ ভাগ করে নেই সকলে মিলে।

খেয়ে মিষ্টি কেক কোরমা পোলাও

দুঃখ কষ্ট ভুলে গিয়ে আনন্দে সবাই আজ মন রাঙাও।

এসেছে এসেছে আজ দিনের নবি

আশেকে রাসুলের ধ্যানের ছবি।

নূর নবির শুভ জন্মদিনে

খুশি হলে মুক্তি মিলে।

হিংসা বিদ্বেষ ছেড়ে দিয়ে

হৃদয়ে ধারণ করো নূর নবিকে।

নূর নবি আমার পারের কান্ডার

তাকে ভালোবাসা বিহীন মুক্তি নেই কারোর আর।

অধম ক্যান উত্তম হয় না

 নিজের খেয়ে অন্যের ব্যাপারে নাকগলাও 

অধম ক্যান উত্তম হয় না জানতে তোমরা চাও, 

আরে তোমরা চাও ডাক্তার হতে, তোমরা চাও ইঞ্জিনিয়ার হতে 

তোমরা চাও সেলিব্রেটি হতে, কতকিছু হতে চাও 

আর আমি চাই মানুষ হতে, তাই মনকে বলি মানুষের কাছে যাও। 

যে বয়সে তোমরা খেলতে মাঠে যেতে স্কুলে 

সে বয়সে আমি সংসারের দায়িত্ব নিয়েছি কাঁধে, 

দশবছর বয়স থেকে লড়েছি জীবন যুদ্ধে 

জীবনের অনেক গল্প কবিতা দেখেছি দুচোখে, 

তাই পাঠ্যপুস্তকের গল্প কবিতা আমি পড়ি নাই 

মূর্খ সূর্খ মানুষ বাপু বিদ্যা-শিক্ষা নাই 

যতটুকু দ্যাখো, শিখিয়েছে আমার মুর্শিদ সাঁই। 

এমপি, মন্ত্রী, ধনী হওয়ার ইচ্ছা আমার নাই 

ছোটবেলা থেকেই মানুষ হওয়ার ইচ্ছা খুব ভাই, 

কারো মাথায় দেই না তেল, নিজের ঢোল নিজে বাজাই 

ঘাম-ঝরানো আয়ের টাকা দিয়ে ডাল ভাত কিনে খাই। 

যতদিন পিতা মাতা আছে বেঁচে 

সেবা তাদের করে যাবো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত যে। 

নামে নয়, মানুষের পরিচয় কর্মে হয় 

অধম নামেই আমার পরিচয়। 

লেখালেখি করি ভালোবাসি তাই 

এছাড়া অধমের জীবনে দ্বিতীয় কিছু নাই। 

ইচ্ছা আজও নাই গাড়িবাড়ি টাকাওয়ালা হতে চাই না ভাই 

ক্ষমা দোয়া আর ভালোবাসা তোমাদের কাছে চাই, 

যদি মনে চায় দিও তোমরা আমায় হাসি মুখে শেষ বিদায়। 

ও প্রাণের সাঁই ডাক আসবে যেদিন যাবো তোমার দ্বারে 

যেমন আসছি তেমনই নিও তোমার পবিত্র ঘরে, 

তোমার আমানত তুমি নিবা, আমি কে! 

আমি অধম কিছুই নাই পাপীর ভবে, 

মায়ার নদীতে মানব তরী ডুবাও না সাঁই, মানুষ হয়ে মরতে চাই। 

রহম করো

 মালিক তুমি রহম করো হে পরওয়ার 

লোভ লালসায় ধ্বংস হচ্ছে চরিত্র আমার। 

দয়াল তুমি দয়ার সাগর আমি ভিখারি 

দয়া করে দিও ভিক্ষা তোমার নূরের চরণখানি, 

পেলে ধন্য হবে অধম তোমার চরণধুলি। 

মালিক তুমি রহম করো হে পরওয়ার 

লোভ লালসায় ধ্বংস হচ্ছে চরিত্র আমার। 

লোভ যেন থাকে দয়াল তোমার প্রতি 

হতে চাই না আমি দুনিয়ার মতি, 

যে মতি নিয়ে যাবে অন্ধকারে আমায়। 

পেলে ধন্য হবে অধম তোমার চরণধুলি 

দয়া করে দিও ভিক্ষা তোমার নূরের চরণখানি, 

দয়াল তুমি দয়ার সাগর আমি ভিখারি। 

মালিক তুমি রহম করো হে পরওয়ার 

লোভ লালসায় ধ্বংস হচ্ছে চরিত্র আমার। 

শপথ নিবি

 মন মানুষ হইবি তুই মানুষ হইবি 

মরার আগে একবার মরবি। 

লেবাস পরে লেবাসের নিচে 

অমানুষগুলো হিংসা পুষে, 

ওদের সঙ্গ নাহি ধরবি 

মন তুই মানুষ হইবি। 

কুরআন পড়ে ইল্লাল্লাহু নাম জপলে 

লোক দেখানো নামাজ কায়েম করলে, 

তুই কী আল্লাহকে পাইবি? 

আগে তুই মানুষ হইবি। 

মন মোহাম্মদী প্রেম হৃদয়ে ধারণ করবি 

আলোকিত মানুষের সান্নিধ্যে রইবি, 

মন তুই আলোকিত মানুষ হইবি। 

হযরত দয়াল পীর আম্মাজানের বাণী 

‘জানতে জানতে জানোয়ার হয়ো না 

মানতে মানতে মানুষ হও।’ 

মন তুই আলোকিত মানুষ হইবি, 

মন তুই জ্ঞানী হইবি। 

কতশত মা বোন হচ্ছে ধর্ষণ নির্যাতনের শিকার 

নাম না জানা কত নারীর ঘটে মৃত্যু, 

আর যেন না হয় মৃত্যু, ধর্ষণ নির্যাতন 

তুই আজ শপথ নিবি। 

চরিত্রটাকে মানুষ করবি, মন তুই মানুষ হইবি। 

অমানুষগুলিরে মানুষ করবি, 

সুন্দর একটা সমাজ গড়বি, 

আমার সোনার বাংলাকে ভালোবাসবি। 

দাস বলে ডাকলেই ধন্য অধমে

 তোমার কথা আমি শুনেছি 

শুনেছি আমি তোমার কথা 

তোমার কথা আমি ভেবেছি 

ভেবেছি আমি তোমার কথা, 

তোমার পথে আমি পথ চলতে চেয়েছি 

চেয়েছি তোমার পথে পথ চলতে 

আমি মুক্তি চাইনি, চাইনি মুক্তি 

চেয়েছি ভক্তি চেয়েছি সাহস শক্তি, দাও ভক্তি 

দাও তোমার নূরের চরণ চুমিতে 

খোদার মাহবুব তুমি যে। 

কত কবি তোমায় নিয়ে লিখে কবিতা 

শিল্পী গায় গান 

আমি কিছুই লিখতে পারিনি তোমায় নিয়ে 

গাইতে পারিনি তোমার শান ও মান, 

শুধুই চেয়েছি তোমায় মহান। 

আমি আর কিছুই চাইনা গো 

শুধুই চাই তোমার নূরের চরণ, 

তোমার নূরের চরণ চুমিতে চুমিতে 

হয় যেন আমার মরণ। 

ওগো দয়াল কেউ আমায় সাহেব বলুক 

সে কথা শোনার ইচ্ছে আমার নেই, 

তুমি তোমার দাস বলে ডাকলেই ধন্য অধমে। 

শুধুই চেয়েছি আমি তোমায় 

বহুবার, বহুকাল, বহুজনম 

দিও প্রেম ভক্তি, তোমার দয়া ভিক্ষা আমায় 

তোমার নূরের চরণ চুমিতে চুমিতে 

হয় যেন মরণ আমার। 

সে আমার বেহেস্ত

 যেখানে না চাইতে আমি অনেক কিছইু পাই, 

সে আমার এমন এক বেহেস্ত 

খোদার বেহেস্তেও এত সুখ নাই। 

যেখানে মাথা রেখে পাই সব সুখ 

ঘুচে দেয় মনের যত দুখ। 

সে আমার বেহেস্ত, 

আমার সব খবর তাঁর জানা 

আমি মিথ্যে বললেও সে বলে না। 

আমার ভালো চায় 

আমার কষ্ট সহ্য করতে পারে না, 

আমি অসুস্থ হলে 

সে ব্যস্ত হয়ে ওঠে আমার সেবায়, 

খোদার দরবারে করে র্প্রাথণা। 

সে আমার বেহেস্ত, 

এমন এক বেহেস্ত 

সে আমার র্গভধারণিী মা। 

শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪

এই হৃদয় জুড়ে

 যতই আসুক দুঃখ আঘাত 

তবু মন করিস না তুই প্রতিবাদ 

আমি ঐ চরণে রেখে মাথা 

বলবো আমার মনের কথা 

ঘুচে যাবে সকল দুঃখ ব্যথা, 

আমি কী দেখেছি ঐ রূপে 

বলবো মন কেমন করে 

দেখলে মন তুইও ওরে 

হইবি তাঁর দাস, 

তবু মন করিস না তুই প্রতিবাদ। 

আমি কী ভাবে তারে বলবো 

কোন ভাষায় তারে ডাকবো 

যদি সে দয়া করে আসে মোর হৃদয় ঘরে 

দেখবে তাঁর বসবাস, 

আমি পাপী যে তাঁর প্রেমের কাঙ্গাল 

হইতে চরণদাস কাঁদি গোলাম 

দিতে পারি তাঁর জন্য এই জীবনখানি 

তাঁর দয়াতেই আমি পাপী বাঁচি, 

যতই আসুক দুঃখ আঘাত 

তবু মন করিস না তুই প্রতিবাদ। 

বলবো মন কেমন করে 

তারে রেখেছি এই হৃদয় জুড়ে। 

বাস্তবজীবনে পাবে শান্তি

 খোদার মাহবুব তুমি হে, আশেকে রাসুলের প্রাণ 

তোমার পরশে আল্লা আল্লা জিকির হয় ক্বলবে, গাই রাসুলের শান। 

রাসুলকে ভালো না বেসে, যে যত বড়ই সাজুক ঈমানদার নাই তার ঈমান 

বলে পবিত্র আল- কুরআন। 

খোদার মাহবুব তুমি হে, তুমি যে মহান। 

তোমার শিক্ষায় রাসুল প্রেমিক আজ এই বাংলাতে, 

তোমার আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করে 

আশেকে রাসুলগণেরা শান্তির পতাকা উড়ায় বিশ্ব জুড়ে। 

তুমি খোদার মাহবুব, তুমিই শ্রেষ্ঠ যে। 

-২ 

ধর্মের স্বাদ গন্ধ বাস্তবজীবনে পেতে যদি চাও 

মোহাম্মদী ইসলামের পতাকা তলে যাও। 

সূফী সম্রাটের শিক্ষা নিয়ে করো ধর্ম পালন 

বাস্তবজীবনে পাবে শান্তি, পাবে আল্লাহ ও রাসুলের রূপ দর্শন। 

অভাব ঘুচবে, স্বভাব হবে সুন্দর 

মানব কল্যাণে অতিবাহিত হবে তোমার জীবন। 

ও ভাই, হবে তুমি আশেকে রাসুল 

এটাই বাবা দেওয়ানবাগীর শিক্ষা, করো তাঁর আদেশ পালন 

পাবে তুমি আল্লাহ ও রাসুলের রূপ দর্শন। 

সূফী সম্রাটের শিক্ষা নিয়ে করো ধর্ম পালন 

বাস্তবজীবনে পাবে শান্তি সুন্দর হবে তোমার জীবন। 

এই দেহ খাইছে ঘুণে

 এই দেহ খাইছে ঘুণে আপন কর্ম দোষে 

দেখিয়া আপন কর্ম ষড়রিপু হাসে। 

ধরি নাই মুর্শিদের চরণ করি নাই সাধন 

মিছে মায়ায় ছিলাম আমি মজে পাপী মন। 

হইলাম আমি দোষী আপন কর্ম দোষে 

দেখিয়া আপন কর্ম ষড়রিপু হাসে। 

পার ঘাটেতে গিয়া কান্দি আমি এখন 

আমার আমানত আমায় দাও তোমায় দিছি যে ধন। 

মুর্শিদ বিহীন এই ধন যায় না রাখা মন 

যার আছে আপন মুর্শিদ ধন্য তার জীবন। 

ধইরা রাখিও তুমি মুর্শিদের রাঙা চরণ 

মুর্শিদ তোমার আপন বন্ধু যেদিন আসবে মরণ। 

পার ঘাটেতে মায়ার নদীতে মুর্শিদ হইয়া মাঝি 

পার কইরা নিবে অধমের ভাঙা তরী। 

থাকতে সময় ওরে মন ধরো মুর্শিদের দুচরণ 

মুর্শিদ তোমার আপন বন্ধু যেদিন আসবে মরণ। 

এই দেহ খাইছে ঘুণে আপন কর্ম দোষে 

দেখিয়া আপন কর্ম ষড়রিপু হাসে। 

ধন্য বাবা আমরা

 আমি অধম ধ্বংস হয়ে যেতাম 

দেওয়ানবাগীর নূরের কদম যদি না পেতাম, 

ভালোবাসা কি নাহি জানিতাম 

দেওয়ানবাগীর শিক্ষা নিয়ে তা জানিলাম। 

আমি অধম ধ্বংস হয়ে যেতাম 

দেওয়ানবাগীর নূরের কদম যদি না পেতাম, 

আল্লাহ পেলাম রাসুল পেলাম 

দেওয়ানবাগীর গোলামি করে পশু থেকে মানুষ হলাম। 

মুর্শিদ বাবা দেওয়ানবাগী মানুষ গড়ার কারিগর 

শক্ত করে আশেক তাঁর নূরের কদম ধর, 

দমন করে লোভ লালসা হিংসা বিদ্বেষ 

মোরাকাবায় খুঁজে লও তোমার আপন দেশ। 

ধন্য বাবা আমরা আপনার শুভ জন্ম এই বাংলায় 

থাকি যেন জীবনভর আপনার নূরের চরণ তলায়। 

আমি অধম ধ্বংস হয়ে যেতাম 

আপনার নূরের কদম যদি না পেতাম। 

দয়াল তুমি দয়ার সাগর

 আমি ভেবে না পাই উপায় 

তুমি বিনে মোর তরী ডুইবা যায়, 

আমি ছিলাম মাওলার কাছে 

মাওলা ভালোবেসে পাঠায় মায়ের কোলে 

হেসে খেলে কেটে গেলো আমার কত বেলা। 

আমি ভেবে না পাই উপায় 

তুমি বিনে মোর তরী ডুইবা যায়, 

নিঃশ্বাস দিলা, বিশ্বাস দিলা, দিলা ভালোবাসা 

কারে ভালো বাসবো বলে 

মন কারে ভালো বাসলা? 

আমি ভেবে না পাই উপায় 

তুমি বিনে মোর তরী ডুইবা যায়, 

দয়াল তুমি দয়ার সাগর আমি গুনাহগার 

পাপীকে চিরকাল রাখিও চরণে তোমার। 

শুনেছি মহিমা বড় 

আমায় তুমি উদ্ধার করো 

ডুবছি পাপের নদীতে, 

হে পরওয়ার আমি গুনাহগার 

দয়াল তুমি দয়ার সাগর ক্ষমা করো আমায়। 

আমি ভেবে না পাই উপায় 

তুমি বিনে মোর তরী ডুইবা যায়, 

দয়াল তুমি বিনে মোর আর কেহ নাই 

ক্ষমা করো আমায়, 

ডুবছি পাপের নদীতে আমি বড়ই অসহায়। 

বিলীন

 আমার মাঝে স্বর্গ 

আমার মাঝে নরক, 

আমার মাঝে বিশ্ব জগৎ। 

আমারে আমি ধ্বংস করি 

আমারে আমি গড়ি! 

আমার আমিকে স্রষ্টার চরণে 

বিলীন করিয়া 

স্রষ্টারে আমার করি। 

আমারে আমি ধ্বংস করি 

আমারে আমি গড়ি! 

আমার মাঝে স্বর্গ 

আমার মাঝে নরক, 

আমার মাঝে বিশ্ব জগৎ। 

আমার আমি বলতে 

নাই আমার কিছু 

সবই স্রষ্টার 

আমি ছোট্ট একটা শিশু। 

আমার আমিকে স্রষ্টার চরণে 

বিলীন করিয়া 

স্রষ্টারে আমার করি। 

আমি শান্তি, 

আমি অশান্তি, 

আমি পাপী, 

আমারে আমি পুড়াইয়া মারি 

আমার আমিকে ধ্বংস করিয়া 

আমারে আমি গড়ি! 

আমি স্বর্গ, আমি নরক, 

আমার মাঝে বিশ্ব জগৎ। 

সত্যিই আমি ভাগ্যবান

 তোমার মতো দয়াল মুর্শিদ পাপীর জীবনে 

এসেছিলো বলেই আঁধারে আলোর খোঁজ পেয়েছি, 

নয়তো এই মানব জনম হারিয়ে যেতো 

চাঁদ যেমন হারিয়ে যায় মেঘের আড়ালে, 

সত্যিই আমি হারিয়ে যেতাম 

যেমন ভাবে ঝরে যায় গাছের পাতা, 

তোমার মতো দয়াল মুর্শিদ পাপীর জীবনে 

এসেছিলো বলেই আঁধারে আলোর খোঁজ পেয়েছি। 

সত্যিই আমি ভাগ্যবান 

তোমার জন্য পেয়েছি বেঁচে থাকার প্রাণ। 

দয়াল মুর্শিদ তোমার নূরের কদম ধরে 

হারিয়ে যেতে চাই আমি অনেক দূরে, 

যে পথের শেষ নেই যে সাগরের সীমানা নেই 

দয়া করে নূরের কদম ভিক্ষা দিও আমায় 

হারিয়ে যেতে চাই নূর কদমের ধুলিকণা হয়ে 

ভালোবাসি তোমায়। 

তুমি এসেছিলে বলেই পেয়েছি বেঁচে থাকার প্রাণ 

ভয়ে থাকি ছেড়ে যেওনা আমায় মহান। 

দয়াল মুর্শিদ তোমার নূরের কদম ধরে 

হারিয়ে যেতে চাই আমি অনেক দূরে, 

তোমার নূরের হাত মোবারক ছুঁয়ে দিও 

আমার মরণকালে। 

আমি পাপী তোমার দয়া ছাড়া বাঁচবো না, 

তোমার মতো দয়াল মুর্শিদ পাপীর জীবনে 

এসেছিলো বলেই আঁধারে আলোর খোঁজ পেয়েছি। 

মনের পাখি

 মনের যত কথা আছে 

খুইলা কয় দয়ালের কাছে, 

মনের পাখি উইড়া যা তুই 

বাবে রহমতে, 

ধইরা তাঁর চরণখানি 

খুইলা কয় তোর মনের কথা শুনি, 

মনের পাখি উইড়া যা তুই 

বাবে রহমতে। 

দুঃখ থাকবে 

থাকবে রে মন হাসিকান্না, 

দুঃখ ছাড়া এই জীবন 

সুন্দর হয় না, 

ধইরা তাঁর চরণখানি 

খুইলা কয় তোর মনের কথা শুনি, 

মনের পাখি উইড়া যা তুই 

বাবে রহমতে। 

আসবে রে সুখ 

আসবে রে মন কতকিছু 

ছুটিস না তুই মরীচিকার পিছু, 

ধইরা তাঁর চরণখানি 

খুইলা কয় তোর মনের কথা শুনি, 

মনের পাখি উইড়া যা তুই 

বাবে রহমতে। 

মনের যত কথা আছে 

খুইলা কয় দয়ালের কাছে, 

দিবে ঘুচে তোর মনের ব্যথা 

পাবি তুই আপনার দেখা, 

মনের পাখি উইড়া যা তুই 

বাবে রহমতে। 

তুমি ছিলে তুমি আছো

 সুরের ছন্দে মনের আনন্দে লিখেছি আমি গান 

এই গানেরি প্রতিটি ছন্দে শুধু তোমার নাম। 

তোমার প্রেমে আমি লিখেছি এই গান 

সঁপে দিয়েছি তোমার চরণে অধমের প্রাণ। 

তুমি ছিলে তুমি আছো 

দয়াল হয়ে হৃদয়ে ভাসো। 

সুরের ছন্দে মনের আনন্দে লিখেছি আমি গান 

এই গানেরি প্রতিটি ছন্দে শুধু তোমার নাম। 

তুমি ছিলে তুমি আছো

তুমিই যে অধমের প্রাণ হৃদয়ে থাকো। 

ও মুসলিম ভাই

 ও মুসলিম ভাই, 

আকাশে চাঁদ হাসে হৃদয় আনন্দে ভাসে 

হাসছে ধনী যাচ্ছে হাটে 

প্রিয় বস্তু কিনতে মাঠে 

ইদ এসেছে কোরবানির ইদ এসেছে। 

ও মুসলিম ভাই, 

ইব্রাহিম নবি বলেন ইসমাইল 

স্বপ্নে দেখেছি পুত্র তোমায় জবেহ করছি, 

শুনে কথা বলে হে পিতা, 

মাওলা যা আদেশ করেছে তা আপনি করুন 

আমাকে পাবেন ধৈর্যশীল, 

পাবেন ধৈর্যশীল। 

দুজনেই যখন অনুগত 

নোয়াইলো মাথা ইসমাইল 

কাত করে শোয়াইয়া দিলো পিতা ইব্রাহিম, 

মাওলা হইলো খুশি, স্মরণীয় হইলো দিন। 

ও মুসলিম ভাই, 

কোনো ব্যক্তির নামে নহে 

ব্যক্তির পক্ষথেকে মাওলার নামে, 

পশু মরণে মাওলারও চরণে 

দিতে হবে কোরবানি আনন্দে আনন্দে। 

ও মুসলিম ভাই, 

মনের পশুকে করিয়া কোরবানি 

মাওলার প্রেমে রঙিন হও তুমি, 

অসৎ উপার্জনে নহে কোরবানি 

মাওলা হবেন খুশি 

সৎ উপার্জনে দিলে তুমি। 

ও মুসলিম ভাই, 

কেউ করিবে ত্যাগ, কেউ ভরিবে ব্যাগ। 

ভুলিয়া গরিব-ধনীর ভেদাভেদ 

সকলে হও এক 

ইদেরও আনন্দে মনেরও আনন্দে। 

শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৪

শুকরিয়া

 ভালো আছি সুস্থ আছি 

আলহামদুলিল্লাহ্। 

কত মানুষ কত কষ্টে, ক্ষুধায় কাঁদে 

মেডিকেলে শুয়ে তোমাকে ডাকে। 

ভালো আছি সুস্থ আছি 

শুকরিয়া আদায় করি তোমার পবিত্র দরবারে। 

ভালো রাখো তুমি সবাইকে 

ক্ষমা করো প্রভু, তাকাও দয়ার নজরে। 

তুমি রহিম তুমি রহমান 

দুঃখীর দুঃখ ঘুচে দিও, তুমি মান করো দান, 

তুমি নিতে পারো তুমি দিতে পারো 

তুমিই সর্বশক্তিমান। 

তুমি মহান 

প্রভু তুমি মহান, 

ভালো আছি সুস্থ আছি তোমার দান। 

আইলাম আর গেলাম

 আইলাম আর গেলাম 

দয়াল তোমারে না পাইলাম, 

তোমারে না চিনলাম 

দয়াল তোমারে না পাইলাম। 

পানি বিনে বৃক্ষ কাঁদে 

না পাইয়া পাশে 

ঝরা পাতা ঝইরা যায় 

আপন কর্ম দোষে, 

তোমারে না চিনলাম 

দয়াল তোমারে না পাইলাম। 

ওগো বাবা সূফী সম্রাট 

তোমার নূরের কদম ধরি, 

পার কইরা দাও 

অধমের ভাঙা তরী, 

তোমারে না চিনলাম 

দয়াল তোমারে না পাইলাম। 

অধমের মৃত্যু দয়াল 

কইরো তুমি বরণ, 

দিয়া দেখা তোমার 

নূরের রূপ দর্শন, 

তোমারে না চিনলাম 

দয়াল তোমারে না পাইলাম। 

লাইলাতুল ক্বদর

 পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম রাতে 

চাঁদ উঠে হেসে, 

তারা জ্বলে ঝিল মিল 

দেখ ঐ হে মুসলিম। 

বিশ্বনবির সাধনা 

পূর্ণ করল মাওলা, 

শান্তির বিধান হলো নাজিল 

পবিত্র আল- কুরআন। 

বিশ্বনবির হৃদয় হতে 

শান্তির বাণী ছড়ালো যে 

মানব জাতির হৃদয়ে, 

পাবে মুক্তি দোজখ হতে 

লাইলাতুল ক্বদর রাতে। 

পবিত্র আল- কুরআনের জয় ধ্বনি 

মধুময় শান্তির বাণী, 

হোক নছিব সকলের হৃদয়ে 

মোহাম্মদী প্রেমে, 

মোহাম্মদী প্রেমে। 

মাটির তৈরি ফুল

 ওগো আমার আত্মার বন্ধু 

প্রেমের সাধ হৃদয়ে জাগে, 

হৃদয় আমায় কেঁদে বলে 

বন্দি আমি ষড়রিপুরজালে, 

তোমায় নিয়ে লেখা কবিতাগুলো আমায় পুড়িয়ে খায়। 

ফুলের সুবাস যতদিন থাকে ঘ্রাণ নেয় সবাই 

সুবাস ফুরিয়ে গেলে দেয় ছুড়ে ফেলে, তাই মনে লাগে ভয় 

মানুষ ফুলের মতোই পবিত্র, পবিত্র তার অন্তর। 

ওগো আমার আত্মার বন্ধু 

প্রেমের সাধ হৃদয়ে জাগে, 

এক পা এগোলে দু পা হই পিছু 

কাঁদে প্রাণ ভয়ে, 

তোমায় নিয়ে লেখা কবিতাগুলো আমায় পুড়িয়ে খায়। 

ওগো আমার আত্মার বন্ধু, 

তুমি ভাবনায় থাকো তোমাকে কল্পনায় আঁকি 

হৃদয় আমায় কেঁদে বলে শুভঙ্করের ফাঁকি। 

মাটির তৈরি ফুল ধাপেধাপে করি ভুল 

ভুলগুলো ক্ষমা করে দেবে কি চরণধুল, 

নাকি কর্মদোষে দেবে ছুড়ে ফেলে সুবাস ফুরিয়ে গেলে? 

ওগো আমার আত্মার বন্ধু, 

হৃদয়ে জাগে প্রেমের সাধ 

বানাও চরিত্রে প্রেমিক তোমার, 

হৃদয় আমায় কেঁদে বলে 

বন্দি আমি ষড়রিপুরজালে। 

হে নূরে আহম্মদ

 হে নূরে আহম্মদ, 

তুমি নূরে মোহাম্মদ, 

জগতও সৃষ্টি তোমার নূরে 

তুমি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। 

হে নূরে আহম্মদ অনাদিকাল হতে 

মানবজাতির শান্তির দূত হয়ে, 

আসো তুমি যুগে যুগে 

মোহাম্মদী নূর নিয়ে, 

তুমি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। 

হে নূরে আহম্মদ, 

আবারও হলো তোমার নূরের উদয় 

বাবে রহমতে, 

এলে তুমি আরব হতে 

মাহাবুব-এ-খোদা নামে 

সবুজ শ্যামল বাংলার বুকে। 

হে নূরে আহম্মদ, 

তুমি নূরে মোহাম্মদ, 

তুমিই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। 

সত্য সুপথে

 সত্য সুপথে চলরে আমার মন 

সত্য সুপথ না চিনলে ঘটবে অঘটন 

সত্য সুপথ না চিনলে ঘটবে দূর্ঘটন। 

সবাই ওরে মুখোশ পরা 

আসলে কে যে মরা! 

জিন্দা লোকে কভু বুঝেনা 

প্রেমের মূল কারণ, 

সত্য সুপথে চলরে আমার মন। 

কেহ বলে টাকা টাকা 

কেহ বলে আল্লা আল্লা, 

কেহ বলে ধুর বাবা 

ছাইড়া দে মইরা যাইগা। 

আসলে কে যে মরা! 

সবাই ওরে মুখোশ পরা, 

সত্য সুপথ না চিনলে ঘটবে দূর্ঘটন 

সত্য সুপথ না চিনলে ঘটবে অঘটন 

সত্য সুপথে চলরে আমার মন। 

কারো মুখে ভালোবাসা-বাসি 

কারো গলায় দেখি ফাঁসি, 

কেহ কাঁদে কেহ হাসে 

মিছে দুনিয়ায় রঙমহল রাশি রাশি। 

সত্য সুপথে চলরে আমার মন 

সত্য সুপথ না চিনলে ঘটবে অঘটন 

সত্য সুপথ না চিনলে ঘটবে দূর্ঘটন। 

সূফীগণ প্রকৃত জ্ঞানী

 বড় বড় কথায় পণ্ডিত হওয়া যায় 

জ্ঞানী হওয়া যায় না, মানুষ হওয়া যায় না। 

সূফীগণ প্রকৃত জ্ঞানী, 

তাঁরা আল্লাহ পেয়েছে রাসুল পেয়েছে। 

খোদার জ্ঞানে জ্ঞানী, 

দয়াল রাসুলের চরিত্রে চরিত্রবান হয়েছে। 

সূফীগণদের শিক্ষা নিলে মানুষ হওয়া যায় 

জ্ঞানী হওয়া যায়। 

পূর্বের যত ইতিহাস আছে খুঁজে দেখো তোমরা, 

কোনো সূফী সন্ত্রাসী নয় জঙ্গীবাদ নয়। 

দাড়ি টুপি লম্বা জুব্বা থাকলেই কী মানুষ হয়, 

চরিত্র যদি পশু রয় তারে কী মানুষ কয়? 

মন তোমরা জানো না সূফীগণ প্রকৃত মানুষ 

তাঁরা মানুষ বাঁচায়, মানুষের জন্য কাঁদে 

মানুষের কষ্ট সহ্য করতে পারে না, 

তাঁরা কখনো মানুষ মারে না। 

বড় বড় কথায় পণ্ডিত হওয়া যায় 

জ্ঞানী হওয়া যায় না, মানুষ হওয়া যায় না। 

শুনিলে নবি তোমার নাম

 বিশ্বনবি তোমার জন্মদিনে আনন্দিত 

সৃষ্টি জগত দোজাহান 

আনন্দিত হয়না শুধু মুনাফিক বেঈমান। 

শুনিলে নবি তোমার নাম 

মানব যন্ত্রণা ভুলিয়া 

হৃদয়ে গায় প্রভুর গান, 

গায়না শুধু ইয়াজিদের দলেরা 

তোমার শান ও মান। 

সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী এই জগতে এলো 

১৪শো বছর পরে এই বাংলায় আশেকে রাসুল তৈরি হলো, 

তিনিই তো বিশ্বনবিকে ভালোবাসতে শিখালো। 

জয় মোহাম্মদী ইসলামের জয়, বিশ্বময়। 

বিশ্বনবি তুমি সকল সৃষ্টির মূল 

তোমার নামের প্রেমে ব্যাকুল হয়েছি আজ আশেকে রাসুল। 

বিশ্বনবি তোমার জন্মদিনে আনন্দিত 

সৃষ্টি জগত দোজাহান 

আনন্দিত হয়না শুধু মুনাফিক বেঈমান। 

শুনিলে নবি তোমার নাম 

মানব যন্ত্রণা ভুলিয়া 

হৃদয়ে গায় প্রভুর গান, 

গায়না শুধু ইয়াজিদের দলেরা 

তোমার শান ও মান। 

পবিত্র আশুরা

 সুখ দুঃখ হাসি কান্নায় ঘেরা পবিত্র আশুরা 

উত্থান পতন ও সৃষ্টি ধ্বংসের ঘটনা পবিত্র আশুরা। 

আরশ-কুরসি, লওহ-কলম, আসমান-জমিন সৃষ্টি করে, 

প্রভু দয়াময় এ দিনেই বসলেন নিজ কুরসিতে। 

মোহাম্মদী ইসলাম করতে ধ্বংস এজিদের দল 

এ দিবসে করলো লাল কারবালার ময়দান। 

বিশ্বনবির প্রাণপ্রিয় ধন ইমাম হোসাইন 

অকাতরে বিলিয়ে দিলেন নিজের জীবন। 

আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বন্ধু যুগের ইমাম সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী 

দেওয়ানবাগ শরীফ করলেন তৈয়ার মোহাম্মদী ইসলাম প্রচারের লাগি, 

ইসলামের শান্তি জীবনে পাবে করে সূফী সম্রাটের শিক্ষা গ্রহণ, 

মানব জাতি করগো আশুরা পালন, 

বিশ্বব্যাপী মোহাম্মদী ইসলামের জাগরণ। 

তোমারে ডাকি

 যতই করি খাম খাম হে বিধাতা, 

সব কিছুই হবে বৃথা, 

যদি তুমি করো দয়া আমার প্রতি 

তবেই হবে আমার উন্নতি। 

আমার আমার করে 

মানুষ কত কিছুই গড়ে 

কিছুই নাহি রবে মরার পরে, 

যার থাকে সুন্দর চরিত্র 

তুমি থাকো খুশি তার প্রতি। 

থাকো যদি তুমি আমার প্রতি খুশি 

তবেই আমি হবো দোষ মুক্ত 

হতে পারবো তোমার দাস-দাসি। 

হে বিধাতা, 

তুমি বিহীন আমার সব কিছুই বৃথা। 

বাসি ভালো হতে তোমার দাস-দাসি 

পাকে নাপাকে তোমারে ডাকি। 

হে বিধাতা, 

তোমাকে ভালোবাসি 

আমি পাপী তোমাকে ভালোবাসি। 

রক্তেলাল

 হৃদয় কাঁদে পরলে মনে 

বুকে বাড়ে ব্যথা 

কারবালার ঘটনার কথা, 

আসমান লাল জমিন লাল 

রক্তেলাল কারবালার ময়দান। 

মোহাম্মদী সৈনিক ৭২জন 

এজিদ ২২হাজার, 

কিভাবে হয় যুদ্ধ 

বলবে কী কেউ একবার? 

হাসান শহিদ বিষ পানে 

হোসাইন শহিদ তিরে, 

মোহাম্মদী সৈনিক হইলেন শহিদ 

এজিদের চক্রান্তে। 

এজিদ নহে হিন্দু 

নহে বৌদ্ধ খ্রিস্টান, 

এজিদ ছিলো নবির প্রেম বিহীন 

নামধারী মুসলমান। 

হৃদয় কাঁদে পরলে মনে 

বুকে বাড়ে ব্যথা 

কারবালার ঘটনার কথা। 

দুলদুল ঘোড়া ছুটে যায় মদিনায় 

যদি গো নবির দেখা পায়, 

কাঁদে গো নবির প্রেমিক 

সেইদিন হয়ে অসহায়। 

জিন্দা রাখতে ইসলাম 

জীবন দিলেন সঁপে, 

তবুও না হইলেন নত 

এজিদের কাছে। 

জীবনের চেয়ে ঈমানের 

মূল্য অনেক বেশি, 

তাই সঁপে দিয়েছেন জীবন 

বিশ্বনবিকে ভালোবাসি। 

মুর্শিদ আমার খোদার ছবি

 আল্লাহ রাসুল দুই পাবে 

গেলে দেওয়ানবাগে 

মুর্শিদ আমার খোদার ছবি 

দেখেছি চাঁদের মাঝে। 

যে রূপ ছিল মাওলার 

লুকিয়ে গোপনে, 

আসলেন তিনি এই ধরায় 

মাহবুব-এ-খোদা নামে। 

মুর্শিদ আমার খোদার ছবি 

দেখেছি দুই নয়নে। 

বাবে রহমতে যাবে 

দেখবে নূরের পুতুল 

তাঁরই মাঝে কথা বলে 

আল্লাহ আর রাসুল। 

মুর্শিদ আমার খোদার ছবি 

দেখেছি চাঁদের মাঝে। 

সূফী সম্রাটের মুখের বাণী 

যতই আমি শুনি 

দিল হয় খোদার নূরে রওশনি। 

আল্লাহ রাসুল দুই পাবে 

গেলে বাবে রহমতে 

মুর্শিদ আমার খোদার ছবি 

দেখেছি দুই নয়নে। 

মুর্শিদ আমার খোদার ছবি 

দেখেছি চাঁদের মাঝে। 

মাহে রমজান

 সত্তর হাজার বছর 

আগুনে রাখিয়া মাওলা পরওয়ার, 

নফসকে জিজ্ঞাসা করিলো 

প্রভু কে তোমার? 

উত্তরে বলিলো, 

তুমিই তুমি আর আমিই আমি। 

এই কথা শুনে 

মাওলা অভিমান করে, 

সত্তর হাজার বছর নফসকে 

রাখলো অনাহারে। 

অতঃপর নফস দুর্বল হয়ে বলে, 

তুমি আমার প্রভু 

আমি তোমার দাস। 

ওহে মুসলিম 

বছর ঘুরে এলো 

সেই আত্মশুদ্ধির মাস, 

মাহে রমজান 

পবিত্র মাহে রমজান। 

নফসের সাথে করিয়া যুদ্ধ 

হতে হয় শুদ্ধ 

আত্মশুদ্ধি হলে তুমি শুদ্ধ হবে, 

তোমার দ্বারা তখন 

সমাজে শান্তি আসিবে। 

কাঙ্গাল মেরে জাঙ্গাল দিওনা, 

রোজার হাকিকত পূর্ণ হবে না। 

রোজা পালনে মিলে মাওলার দর্শন, 

সুন্দর চরিত্র করিলে অর্জন। 

মোহাম্মদকে ভালোবাসি

 মোহাম্মদী প্রেম ছেড়ে দিয়ে 

আজ যারা ধর্মের নামে 

মানুষ হত্যা করে 

গায় ধর্মের গান, 

নাহি জানে তারা 

ধর্মের মূল জ্ঞান। 

আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বন্ধু সূফী সম্রাট কয় 

মোহাম্মদকে ভালোবাসাই ধর্মের মূল হয়। 

সূফী সম্রাট শান্তিময়, 

সূফী সম্রাট প্রেমময়, 

সত্য ন্যায়ের পথ, 

মানবতার প্রতিচ্ছবি, 

মানব অন্ধকার ঘরে 

আলোর প্রদীপ তিনি। 

তাঁর সান্নিধ্যে থাকিলেই সোনার মানুষ হয়। 

এসো হে সকল মানবগণ 

সূফী সম্রাটের শিক্ষা করি গ্রহণ 

তবেই আমরা বাঙালি হবো 

বিশ্বের বুকে শ্রেষ্ঠ জাতি, 

এসো মোহাম্মদকে ভালোবাসি 

নূরে মোহাম্মদীকে ভালোবাসি। 

মোবারক ইদ মোবারক

 আনন্দ আজ হয়েছে আনন্দে আত্মহারা 

আকাশ বাতাস বৃক্ষ তরুলতা হয়েছে আজ আনন্দে দিশেহারা, 

বুলবুলি গুনগুনিয়ে শুনিয়ে যায় কানে 

ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্ বলে। 

বারোই রবিউল আউয়াল 

বিশ্বনবির শুভ জন্মদিন এসেছে। 

বেহেস্তের পরীরা ডেকে বলে ফেরেশতাদেরকে 

ঐদেখো ত্রিভুবন সাজে আজ মনের রঙেতে রাঙিয়ে ভুবন আনন্দে, 

ফুলের পাপড়িগুলো লুটিয়ে নূর নবির নূরের কদমে 

জপে ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্ বলে। 

গরিব ধনীর ভেদাভেদ ভুলে 

নতুন জামা পরে, কোরমা পোলাও খেয়ে 

ইদে মিলাদুন্নবির আনন্দ ভাগ করে নিব সবার সাথে রে, 

সবাইকে জানাই মোবারক ইদ মোবারক যে। 

দয়াল রাসুলের শুভ জন্মদিনে 

খুশি হয় না কাফের মুনাফিক এজিদের দলে, 

আশেকে রাসুলগণে মনের আনন্দে 

ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ইয়া হাবীবাল্লাহ্ জপে। 

দেখো পড়ে কুরআনে সূরা আম্বিয়ার ১০৭নম্বর আয়াতে 

দয়াল রাসুল হচ্ছেন রহমত মানবজাতির লাগিয়া যে, 

সে রাহমাতুল্লিল আলামিনকে ভালোবাসলে পাবে রহমত তোমার ঘরে। 

ইদে মিলাদুন্নবির আনন্দ ভাগ করে নিব সবার সাথে রে, 

সবাইকে জানাই মোবারক ইদ মোবারক যে। 

ধর্ম করি

 আসো আমরা ধর্ম করি মানব ধর্ম 

যে ধর্মে নাই কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব, 

হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান 

এক-কাতারে বসে গাই মানবতার গান। 

আসো আমরা ধর্ম করি মানব ধর্ম 

আঁকি ছবি মানবতার বিশ্ব জুড়ে 

হিংসা বিদ্বেষ দূর হয়ে যাক মোদের হৃদয় হতে। 

আসো আমরা ধর্ম করি মানব ধর্ম 

যে ধর্মে নাই ধর্মের নামে মানুষ জবাই 

যে ধর্মে নাই আগুনে পুড়িয়ে জিন্দা মানুষ হত্যা ভাই, 

আসো আমরা সে ধর্ম করি মানব ধর্ম 

যে ধর্মে একে অপরের বিপদে পাশে থাকা 

সুখে দুখে জাত-ধর্ম ভুলে সকলে একসাথে বাঁচা। 

তোমাদের এমন ধর্ম আমি মানি না ভাই 

যে ধর্মে মানব সেবা নাই, 

যে ধর্মে নাই মানুষকে ভালোবাসবার শিক্ষা 

করি ঘৃণা তেমন ধর্মকে জানাই ধিক 

মানুষ যদি বাঁচে ধর্ম রবে ঠিক। 

গ্রন্থের চেয়ে মানুষ বড় বলে গেছে বহু জ্ঞানী গুণী, 

আসো আমরা ধর্ম করি। 

আমাকে আর ডেকো না

 হে প্রেম, তোমার খোদার দোহাই  আমাকে আর ডেকো না,  হৃদয় ভেঙে গেছে  হৃদয় মরে গেছে!  তোমার কাছে যাওয়ার মতো  শক্তি আজ নেই হৃদয়ের,  হৃদয় আজ ক্লান্...