রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

সে কত ভাগ্যবান

 আকাশে জমেছে মেঘ 

বৃষ্টি হবে বলে 

সে কত ভাগ্যবান 

ভিজেছে তোমার জলে, 

আমি হয়তো পথের ধূলো 

পথে ঘাটে উড়ে 

এখানে সেখানে থেকেছি পড়ে 

কেউ নেয়নি তুলে। 


ঝরেছে পাতা 

কেঁদেছে লতা 

বিচ্ছেদ বেদনাতে 

তাই বলে কি ফুলের হাসি 

গিয়েছে মালী ভুলে, 

মালী তো জানে না 

ফুলের বেদনা 

ফুলের কান্নাকাটি 

সাদাসিধা জীবন আমার 

হেঁসে ভালো থাকি। 

মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

যার সাথে আমি বাঁধবো জন্মান্তরের বন্ধন

 আমার মায়ের মতো একটা প্রেমিকা হোক।

যার বুকে মাথা রাখলে আমার সারাদিনের ক্লান্তি দূর হবে।

যে আমার মুখ দেখলেই বুঝবে কি চাই,

সে বলবে তুমি চিন্তিত হইও না, আমি তো আছি তোমার পাশে।

আমার মনখারাপের দিনে সে হবে ভালো করার ওষুধ,

দুঃখ পেলে জড়িয়ে ধরে দিবে সুখ,

আমার পছন্দের খাবার, পছন্দের পোশাক

আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখবে হাতের কাছে,

যখন যা দরকার সে সাজিয়ে রাখবে চারপাশ ঘিরে।

আমার মা আমাকে যেমন ভালোবাসে, আমার খেয়াল রাখে

অসুখ হলে কপালে জলপট্টি, রাত জেগে পাহারা দেয়া

জিজ্ঞেস করে ‘তোমার কি খুব যন্ত্রণা হচ্ছে!

এমন একটা প্রেমিকা চাই-ই চাই।

যে আমার মায়ের মতো হবে কিন্তু মা নয় স্ত্রী সে,

যার সাথে আমি বাঁধবো জন্মান্তরের বন্ধন।


-২


আমার বাবার মতো একটা প্রেমিক হোক।

যার হাত ধরে আমি পাড়ি দিতে পারবো সাত সাগর তেরো নদী অনায়াসে।

যে হবে দায়িত্বশীল প্রেমিক,

ঠিক একজন বাবা যেমন তার মেয়ের খেয়াল রাখে।

যার কাছে আমি মন খুলে আমার মনের সকল কথা বলে দিতে পারবো,

যার কাছে আমি নিরাপদ, আমি চিন্তিত নই।

আমাদের মাঝে ঝগড়া হলে, আমি অভিমান করলে

সে আমার মান ভাঙাতে ঘুরতে নিয়ে যাবে পাহাড়ে বা সাগর পাড়ে,

হঠাৎ ফুল এনে হাতে দিয়ে বলবে স্যরি!

আমার বাবার মতো বলবে মেয়েদের অতো রাগতে নেই,

তাতে সুন্দর দেখায় না-গো, উজ্জ্বল হাসি প্যাঁচার মতো লাগে।

প্রিয় রং, প্রিয় ফুল, প্রিয় গান, প্রিয় কবিতা নিয়ে—

আড্ডা হবে আমাদের দুজনার মাঝে।

যে হবে ঠিক আমার বাবার মতো কিন্তু বাবা নয় স্বামী সে,

যার সাথে আমি বাঁধবো জন্মান্তরের বন্ধন।

নেই ঠিকানা নেই আপন

 আমি এক ভিখারি তোমার কাছে এসেছি

তোমার ভালোবাসা পেতে

ভিক্ষা দাও ভালোবাসা ভিখারিকে।

আমার এই জীবন তোমার ভালোবাসা বিহীন তুচ্ছ

তোমার ভালোবাসা আমার জীবন।

আমি সে রূপ লুকিয়ে রেখেছি হৃদয়ে

যে রূপ দেখো তুমি আয়নায় দাঁড়িয়ে।

তোমার রূপের ধ্যানে আমি বসেছি

তোমার ভালোবাসা পেতে

ভিক্ষা দাও ভালোবাসা ভিখারিকে।

আমি ভিখারি ‘নেই ঠিকানা নেই আপন

তুমিই সব আমার স্বজন। 

কে জাগালো

 মোর নয়নে আশার আলো

কে জাগালো

খুঁজি তারে

সে কি মোরে বাসে ভালো

মোর মনে প্রেমের আলো

কে জাগালো।

অতি নিকটে

তবু লুকিয়ে

আসে না মোর

ঘরে সে

ঝরে বারি

বিরহে পুড়ি

তার স্মরণে

মোর নয়নে আশার আলো

কে জাগালো।

লুটিয়ে পড়িবো তারই চরণে

শত জনমের ব্যথা ঘুচিবে

জাগিয়া থাকি

আসিবে সে কি

যে প্রেম সে

আমায় শিখালো

মোর নয়নে প্রেমের আলো

কে জাগালো।

এই ছিল গল্পের কাহিনি

 মেয়েটি গল্প ভালো জানে

ছেলেটি গল্প শুনে মন দিয়ে মনে।

একদিন জিজ্ঞেস করে তাই

বলো তো গল্পে কি বুঝাই।

গল্প তো তেমন বুঝি না

বুঝি না আমি কবিতাও হায়

তুমি বলো শুনি।

ধ্যান দিয়ে শোন আমার হৃদয়ের ধ্বনি।

আজব মানুষ হায়

কি বললাম আর কি উত্তর ধরায়।

উত্তর আমি কিছুই জানি না

গল্পের একটি লাইন সেরা

যদি না তুমি এর অর্থ বুঝো হে

গল্পের কাহিনি মিথ্যে।

সেদিন হতে ছেলেটি গল্পের অর্থ খুঁজে

মেয়েটি আকাশে তার ছবি আঁকে।

এই ছিল গল্পের কাহিনি

কবিতার ছন্দে লিখে রাখলাম আমি।

আমার সব রং তুমি

 তোমার জন্য আমার বড্ড মায়া হয়,

তোমার কথা খুব মনে পড়ে,

আমার কথা কি তোমার মনে পড়ে?

তোমার জন্য আমার এতো মায়া হয় কেনো?

একটিবারও কি আমাকে তোমার মনে পড়ে না?

জানো, পাখির মায়া হয় গাছের জন্য,

জানো, আকাশের মায়া হয় রংধনুর জন্য,

জানো, মাটির মায়া হয় মৃত মানুষের জন্য,

আমার জন্য তোমার কোনো মায়া হয় না?

আমি তো ঐ গাছের মতোই অসহায়,

ঐ মৃত মানুষের মতোই,

তোমাকে ছাড়া রংধনু হতে পারিনা,

আমার সব রং তুমি, তুমিই অস্তিত্ব।

রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

সাধনে মিলে রতন

 আসিয়া মায়ার ঘরে

দেখলাম কত ওরে

সবাই সবার তরে

আমার আমার কইরা মরে।


অধমের মনে বেদন

আমিত্ব দেয় নাই বিসর্জন

করে নাই সে সাধন

চিনিবো যে দম।


ভাবি তাই মনে

কে আমি কে সে ওরে

কার সাথে কথা বলি

কে সে স্বজন।


পাইয়া মানব জনম

যদি না চিনো অধম

হারাইবা তুমি রতন

যতই ভাসাও নয়ন।


মানুষ রত্ন মানুষ সত্য

মানুষে সকল তথ্য

গুরুর তরে হইয়া মত্ত

আমিত্ব দাও বিসর্জন।


যৌবনে জীবন

জীবনে সাধন

সাধনে মিলে রতন

মুর্শিদ মহাজন।

সে কত ভাগ্যবান

 আকাশে জমেছে মেঘ  বৃষ্টি হবে বলে  সে কত ভাগ্যবান  ভিজেছে তোমার জলে,  আমি হয়তো পথের ধূলো  পথে ঘাটে উড়ে  এখানে সেখানে থেকেছি পড়ে  কেউ নেয়নি তু...