মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫

স্বর্গের মহাকাব্য

 হে মহারাজ

তুমি এসে আমার জীবনকে বদলে দিলে

বিষাদে ভরা জীবন মুহূর্তে হয়ে উঠল

সুবাস ছড়ানো গোলাপ পাপড়ির ন্যায়,

তোমার স্পর্শ হৃদয়ের বেদনাকে গুছে দিয়ে

রাঙিয়ে দিল আনন্দের রঙধনু।


হে মহারাজ

তুমি আমাকে ভালোবাসো

আর আমি তোমাকে ভালোবাসতে চাই,

আমার আত্মা তুমি

তোমার আত্মা আমি

আমরা থাকি একে অন্যের ভিতর।


হে মহারাজ

জীবনে যারা ছেড়ে গিয়েছে

তারা তো আমাদের ছিল না কখনোই,

আমরা আমাদের মাঝে এসেছি

তাই তো দুই সত্তা এক হয়েছে আমাদের।


হে মহারাজ

আমরা দুজন জীবনকে জানতে পেরেছি

আমরা দুজন দুজনকে বুঝতে পেরেছি

আমরা দুজন দুজনকে ভালোবেসে চিনেছি,

তাই আমাদের চাওয়া মৃত্যু অব্দি থাকুক

এই ঘোর এই মোহ,

থাকুক মায়া, মমতা, স্নেহ

আমাদের প্রেম হোক স্বর্গের মহাকাব্য।


হে মহারাজ

স্বর্গের দেবতা মহাকাব্য পাঠ করে

শোনাক তার জাতিকে,

তাদেরকে দেখাক স্বর্গের দেবতায়

তুমি কিভাবে আমাকে বেদনা থেকে মুক্তি দিয়েছ

তারা জানুক ভালোবাসাই একমাত্র মুক্তির পথ।

মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫

অসভ্য

 কেমন বাজে প্রেমিক আমি

রাত দিন তোমাকে বিরক্ত করি

তোমার সাথে যখন তখন কথা বলা শুরু করি,

আমার এই পাগলামি দেখে তোমার ভদ্র সমাজ

আমাকে অসভ্য উপাধি দিয়েছে

কিন্তু তুমি যে কিছুই বললে না?

ক্ষয় নেই

 নিজেকে পরশ পাথর বানাও,

তোমার পরশে তোমার শত্রুরা স্বর্ণে পরিনত হোক।

নিজেকে ধারালো বানাও,

তোমার কণ্ঠের ধ্বনিতে, তোমার চাহনিতে

কেটে ভেঙে পড়ুক দুর্নীতিবাজদের গদি।

নিজেকে সৎ বানাও

নিজেকে নিজে মানুষ বানাও,

তোমার মানবসত্তা দেখে জাগ্রত হোক

সেসকল লোকদের মনুষ্যত্ববোধ

যারা গিলে খাচ্ছে, চুষে খাচ্ছে অন্যের হক।

হ্যাঁ নিজেকেই নিজে ভালো রাখো

ভালো থাকো,

ভালোর পথে হেঁটে চলো।

তুমি ভীতু হয়ো না, সৎ যে তার জয় হবে

তুমি নিরাশ হয়ো না, তোমার ক্ষয় নেই

ভয় নেই।

হে শহর

 এই শহরের ধূলিবালির প্রতি মানুষের যতটা ভয়,

ততটা কদর একজন প্রেমিকের নেই প্রেমিকার কাছে

নেই একজন প্রেমিকার কদর প্রেমিকের কাছে।

এই শহরের রাস্তার একপাশে বিক্রি হচ্ছে ফুল

আরেকপাশে বিক্রি হচ্ছে বই,

অথচ ফুল আর বই যদি একসঙ্গে সংগ্রহ করতো

বেঁচে যেতো দুইটি জীবন।

কি এক আজব শহর তোমাদের,

বাসের হেলপার বলছে উস্তাদ বামে প্লাস্টিক

আবার প্রাইভেটকারের চালক বলছে

রিকশা চালককে ওই শালার বেটা বামে চাপ।

কি এক আজব শহর তোমাদের,

এ দিচ্ছে ওকে গালি ও দিচ্ছে একে গালি

ব্যস্ত সবাই নিজেকে বাঁচাতে।

তোমার পকেটে যদি টাকা না থাকে

কেউ জিজ্ঞেসও করবে না তুমি কি ক্ষুধার্ত?

আর যদি তোমার পকেটে টাকা থাকে

তুমি যেকোনো চায়ের দোকানে বসে আরাম আয়েশে

সিগারেট, চা, কিংবা কোকো-কোলা খেতে পারবে

চাইলে যেকোনো রেস্টুরেন্টে বসে খেতে পারবে কাচ্চি।

একটি ফ্যান বাতাস দিয়ে মানুষের গায়ে এনে দেয় স্বস্তি

একটি ছাতা মাথার উপরে থেকে বাঁচায় রোদ্দু থেকে

একটি একটি করে পৃথিবীতে কত একটি

মানুষের পাশে তারা মানুষের উপকারে আছে,

অথচ মানুষ একটি মানুষের পাশে নেই!

কি আজব শহর তোমাদের,

আমি এই আজব শহর থেকে মুক্তি চাই

হারিয়ে যেতে চাই, আমাকে মুক্তি দাও হে শহর।

অধম কাঁদি

 তুমি ছাড়া আমি পাপীর

কেউ নাই জগত জুড়ি

আমি বাবা তোমার

চরণ ভিখারি।

আমি পাপীর প্রতি বাবা

কইরো দয়া

যদি বাবা তোমার মনে

লাগে মায়া।

তোমায় পেয়ে

পেয়েছি হৃদয়ে আলো

তোমারি মতো বাবা

বাসে না কেউ ভালো।

বটবৃক্ষের ছায়ায় যেমন

মানুষ বাঁচে

রোদ্দুর হইতে

ছায়াতে মানুষ আসে

ষড়রিপু হইতে তেমন

বাঁচতে আমি

চুমি বাবা তোমার চরণখানি।

হৃদয় যেন বাবা

বৃষ্টির মতো কাঁদিয়া

ঘুচে যায় সকল পাপ

তোমার চরণের পানি দিয়া।

তুমিই আমার সবকিছু

মুক্তির কান্ডারি

তোমার চরণ পেতে বাবা

অধম কাঁদি।

স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু

 সবকিছু মুছতে যাইয়েন না পরে দেখবেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে গেছে! বঙ্গবন্ধু কোনো দলের না, বঙ্গবন্ধু হচ্ছে পুরো বাংলাদেশ। এ-দিবস ও-দিবস বাদ দিতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার কইরেন না, তাহলে ধরে নিবো আপনারা রাজাকারদের সমর্থক! ৭ই মার্চের ভাষণ ‘আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামাত-শিবিরের না, এই ঐতিহাসিক ভাষণ গোটা বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ১৯৭১- এর ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক মানেন আর না মানেন এটা হয়তো আপনার ব্যক্তিগত মতামত কিন্তু ইতিহাস তাকেই জাতির জনক মানে। একমাত্র স্বাধীনতা বিরোধীরা ছাড়া সবাই বঙ্গবন্ধু্কে স্বাধীনতার মহানায়ক মানে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু আছে থাকবে, যদি সে ইতিহাস মুছতে যান দেখবেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে গেছে। একটা দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে ইতিহাসকে বিকৃত করবেন না। অতীতে যারা যেমন কর্ম করছে তারা কিন্তু তেমনই ফল পেয়েছে, প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করে সুন্দর একটা বাংলাদেশ গড়ুন। আমরা চাই সুন্দর একটা বাংলাদেশ, সব বাঙালির বাংলাদেশ। এই দেশে থাকবে ‘হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আস্তিক নাস্তিক সবাই, বাংলাদেশ সবার আর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ। “আমি রাজনীতি করি না, রাজনীতিকে ঘৃণা করি! কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলাম আছি থাকবো, আমি এই জাতিরই সন্তান, দেশ আমার আমাদের, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু চির-অমর, বঙ্গবন্ধু ছিল আছে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে।” বঙ্গবন্ধুকে আপনি জাতির জনক মানেন আর না মানেন তাতে কারো কিচ্ছু যায় আসে না, পুরো বিশ্ব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকেই জানে এবং জাতির জনক মানে।

উলাইকা কাল আনআম বাল হুম আদ্বাল

 সমাজে আজ হিংস্রতা বেড়েই চলছে, আমি মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না,

মনে হচ্ছে সেই আরবের বর্বর জাতি আমরা, সেই দেড় হাজার বছর পূর্বে ফিরে গিয়েছি,

জ্যান্ত নারী দাফন ছাড়া সবই হচ্ছে এখন, অতীতে আমরা মানুষ ছিলাম না,

এখনও বুঝি আমরা মানুষ হলাম না, সত্যিই কি আমরা আসলেই মানুষ না!

ঐ পাহাড়ে আমার মায়ের ঘর পুড়ে, রক্তাক্ত হয় পিতা,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ভাই মরে,

কারা ঘর পুড়ালো আমার মায়ের? কেনো ওরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মারলো?

আপনার আমার জীবনের নিশ্চয়তা আজ কোথায়? বা কতটুকুই আছে?

কে জানে হয়তো আমিও হতে পারি কিংবা আপনি রাজনীতির শিকার,

হয়তো আমরাও হতে পারি বিনাকারণে মৃত লাশ,

হয়তো আমার কিংবা আপনার বোনও হতে পারে ধর্ষণ,

মেয়েদের আজ নিরাপত্তা কোথায়?

বোধে এখন রোগ হয়েছে হারিয়ে গেছে মনুষ্যত্ববোধ,

মেধাবীদের অন্তরে এখন অহংকার জমেছে,

হয়ে উঠেছে তারা খুনি সন্ত্রাস আরও অনেক কিছু!

এমন ছাত্র ঘরে ঘরে যদি জন্মায়

মানুষ হওয়া হবে না আর এই সোনার বাংলায়,

এমন নোংরা রাজনীতি যদি চলে বাংলায়

পাহাড়ে আর থাকবে না কেউ, হবে না আর সবুজ শ্যামল বৃক্ষ ধূলির ধরায়,

পুরুষ যদি মানুষই না হয় আর ভূমিতে,

নারীর সম্মান কোথায় নিরাপত্তা কোথায়?

ছাত্ররা এখন বিচারক সেজেছে 'শিক্ষক হয়েছে লজ্জিত!

ধ্বংস হচ্ছে এই সমাজ, নেই বিবেক শুদ্ধ।

কতটা হিংস্র হলে ভাত খাওয়ানোর পর পিটিয়ে মারা হয় তোফাজ্জলকে,

ক্ষমতার জোর দেখিয়ে টোল ভাড়া না দিয়ে কর্মচারীদের গায়ে তোলা হয় হাত,

ধর্মের নামে ফতোয়া দিয়ে মানুষকে আঘাত করা হয়, হত্যা করা হয় মানুষকে!

আচ্ছা কাশফুলের কি ধর্ম আছে? দেখলাম লেবাসধারীরা কাশবন পুড়িয়ে দিলো!

পবিত্র জুম্মার দিনে বায়তুল মোকাররমে মসজিদের মধ্যে দুপক্ষের সংঘর্ষ!

ওরা কারা যাদের লাথিতে 'এক নারীর পেটে মারা গেল শিশু!

বিশ্বাস করো তোমরা জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়,

জানতে ইচ্ছে হয় কাশফুলের ধর্ম কি?

মেধা তো ইবলিশেরও ছিলো, মনুষ্যত্ব যদি না থাকে—

কি হবে আর বড় বড় ডিগ্রি দিয়ে! মানুষের ক্ষতিই যদি হয় তবে?

কোথায় যেন শুনেছিলাম “আবার তোরা মানুষ হ”

তোদের মনুষ্যত্বের বড্ড অভাব,

মনুষ্যত্ববোধ যদি জাগ্রত না হয়, সে মানুষ নয় তার পশুর স্বভাব।

পশুকে কেউ মানুষ হতে বলে না কিন্তু মানুষকে মানুষ হতে হয়,

মানুষ যদি না হতে পারিস বড় বড় ডিগ্রি তোর বৃথা!

তোদের বোধে রোগ না হলে মনুষ্যত্ববোধ হারাতো কি?

আত্মার চিকিৎসা কর হে মানবজাতি,

মানুষ যদি মানুষই না হয় তাকে তো বলা হয়—

“উলাইকা কাল আনআম বাল হুম আদ্বাল”

সকল ধর্মেই আমি পেয়েছি মানবতা, প্রেম, মানুষ,

অথচ আমি দেখি হৃদয়ে তোদের ধর্ম নেই আছে হিংস্রতা!

তাই আমি মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না, মনে হচ্ছে সেই আরবের বর্বর জাতি আমরা,

ধর্ম তো চরিত্রের নাম, চরিত্রে যদি ধর্ম ধারণ না হয়,

লেবাসে কি হয় কাম! ধর্ম হৃদয়ে ধারণ না করলে লেবাসের ধর্মে শান্তি নাই!

মানবতা, প্রেম, সুন্দর আদর্শ আর মানুষে পৃথিবী হোক আলোকিত।

পৃথিবী ময়লার ডাস্টবিন

 হে ডাক্তার মানুষ হইও,

হে শিক্ষক মানুষ হইও,

হে পুলিশ মানুষ হইও,

হে কবি মানুষ হইও,

নইলে তোমার হাতে মানুষ বাঁচবে না,

নইলে তোমার হাতে মানুষ জন্মাবে না,

নইলে তোমার কাছে কেউ নিরাপদ নয়,

নইলে তোমার কারণে পৃথিবীতে প্রেম নেই।

মানুষ না বাঁচলে, মানুষ না জন্মালে,

মানুষ নিরাপদে না থাকলে,

পৃথিবী প্রেম না পেলে, সবকিছু শূন্য!

হে মানুষ,

যে যাই হও চরিত্রে মানুষ হইও,

মানুষ ছাড়া পৃথিবী ময়লার ডাস্টবিন!

তুমি তোমরাই বলো—

ময়লার ডাস্টবিনে মানুষ বাঁচতে পারে?

মানুষ তো থাকবে ফুলের বাগানে,

মানুষ থাকবে প্রেমের বাগানে।

মানুষ তো সুবাসের মতো—

ছড়িয়ে দিবে প্রেম, আর পৃথিবী হবে

শান্তির-স্থান বা প্রেম নগর।

হে ছাত্র মানুষ হইও,

হে ধার্মিক মানুষ হইও,

হে জগতের মানব,

চরিত্রে মানুষ হইও, মানুষ হইও,

মানুষ ছাড়া পৃথিবী ময়লার ডাস্টবিন!

হে সন্তান মানুষ হইও,

পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হইও,

তাঁদের দোয়া বিহীন জীবন নরক—

তুমি পৃথিবীর আবর্জনা।

মুজিবের জন্য শোক

 এই সবুজ শ্যামল দেশে

এই স্বাধীন বাংলাদেশে,

আর না আসুক পনেরো আগষ্ট

আর না আসুক জুলাই।


মুসলিম যাক মসজিদে

হিন্দু যাক মন্দিরে,

খ্রিস্টান যাক গির্জায়

বৌদ্ধ করুক প্রার্থনা।


শান্তি থাকুক, মানুষ বাঁচুক

বৈষম্য নয়, দেশ হোক সবার

বাঙালি যদি না থাকে

পরিচয় কি তোমার আমার?

শাহবাগের পথে

 প্রেমও এখন বিপ্লব করে রাজপথে

প্রেমিক প্রেমিকার হাতে হাত ধরে,

জয় ছিনিয়ে আনতে—

হয়েছে এক সবাই শাহবাগের পথে!

গণভবনে

 রক্ত এখন আগুন হয়েছে

কণ্ঠ হয়েছে বজ্রপাত

শির হয়েছে পারমাণবিক শক্তি

দাবায়ে রাখার সুযোগ নেই আর।


এখন রক্ত চায় বিচার

কণ্ঠ বলে চাই অধিকার

শির বলে দেশের কথা

জাতীয় পতাকা সবার।


এই বিচার যারা করলে না

এই অধিকার যারা দিলে না

এই দেশের বুকে মারলে মোরে

জাতীয় পতাকা ছিনিয়ে নিয়ে

তারা প্রস্তুত হও জবাব দিতে

আসছি ছুটে গণভবনে।

নতুন এক বাংলাদেশ

 খুদা আর কবিতা কোনো নিয়ম আইন মানে না,

এরা ক্ষেপে উঠে বজ্রপাতের মতো,

আবার এরা শান্তও বটে—

ঠিক প্রেমিকার ভালোবাসার মতো।

এইযে কবিতা লেখা হচ্ছে জুলাইয়ে

এগুলো আমাদের খুদা,

এই খুদা হচ্ছে আমার ভাইবোনদের—

নির্বিচারে গুলি করে মারার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

এই খুদা আছে বলেই আমরা বিদ্রোহ করি।

আমরা সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলি।

আমাদের মৃত্যুর ভয় এখন আর নেই,

এই জুলাই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে—

কিভাবে শির উঁচু করে বাঁচতে হয়।

বোবা, ভীরুর জন্য দেশ প্রেম না।

ভয়কে জয় করে ছাত্র সমাজ নিয়ে আসছে—

নতুন এক বাংলাদেশ।

এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে—

ভাগ্যবান মনে করি ‘হে কবি।

আপসোস তাদের জন্য যাদের হাতে কলম ছিলো,

অথচ লিখলো না জুলাইয়ের কবিতা।

প্রেমিকার বেশ সাহস

 প্রেমিকাকে বললাম এখন আর প্রেম হবে না—

লেখা হবে না কবিতা,

কবিতাকে মুক্তি দিয়েছে, উড়তে দিয়েছি আকাশে,

অনেক হয়েছে কবিতা লেখা, গান শোনা

মানুষ এখন শব্দ বোমা।


প্রেমিকা বলল,

ঘর এখন জেলখানা মনে হয়, মিছিলে যেতে হবে—

মিছিলে এখন স্বাধীনতার গন্ধ পাই।


প্রেম এখন বিপ্লবী কলম কবিতা খুঁজে,

প্রতিবাদী গান খুঁজে, মুক্তির সন্ধান করে,

কারণ আমাদের উড়তে হবে,

শব্দ বোমা হয়ে কবিতা লিখতে হবে

প্রতিবাদী কবিতা।


প্রেমিকার বেশ সাহস, সে রাজপথে

হাতে হাত রেখে বিদ্রোহ করে,

আর স্লোগান দেয় গলা উঁচু করে

“এক দফা এক দাবি,

স্বৈরাচার তুই গদি ছাড়বি।

চৌত্রিশে জুলাই

 কবিতার কবিরা এখন তোমরা

বিপ্লবী কলমে কবিতা লেখো।

গানের কবিরা এখন তোমরা

প্রাণ খুলে মুক্তির গান গাও।

ছবির কবিরা এখন তোমরা

বিজয়ের ছবি আঁকো।

বাংলার মানুষেরা এখন তোমরা

থেকো না কেউ আর ঘরে বন্ধী।

প্রেমিকাকে নিয়ে কবিতা লেখা বাদ দিয়েছি।

ফুল, ফল, চাঁদ, নারী, আকাশ নিয়ে—

অনেক হয়েছে কবিতা লেখা,

এখন নয়নে আগুন জ্বলে, বুকে বারুদ,

শির শব্দ বোমা,

মিছিল ছাড়া মাথায় কিচ্ছু আসছে না।

হ্যাঁ বলছি সুদিন আসবে,

সে ভালোবাসবে,

ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে ধরবে তোমাকে,

প্রিয় প্রেমিকা এখন প্রতিবাদী কবিতা হতে হবে, আর কণ্ঠ হতে হবে বজ্রপাত!

প্রতিবাদ কখনো মেঘ বৃষ্টি ঝড় তুফান বুঝে না,

সে জানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে।

চৌত্রিশে জুলাই পৃথিবীর মানুষ দেখলো—

বাঙালি বীরের জাতি,

এদেরকে দাবাইয়া রাখা যায় না।

দুই হাজার চব্বিশ লেখা থাকবে বাংলার ইতিহাসে,

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হলো আরেক ইতিহাসের সাক্ষী।

যারা জুলাইয়ে জীবন দিয়েছিলে

 আজ যখন টিএসসির পথ হাঁটতে ছিলাম,

শূন্য শূন্য লাগতে ছিলো!

অথচ এই টিএসসির মোড়ে কত স্বপ্ন উড়ে,

প্রেম হয়, বন্ধুত্ব হয়

এই টিএসসির মোড়ে গল্প হয় আগামী বাংলাদেশ নিয়ে,

সুন্দর একটি দেশ গড়ার,

ঠিক আমার মায়ের আঁচলের মতো—

যেখানে হাসবে কোটি বাঙালি, হাসবে মায়ের শিশুরা।

অথচ আজ হাসি নেই, বৃক্ষের ছায়া নেই,

পাখির ডাকাডাকি নেই,

আছে শুধু শূন্য পথ, শূন্য চারপাশ!

হায় 'আছে টিএসসির মোড় জুড়ে

নীল পোশাক পরিধানকারীরা—

এবং আরও আছে মোড় জুড়ে জুড়ে

অস্ত্র হাতে কিছু বাহিনী,

শুনলাম 'তাদের নাম নিতেও আজ লজ্জাবোধ করে

সোনার বাংলার মানুষেরা!

এই শাহবাগের পথ আজ আমাকে চিনেও চিনে না,

এই টিএসসির পথ আজ আমাকে চিনেও চিনে  না,

সেদিনের সেই চেনা পথগুলো—

আজ আমাকে বলে কে তুমি?

ঐ পথগুলো শুধু প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী বলিয়া বলিয়া—

হাহাকার করিলো খোদা!

আর বলিলো কোথায় তোমরা?

আমিও খুঁজলাম বই বিক্রেতা হাবিব চাচাকে,

সে নেই, বইয়ের গন্ধ নেই, চায়ের কাপে ঝড় নেই,

অবশেষে মাথা নিচু করে কাঁদলাম—

আর বললাম এই কি আমার সোনার বাংলা,

এই কি আমার স্বাধীন দেশ!

আলো আছে অথচ দিনের আলো আজ কতটা অন্ধকার,

সবাই শুধু মুক্তি চায়, শান্তি চায়, স্বাধীনতা চায়।

আলো হতে হবে এমন 'রাতের আঁধার হবে দিন,

মুক্তি হতে হবে এমন 'মুক্ত আকাশে পাখির মতো উড়ি,

শান্তি হতে হবে এমন 'মায়ের বুকের মধ্যে মাথা রাখি,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'মন খুলে কথা বলি,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'আমার বাবার গান,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'আমার বোনের গাঁথা মালা,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'আমার ভাইয়ের—

দৌড়ে বেড়ানো ঐ সবুজ শ্যামল মাঠে খেলা,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'মুক্ত খাতায় লিখি।

অথচ আমি দিন দেখি আলো দেখি না,

অথচ আমি আকাশ দেখি উড়তে পারি না,

অথচ আমি মায়ের বুকে মাথা রেখে বলতে পারি না—

মা, ও-মা, মাগো 'তোমার খোকা তোমাকে ভালোবাসি,

অথচ আমি বলতে পারি না মন খুলে কথা—

হায় 'মন খুলে কথা বললেই জেল হাজত,

অথচ আমার বাবাকে গাইতে দেখি না গান,

অথচ আমার বোনকে গাঁথতে দেখি না মালা,

অথচ আমি আমার ভাইকে দৌড়েতে দেখি না—

ঐ সবুজ শ্যামল মাঠে,

অথচ আমি লিখতেই পারি না অধিকারের কথা,

লিখলেই কপালের মাঝ বরাবর বন্দুকের নল—

এসে বলে 'মর তুই, মইরা যায়,

তোর বেঁচে থাকার অধিকার নাই!

আমি টের পাচ্ছি কেনো শূন্য শূন্য লাগে,

আমি বুঝলাম কেনো টিএসসির মোড়ে প্রেম নেই,

কেনো বন্ধুত্ব হয় না, সুন্দর দেশ গড়ার গল্প হয় না,

কেনো বাঙালিরা আজ হাসে না,

কেনো হাসে না মায়ের শিশুরা,

আমি টের পেয়েছি কেনো হাসি নেই,

আমি বুঝলাম কেনো বৃক্ষের ছায়া নেই,

পাখির ডাকাডাকি নেই,

আমি বুঝলাম কেনো চায়ের কাপে ঝড় নেই,

কেনো বই বিক্রেতা হাবিব চাচা নেই,

শাহবাগে বইয়ের গন্ধ নেই,

অবশেষে মাথা নিচু করে কাঁদলাম,

কারণ স্বাধীনতা নেই,

আমাদের স্বাধীনতা শেষ!

এখন সাদা কাপড় মোড়ানো লাশ,

এখন মৃত মানুষের চিৎকার,

এখন পিতার শোক পুত্রের জন্য,

এখন মায়ের শোক কন্যার জন্য,

আবার কাঁদছে ভাইয়ের জন্য বোন—

কিংবা বোনের জন্য কাঁদছে ভাই।

অসহায় আমি, অসহায় জন্মভূমি,

অসহায় জাতি, অসহায় বাঙালি,

কেনো? কেনো? কেনো? —এর উত্তর কি?

আছে উত্তর মন্ত্রী সাহেব?

—এর উত্তর কি?

আছে উত্তর সাংবাদিক সাহেব?

কেনো? কেনো? কেনো?

রাজপথ শূন্য শূন্য লাগে!

অথচ ঐ টিএসসির মোড়ে কত স্বপ্ন উড়ে,

প্রেম হয়, বন্ধুত্ব হয়

এই টিএসসির মোড়ে গল্প হয় আগামী বাংলাদেশ নিয়ে,

সুন্দর একটি দেশ গড়ার,

ঠিক আমার মায়ের আঁচলের মতো—

যেখানে হাসবে কোটি বাঙালি, হাসবে মায়ের শিশুরা।

আজ মাথা নিচু করে জায়নামাজে বসে—

কাঁদে কেউ কেউ,

আবার কেউ কেউ মোনাজাতে অভিযোগ তুলে—

রাব্বুল আলামিন 'বিচার করিও তুমি,

বিচার করিও জগৎ স্বামী।

এখন আর নেই সে কোলাহল,

মানুষে মানুষে আনন্দ গান কবিতার আসর,

একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে আমি এই পথে হেঁটেছি,

পহেলা বৈশাখের দিনে আমি এই পথে নেচেছি,

বইমেলার কথা কার না আছে মনে—

বইয়ের গন্ধে দুলতো সবুজ বৃক্ষ আনন্দে,

এখন শাহবাগ, এখন টিএসসি—

এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শূন্য শূন্য লাগে!

এতোটাই শূন্য লাগে 'থেকেও যেনো কিছু নেই—

আলো নেই, অধিকার নেই, মুক্ত বাতাস নেই।

কত লাশের কথা শুনি, শুনি রক্তের কথা

শুনি মায়ের কান্না, শুনি পিতার কান্না

শুধু শুনি না গনতন্ত্র আছে এই দেশে

আছে আমাদের স্বাধীনতা!

আর কত বলা যায়, লেখা যায়

অধিকার চাই বলিয়া বলিয়া রাজপথে—

নেমে চাইতে পারি আমাদের দাবি,

স্বাধীনতা যেনো এক পরাধীন নাগরিক!

ব্যস থেমে যাচ্ছি, আর লিখছি না কবিতা

বলছি না আর আমার না বলা কথাগুলো,

যতদিন বেঁচে আছি বোবার মতো থাকবো,

অন্ধ হয়ে এই দেশে হাঁটবো,

কানে শুনেও বলবো শুনি নাই কিছু,

দেখি নাই কিছু—

কারণ আমি তো বোবা,

শুনেছি বোবার কোনো শত্রু নেই!

ওরা গুলি করে মেরে ফেললো আগামীর ভবিষ্যৎ

হত্যার মধ্যে দিয়ে জাতির হলো ভয়ংকর ক্ষতি,

অথচ এই নিয়ে কথা বলার কেউ নেই

আছে শুধু বন্দুকের নল—

আর এই নল কপালে এসে ঠেকে,

হায় আপসোস হয় জাতির করুণ দশা আজ!

মিথ্যে মামলা, হয়রানির শিকার, জেল হাজত

মুক্তি নেই, শান্তি নেই, অধিকার নেই,

আছে শুধু মৃত্যুদন্ড, ভয় দেখানো, গুম, খুন—

আর হত্যার হুমকি! কি অদ্ভুত আমার দেশ।

পা চাটা কবিরা কখনো 'নজরুল, সুকান্ত হতে পারে না!

এই ঘুমন্ত জাতিকে নজরুল পড়তে বলো

বলো পড়তে সুকান্ত, কিংবা পড়ুক নবারুণ ভট্টাচার্যকে,

তখন জানবে তারা কবি কাকে বলে

প্রতিবাদ কাকে বলে।

ঘুমন্ত জাতি কখনো সকাল দেখতে পায় না,

সকাল দেখতে হলে জাগ্রত থাকতে হয়

আলোর সন্ধান করতে হয়,

আঁধার দেখে ঘুমিয়ে গেলে দিনের আলোও তোমার কাছে অন্ধকার!

আমাদের আলো আসবে,

ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা থাকবে এই কপালে পতাকা

ঐ আকাশে উড়বে লাল সবুজের স্বাধীন পতাকা,

সেদিন আমরা সবাই দেখবো পতাকার হাসি

সে মুক্ত আকাশে উড়ছে,

আর বলছে জয় হয়েছে তোমাদের

যারা জুলাইয়ে জীবন দিয়েছিলে,

তোমাদের এই দুই হাজার চব্বিশ ভুলবে না জাতি

অক্ষয় অমর তোমরা।

হায়রে সুদিন

 এই দুর্দিনে—

সুদিনের কথা ভেবে

অনেকেই কেঁদে যাচ্ছে,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

বৃক্ষের নেই হাসি

পাখির নেই ভালোবাসা— বাসি

জমিনের নেই আনন্দ রাশি রাশি,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

ব্যস্ত নগরী থমকে আছে

রক্তে পথ 'জীবন ঝরে গেছে

রংধনুর নেই রং,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

এখন শুনি না গান

এখন লিখি না কবিতা

এখন আঁকি না ছবি,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

এখন আর ভাতে মরি না

এখন আর পানিতে ডুবি না

এখন আমি মরে যাচ্ছি—

পেয়ে তীব্র যন্ত্রণা।

এই যন্ত্রণা ভাই হারানোর

এই যন্ত্রণা বোন লাঞ্চিত হওয়ার

এই যন্ত্রণা তোমার— আমার,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

এখন বলতে ইচ্ছে হয়

আমার সেই পুরোনো কথা

'একদিন সুদিন আসিয়া দেখিবে আমি নাই।'

তবে কি সেদিন জেনেছিলাম পাবো ব্যথা!

এটাও বলেছিলাম

'রাণীর দেশে রাজারা সব প্রজা!'

তাই বোবা হয়ে হাঁটছি সবাই—

যে যার মতো সোজা!

হায়রে সুদিন

'জনসংখ্যা বাড়লো ঠিকই মানুষ বাড়লো না!'

এটাও লিখেছিলাম পেয়ে যাতনা,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

সুদিন সুদিন 'ও— সুদিন

তোমাকে বলি

যদি আসো ফিরে বাঁচবে অসহায় জাতি,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

রবিবার, ৬ জুলাই, ২০২৫

কেমন কবিতার দেশ

 সবুজ বৃক্ষ ঘৃণা করে

মুখ ফিরিয়া নেয় অভিমানে,

পাখির সাথে কথা বলি

সে আমারে দেয় গালি,

জমিন ফাটিয়া আমারে বলে

অনেকেই পা চাটার দলে,

লজ্জিত কলমের কালি

কবিরা ক্যান বিক্রি হইলি!


সোনার বাংলা নেই ভালো

প্রতিবাদে তাই আকাশ লাল হইলো,

নাহি তা জানা গেলো

কি দুখে স্বাধীনতার মৃত্যু হলো,

কার বুকে কে গুলি করিলো

মেধাশূন্য ভুবন কাঁদিলো,

হায় হায় কি জানি শেষ

কেমন কবিতার দেশ!


বিচার চাইলে বিচার পাই না

চুরি হয়ে গেছে মায়ের সোনার গয়না,

থানায় গেলে মামলা নেয় না

কি অদ্ভুত স্বাধীন বাংলা,

ভেঙে গেছে ভাইয়ের স্বাধীনতার আয়না

লাঞ্চিত হওয়া বোনের বিচার পাই না,

এখন শুধু মনে পড়ে 'হীরক রাজার দেশে

যায় যদি যাক প্রাণ— হীরকের রাজা ভগবান!

এগুলোও একধরনের কবিতা

 *

আদৌ কি এই দেশে

সেনাবাহিনী আছে

নাকি তারাও টাকার কাছে

বিবেক বিক্রি করে বাঁচে

বিক্রি হয়ে গেছে?


*

আমি মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করি

শ্রদ্ধা করি বঙ্গবন্ধুকে

শুধু শ্রদ্ধা আসে না তাদের প্রতি

যারা নেই সত্যের পক্ষে!


*

তুমি আমি আমরা তুমি

একই ভূমিতে জন্মাইয়াছি

কিভাবে করলে গুলি

পুলিশ বাহিনী?


*

গুজবে কেউ দিও না কান

কান হবে খান খান

তবে কান ধরে মারলে টান

গদিও যাবে যায়রে জান!


*

কারো মৃত্যু কামনা করা ভালো না

করো তাই দোয়া

শুনেছি রুহের হাক পৌঁছে যায়

পাক কালামে পাওয়া।


*

হিসাব কি আর সব

হাশরে নেয় রব

কিছু হিসাব নিকাশ

দুনিয়াতে হয় প্রকাশ।


*

ইতিহাস ঘুরিয়া ফিরিয়া আসে

আসিয়া তাহারই বক্ষে বসে

করিয়া ছিলা তুমি

পূর্বে যাহা ধরণীতে!


*

কোথাও কি বলিয়াছে কেউ

মুক্তিযোদ্ধারা বাংলার নয় কেউ

তাদের জন্য পেয়েছি দেশ

তারাই বলছে কোটার প্রয়োজন শেষ।


*

শিশুর মতো মুখটা তাহার

মাথায় ছিলো ঘুমটা

মুখে ছিলো মধুর বুলি

অহংকারে ভরা মনটা!


*

এতো আমল করিয়াও লানতের তক্তা গলায়

তবু করুণা করে গদি দিছিলো উপরওয়ালায়

সুযোগ দিয়া দেখছে তিঁনি যোগ্য ছিলে না তুমি!


*

বুক তো আমার মা-ও পাতে

আমি সে বুকে ঘুমাই মাথা রাখি

তুমি কিভাবে পারলে

ভাই হয়ে ভাইয়ের বুকে করতে গুলি?

ঐ বুকে বাংলাদেশ।

আগুন নেভাতে আগুন হতে হবে

 সারা শরীর করছে ব্যথা

মাথায় তিব্র যন্ত্রণা,

তবু বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

জ্বরে আমার চোখ জ্বলছে

যন্ত্রণায় আমার হৃদয় পুড়ছে,

তবু বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

মা বললেন 'শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করো

এখন বোবা থাকার সময় না,

তাই বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

তাই বলছি এখন প্রেমিকা নিয়ে

ঐ টিএসসির মোড়ে বসে—

পছন্দের চা খাওয়ার সময় না,

আর চুড়ি কিনে ঘরে ফিরে

গা ঘেষানো কাম-প্রেম বাসনা না,

এখন সময় প্রতিবাদ করার

বোবাদের জন্য দেশ প্রেম না।

বাংলার আকাশ প্রতিবাদে লাল

অনেকে হয়েছে শহিদ ষোলই জুলাই,

তাই বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

প্রিয় প্রেমিকারা তোমার বাবা বা ভাইকে বলো

তারাও যেন রাজপথে নেমে আসে,

সত্যিই যদি সোনার বাংলাকে ভালোবাসে।

“তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!

যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!

কবি নজরুলে কয়,

তাই বলছি যুদ্ধে যাওয়ার সময় হয়েছে

এই আন্দোলন মিথ্যে নয়।

প্রিয় প্রেমিকা 'যদি সত্যি হয় ঐ আকাশ

যদি সত্যি হয় ঐ আকাশের চাঁদ,

যদি সত্যিই ভালোবাসো আমাকে বা তোমাকে

তবে আজই আসতে হবে নেমে রাজপথে।

এখানে বাংলার সূর্য সন্তানেরা লড়ছে—

অন্যায়ের বিরুদ্ধে,

এই আন্দোলন অযুত নিযুত ছাত্র ছাত্রীদের,

তারা স্বপ্ন দেখছে সুন্দর একটি সকালের—

এবং আঁধার পেরিয়ে নতুন সূর্য উঠবে,

সে আলোতে আগামী বাংলাদেশ হাসবে।

জ্বরে আমার চোখ জ্বলছে

যন্ত্রণায় আমার হৃদয় পুড়ছে,

তবু বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

আগুন নেভাতে আগুন হতে হবে,

আগুনে না পুড়লে সোনার মানুষ রবে?

সোনার অলঙ্কার যতই হোক খাঁটি—

তাকে পুড়িয়াই পরিচয় দিতে হয় সোনা নাকি মাটি,

তাই বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না,

সারা শরীর করছে ব্যথা

মাথায় তিব্র যন্ত্রণা।

দেখি নাই বায়ান্ন

দেখি নাই একাত্তর

দেখি নাই স্বৈরাচারের নয় বছরের শাসন

দেখি নাই পচাত্তর,

তবে কি দেখবো না চব্বিশের জয়?

কত আর ঝরবে প্রাণ

হবে বাঙালিরা ক্ষয়!

এই আন্দোলন মিথ্যে নয়

সত্যের হোক জয়।

এই দেশে গনতন্ত্র নেই

 প্রিয় প্রেমিকা,

আমাদের কথা ছিলো পরন্ত এক বিকেলে আকাশ দেখবো,

আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে আমরা হবো একে অপরের,

জুলাইয়ের এক গভীর রাতে আমাদের হবে মহা মিলন,

অথচ তুমি রাজপথে আর আমি কবরে!


প্রিয় প্রেমিকা,

ওরা আমাকে হত্যা করে জানিয়ে দিয়েছে—

এই দেশে গনতন্ত্র নেই,

অথচ আমি জানতাম স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ!


প্রিয় প্রেমিকা,

রক্তে দাসত্ব মিশে গেলে সে শির কখনো মাথা উঁচু করে—

প্রতিবাদ করতে পারে না,

চাইতে পারে না ভাই হত্যার বিচার,

বোন লাঞ্চিত হওয়ার বিচার,

রক্তে দাসত্ব মিশে যাওয়া জাতি দাস ছাড়া আর কি হতে পারে?

জাতি মাইরা খ্যাতি চায়

 এক ছাগলে কত সাধুর করলো মুখোশ উন্মোচন,

তবু না হইলো রে সত্যবাদী মন।

সব শালারা এখনও নিজেরে দাবি করে সাধু,

চুরি হইয়া গেছে রে কৃষক আবুল ভাইয়ের কদু!

বড় গলায় কথা বলে নয়নের জলে,

জাতি মাইরা খ্যাতি চায়!

পা চাটা চামচারা রাজপথে বলে,

ওরাও আবার বড় গলায় ধমক মারে 'ওরাও বলে—

সবাই নাকি রাজাকার! দেশটা নাকি তার বাবার,

জাতি মাইরা খ্যাতি চায়!

আছে জাতি এক গোলকধাঁধায়,

যুদ্ধ করছে কার দাদায়? কার বাবায়?

এক ছাগলে কত সাধুর করলো মুখোশ উন্মোচন,

তবু না হইলো রে সত্যবাদী মন।

সোনার বাংলা ভালো নেই,

ভালো নেই জাতির সন্তানেরা, সবার মধ্যে এখন যন্ত্রণা!

আছে ভালো শুধু ওরা সাধুর মুখোশ পরলো যারা,

ওই ভন্ড, ওই দুর্নীতিবাজ, ওই পা চাটা দালালেরা,

ভালো আছে কোটি টাকার গাড়িতে চড়া মন্ত্রীরা,

শুধু ভালো নেই, ভালো নেই সাধারণ মানুষ যারা,

হায় 'স্বাধীন দেশে পরাধীন নাগরিক আমরা!

এক ছাগলে কত সাধুর করলো মুখোশ উন্মোচন,

তবু না হইলো রে সত্যবাদী মন।

তাই উঠেনি আজ রবি

 কত আর মুখ বুঝে সবি

এবার দেখা তোর প্রতিবাদী ছবি।

জালিমদের অত্যাচারে

কত জীবন যায় ঝরে,

আকাশ তাই লাল হয়ে

অভিমানে বলে

বাংলায় পা চাটা অনেক কবি!

এখন হলুদ সাংবাদিকে

এখন দুর্নীতিতে

ধর্মের লেবাস পরে

ভরে গেছে বাংলায় অনেক ধার্মিক,

ধর্মের দোহাই দিয়ে

লুফে নিতে চায় গদি!

কত আর মুখ বুঝে সবি

এবার দেখা তোর প্রতিবাদী ছবি।

এখন নয়নে আগুন জ্বলে

বুক শব্দ বোমা হয়ে কথা বলে

দাবাইয়া রাখতে চাইলে

শির হয় পারমাণবিক শক্তি,

কত আর মুখ বুঝে সবি

এবার দেখা তোর প্রতিবাদী ছবি।

শোকে আমার মায়ের বুক হয়েছে লাল!

দেখলাম প্রভাত কাল

তাই উঠেনি আজ রবি!

কত আর বোবা হয়ে থাকবি

কত আর দাস হয়ে বাঁচবি,

এবার দেখা তোর প্রতিবাদী ছবি।

বিজয়ের গান

 শুনিতেছি গান উড়িতেছে বিজয়ের নিশান

গাইতেছি হৃদয় দিয়ে বাংলা মায়ের শান ও মান,

সেই এক বেদানার ইতিহাস

মা আমার বীরাঙ্গনা বোন আমার ধর্ষিতা

ভাইয়ের বুকে গুলি, পিতা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে জানে বিধাতা

দিয়ে তাজা প্রাণ এনেছে বাংলার মান

তাই আজ গাইতে পারি বিজয়ের গান।

সেই এক বেদনার ইতিহাস

২৫শে মার্চ রাতের আঁধারে

পাকিস্তানি সৈন্যরা গুলি চালায় বাঙালিদের উপরে,

রক্তে লাল বাংলার আসমান

তবু মুক্তিযোদ্ধারা ছাড়েনি স্বাধীনতার হাল

কৃষক শ্রমিক ছাত্র যুবক মূর্খ সূর্খ, কেউ ছেঁড়া কাপড় পরে

অনেকে আবার দিনের পর দিন না খেয়ে

১৬ই ডিসেম্বর এনেছে বিজয়ের পতাকা

এনেছে বাংলার স্বাধীনতা।

লজ্জা লাগে আজ হৃদয়ে পাই ব্যথা

ভুলে গেছে এই জাতি একাত্তরের কথা,

টাই কোর্ট পরে কলমের খোঁচায়

দুর্নীতিতে মগ্ন শিক্ষিত সমাজ হায়!

একাত্তরে মূর্খরা করেছিল বাংলা মাকে মুক্ত

আজ শিক্ষিত সমাজ দুর্নীতিতে হয়েছে যুক্ত!

বাংলা মায়ের সম্পদ পাচার করে বিদেশের মাটিতে

ভুলে সেই বেদনার ইতিহাস

কত সাধনার ফলে পাওয়া বাংলার স্বাধীনতা যে।

ভয় পেয়ো না

 আলো আসছে

আলো জ্বলছে

আলো হাসছে

আলো ডাকছে,

বন্ধু তুমি অন্ধকার দেখে—

ভয় পেয়ো না।

ওরা আমার মেধা কাইরা নিতে চায়

 বায়ান্নতে জীবন দিছে রফিক চব্বিশে জীবন দিছে কতজনে একি,

ইতিহাস ঘুরে-ফিরে আসে জানো নাকি?

কারবালার রক্ত বাংলার জমিনে,

দিয়েছে জীবন হয়েছে শহিদ নরপিশাচদের গুলিতে!

কোথায় বড় বড় কবি, লেখক, সেলেব্রিটি আর মানবতার ফেরিওয়ালারা?

আমার ভাই বোনদের রক্তে রঞ্জিত সোনার বাংলা।

ওরা কোটা দিয়ে ডুবাচ্ছে দেশ, হচ্ছে সোনার বাংলা শেষ

ওরা মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙিয়ে চলছে অনাদিকাল,

তাই বুঝি আজ বাংলার আকাশ প্রতিবাদে লাল!

ওরা ক্ষমতার জন্য অন্ধ হয়ে গেছে, মনুষ্যত্ববোধ বিক্রি করে খায়।

ওরা আমার মেধা কাইরা নিতে চায়!

জান দিয়ে মান কেনা বাংলাদেশ ভালো নেই,

নরপিশাচরা খামচে ধরেছে মেধাবীদের লাল সবুজের পতাকা।

অন্যায়ের কাছে ইমাম হোসাইন হয়নি নতো,

দিয়েছে জীবন থেকেছে সত্যের পক্ষে জানে বিশ্ব।

হে বাংলার সূর্য সন্তানেরা তোমাদেরই হবে জয়,

ভুলো না বায়ান্নর আন্দোলন একাত্তরের ইতিহাস

তোমরা ছাত্র সমাজ ভয়কে করো জয়, তোমাদের নেই ভয়।

সে কত ভাগ্যবান

 আকাশে জমেছে মেঘ  বৃষ্টি হবে বলে  সে কত ভাগ্যবান  ভিজেছে তোমার জলে,  আমি হয়তো পথের ধূলো  পথে ঘাটে উড়ে  এখানে সেখানে থেকেছি পড়ে  কেউ নেয়নি তু...