শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪

সবাই সেজেছে সরকার

 এইযে দেখো মানুষগুলো কেমন হয়ে যাচ্ছে

হিংস্র বাঘের মতো একে অপরকে মারছে,

ছাত্র নয় যেন হিংস্র কোনো দানব!


মেট্রোরেলে রোজ সকালে দেখি কত ঘটনা

লিখেছি দেখো আজ সকালের ছোট্ট একটি বর্ণনা,

দুটি লোক অশ্লীল ভাষায় একে অপরকে গালি

বাকি লোকেরা হাসছে আবার কেউ দিলো তালি!


এক মহিলা বলল তখন

ঝগড়া করুন ইচ্ছে মতন,

করুন ঝগড়া মেট্রোরেলের বাহিরে।

ঠিক তখনই আরেকটি পুরুষ বলল

আপনি কেনো এই বগিতে,

মহিলার বগিতে গিয়ে দেন জ্ঞান

বুঝলাম তখন এই জাতির নেই আর মান।


ক্ষমতা, অর্থ, ধন, সম্পদ, গাড়ি বাড়ি হায়

ধ্বংস করেছে মনুষ্যত্ববোধ,

মানুষ গেলো কোথায়?


কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না একবিন্দু আর

দেশটায় এখন চলছে কি গুরু,

সবাই সেজেছে সরকার!

মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৪

চিঠি: প্রিয় অসুখ

 একজীবনে সব পেতে নেই একজীবনে সব পেলে না পাওয়ার হাহাকার মরে যায়, 

তবু এই মন কিছু না কিছু পেতে চায়, মন আছে বলে সে কিছু চায়, 

তার চাওয়া পাওয়া নিয়ে হাসিঠাট্টা করার কিছু নেই। 

প্রিয় অসুখ, 

তুমি কেমন আছো? 

আমি ভালো নেই, বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ আমি। 

ডাক্তার দেখিয়েছিলাম ডেঙ্গু পরীক্ষা সহ চারটা পরীক্ষা করিয়েছি 

তিনটার রিপোর্ট হাতে পেয়েছি ডেঙ্গুর রিপোর্টগুলো ভালো, 

এসজিপিটি’র রিপোর্টটা খারাপ এসেছে তবে ভয়ের কারণ নেই বলে ডাক্তার আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছে, 

বলেছে নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ঠিক হয়ে যাবো। 

আমার খারাপ রিপোর্টের কথা শুনে আম্মু কেঁদেছিল খুব। 

প্রিয় অসুখ, 

বিশ্বাস করো আমার একটুও মন খারাপ হয়নি। 

আমি তো মানুষ রোগ আমার হতে পারে এতে ভয় পাবার কী আছে, 

মৃত্যু যদি লেখা থাকে আমার যে এই ভাবে মৃত্যু হবে তো হোক। 

এই নিয়ে বিন্দু পরিমান আমি চিন্তিত নই, 

বিধাতার বিধান সবারই একদিন মরতে হবে। 

প্রিয় অসুখ, 

আমি একদিন ‘বুক ভরা অভিমান নিয়ে এই পৃথিবী থেকে চলে যাবো না ফেরার দেশে, তুমি ভালো থেকো। 

প্রিয় অসুখ, 

আমি কাদেরকে এত ভালবাসলাম! 

যে মানুষগুলো সম্মান দিতে দিতে হাত, মাথা, নত করে 

তারাই আজ আমার অসুখের কথা শুনে আমাকে একনজর দেখতেও আসেনি। 

প্রিয় অসুখ, 

আমি এখন ভালো আছি, কেননা এই মানুষগুলোকে চিনতে পেরে। 

তুমি যদি আমায় আরও আগে ছুঁতে তাহলে মনে হয় আমার জন্য ভালো হতো, 

এই স্বার্থবাদী মানুষগুলোকে আরো আগে চিনতে পারতাম। 

প্রিয় অসুখ, 

মানুষ চিরকাল থাকেনা আমিও থাকবোনা একদিন যেতে হবে পৃথিবী ছেড়ে, তাই এই কথাগুলো লিখে গেলাম। 

‘বন্ধুরা তোমরা যাদেরকে তোমার বন্ধু মনে করো 

আসলে সবাই-ই তোমার বন্ধু না, আর ফেসবুকে যারা লাভ রিয়েক্ট দেয় 

সবাই-ই তোমাকে ভালোবাসে না, তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি নিজে। 

প্রকৃত অর্থে এই মিছে মায়ার সংসারে দুইটি মানুষ বন্ধু হয়, বাবা আর মা। 

এই দুজন মানুষ ছাড়া, যারা তোমার পিছে ছুটে সবাই স্বার্থের প্রয়োজনে।’ 

প্রিয় অসুখ, 

তুমি আমাকে ছুঁয়েছো বলে আজ আমার চোখ পরিস্কার, 

নয়তো মানুষগুলোকে চিনতে পারতাম না। 

প্রিয় অসুখ, 

না ফেরার দেশে হয়তো আমি অনেক ভালো থাকবো নয়তো কষ্টে, 

তোমরা সবাই ভালো থেকো। 

প্রিয় অসুখ, 

আমার কথাগুলো শুনে দুঃখ নিওনা তুমি, 

এটা আমার দুঃখ কারণ এই পৃথিবীর মানুষগুলোকে খুব ভালোবাসি। 

তুমি অধিক দামি

 তোমার একটা শাড়ির মূল্য আমার একমাসের সেলারি 

তাই বাঁধতে পারিনা তোমার সাথে আমার ঘরবাড়ি, 

যদি তুমি ছাড়তে পারো তোমার বাবার দামি বাড়ি গাড়ি 

তবে তুমি এসো আমার হৃদয়ঘরে বাঁধবো দু’জনে দুঃখসুখের বাড়ি, 

নয়তো তোমায় বাসি ভালো ভালোবাসাতেই থাকো 

আমার চেয়ে বেটার পেলে কাউকে তার সাথে ঘর বাঁধো। 

তোমার বাবা ধনী মানী খাওয়ায় তোমায় চাইনিজ 

ইচ্ছে হলেই যখন খুশি দিতে পারো বিদেশে পারি ইস্! 

আমার সাথে বাঁধলে ঘর খেতে হবে পান্তা 

কষ্ট পেয়ে বলতে পারবেনা প্রিয় দুঃখেভরা জীবনটা। 

তুমি যদি সুখে থাকো আমি হবো সবার চেয়ে সুখী 

কারণ আমার কাছে আমার চেয়ে তুমি অধিক দামি, 

তাই বাসি ভালো ভালোবাসাতেই তুমি থাকো 

দুঃখগুলো আমায় দিয়ে তুমি সুখের সংসার আঁকো। 

তোমার একটা শাড়ির মূল্য আমার একমাসের সেলারি 

তাই বাঁধতে পারিনা তোমার সাথে আমার ঘরবাড়ি, 

যদি আবার জনম পাই নেবো জন্ম ধনীর ঘরখানায় 

নয়তো তুমি এই জন্মেই এসে বেসো ভালো আমায়, 

ছিলাম আছি প্রেমিক হয়ে আছি তোমারি 

আমার চেয়ে বেটার পেলে কাউকে তার সাথে বাঁধো ঘর সে প্রার্থনা করি। 

সেলেব্রিটির নেশা

 ১. 

কারো টাইমলাইন দেখে 

চরিত্রবান সার্টিফিকেট দিয়েন না, 

মেসেঞ্জার চেক করে 

চরিত্রবান সার্টিফিকেট দেন। 


২. 

সবাই সেলেব্রিটি হচ্ছে 

মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে। 

প্রিয় মন, তুমি মানুষ হইও 

মানুষের বড্ড প্রয়োজন। 


৩. 

বিদেশি কুকুর বিড়ালও 

সেলেব্রিটি হতে পারে হয়, 

মানুষ হওয়াটা বড় বিষয় 

সেলেব্রিটি নয়। 


৪. 

বড় হয়ে তুমি কি হবে? 

বড় হয়ে আমি মানুষ হবো। 

ক্যান? 

মানুষ গুলো অমানুষ হয়ে যাচ্ছে তো তাই। 


৫. 

মানুষ যখন অমানুষ হয়ে যায় 

তখন বনের পশু লজ্জা পায়, 

কারণ বহু ভাগ্যের ফলে মানব জনম মিলে। 

মরি বাঁচি তোমারি আছি

 মরণ আমায় আর কতটুকু ছুঁইবে 

আগুন আমায় আর কতটুকু পোড়াবে, 

যে মরণ আমি মরে গেছি তোমারও তরে 

যে আগুন জ্বলছে আমার হৃদয়ও ঘরে, 

তার চেয়ে আর কি তুমি শুধু বাকি 

পেতে তোমায় আমার ঝরে দু’আঁখি। 

যা ছিলো দিয়েছি তোমারও তরে 

বিনিময়ে জ্বালার মালা গেঁথেছি হৃদয়ে, 

যদি বেসে থাকো ভালো 

তুমি চোখে জল এনো না গো, 

বাসি ভালো বাসবো তোমায় মরণেরও পরে। 

আগুন আমায় আর কতটুকু পোড়াবে 

হয়তো বা পুড়িয়ে করবে ছাঁই 

সে ছাঁইও দেখবে বলবে তোমাকে তোমার ভালোবাসা চাই, 

আমার আছেটা কি যা ছিলো নিয়েছ সবই 

প্রিয় যা দেখো আমি নই 

তুমি প্রাণ আমি মাত্র দেহ হই। 

মরণ আমায় আর কতটুকু ছুঁইবে 

যে মরণ আমি মরে গেছি তোমারও তরে। 

তোমার চোখের কোণে বৃষ্টি হয়ে ঝরবো 

ফুল হয়ে তোমার বেলকনিতে ফুটবো, 

কবি হয়ে জন্ম নেবো ডায়রির পাতায় 

সময় পেলে পড়ে দেখো কত ব্যথা আমায়। 

ভালো থাকো সুস্থ থাকো করি শুভ কামনা 

বাসি ভালো বাসবো তোমায় আমি আর কারো না, 

তোমারি ছিলাম তোমারি আছি মরি আর বাঁচি 

বাসি ভালো বাসবো তোমায় মরণেরও পরে প্রেয়সী। 

বিশ্বজয়

 মুখ চাঁদের মত হাসে চাঁদের মত 

মন আলোকিত শিশুদের মন আলোকিত। 

হাসে তারা বলে কথা 

ঘুচে দেয় মনের ব্যথা, 

চাঁদের মুখে চাঁদের কথা। 

শিশুদের মাঝে বিধাতার 

ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে, 

শিশুদের বাসলে ভালো 

মনে পাবে শান্তি, থাকবে তুমি ভালো। 

অহংকারী মানুষ কী শিশুদের মন বুঝে 

কোনো শিশু অপরাধী হয়ে জন্মায় না যে। 

শিশুদের বাসো ভালো 

পাবে তুমি ভালোবাসা, থাকবে তুমি ভালো। 

নয় অবহেলা নয় 

শিশুরাই করবে বিশ্বজয়। 

পথের শিশুরা আগামীর নক্ষত্র তখনই হবে 

যখন তাদের হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে

হাতে খাতা কলম তুলে দেয়া যাবে। 

মুখ চাঁদের মত হাসে চাঁদের মত 

শিশুদের মন আলোকিত মন আলোকিত। 

হাসে তারা বলে কথা 

ঘুচে দেয় মনের ব্যথা, 

চাঁদের মুখে চাঁদের কথা। 

যদি আমি কবি হতাম

 যদি আমি কবি হতাম 

নিজেকে কবিত্ব শেখাতাম। 

এই কী কবিদের দুর্দশা 

যা ইচ্ছে লিখে যাচ্ছে শব্দ কথা 

বাস্তবমুখী নেই কথাবার্তা, 

এদের কবিতা পড়ে পাচ্ছি ব্যথা। 

যদি আমি কবি হতাম 

নিজেকে কবিত্ব শেখাতাম। 

কবি তুমি কবিতা লিখো 

খ্যাতি লাভের লাগি, 

জানুক তোমার পরিচয় 

তবে তুমি লোভী! 

যদি আমি কবি হতাম 

নিজেকে কবিত্ব শেখাতাম। 

মারি লাথি খ্যাতির পাছায় 

করি সাহিত্য সাধনা, 

নিজের অন্তরে আসুক প্রেম 

আসুক মানবতা, 

ছড়িয়ে যাক বিশ্বে বাস্তবমুখী কথা। 

মিথ্যে লিখে কবি হওয়া যায় 

সাহিত্য প্রেমিক নহে বেটা, 

যদি আমি কবি হতাম 

নিজেকে কবিত্ব শেখাতাম 

কবিত্ব শেখাতাম 

যদি আমি কবি হতাম। 

পশু নয় পশুত্ব দমন করো

 ভোগে ব্যস্ত সকলে 

ত্যাগের মহিমা বোঝে কজনে, 

পশু জবাইয়ে হয় কী কুরবানি 

যদি না নিজের পশুত্ব দমন করো তুমি। 

করলে না দমন আমিত্ব 

হলে না মন তুমি শুদ্ধ, 

লোভ-লালসায় মত্ত 

তোমার মধ্যে পশুর চরিত্র! 

পশু জবাইয়ে হয় কী কুরবানি 

যদি না নিজের পশুত্ব দমন করো তুমি। 

ইব্রাহিম নবি কুরবানি দিয়েছে 

নিজের প্রিয় ধন, 

তুমি কুরবানি দিয়েছো কী? 

শুদ্ধ হলে না তুমি মন। 

পরের ধন মেরে কিনলে তুমি গোরু কিংবা খাসি 

হজ্জে গেলে খোদাকে করতে খুশি, 

পবিত্র কাবার মালিকের কসম 

পবিত্র কাবাই বলে, আমি পাপী তুমি তার কারণ 

তুমি শুদ্ধ হলে না মন। 

জবাই হওয়া পশু বলে 

ফ্রিজে রাখলে আমায় কী কারণে, 

ভিখারি তোমার ঘরের দুয়ারে এসে— 

ফিরে যায় খালি হাতে। 

ভোগে ব্যস্ত সকলে 

ত্যাগের মহিমা বোঝে কজনে, 

ইব্রাহিম নবি কুরবানি দিয়েছে 

নিজের প্রিয় ধন, 

এমন কুরবানি আজ দেয় কজন! 

পশু জবাইয়ে হয় কী কুরবানি 

যদি না নিজের পশুত্ব দমন করো তুমি। 

নবীন প্রবীণ

 যারা লেখক কবি 

অনেক মেধা, কেউবা টাকা খরচ করে বই গড়ি। 

আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান 

টাকা দিয়ে বই কিনে তাদের পাশে দাঁড়ান। 

ফ্রিতে বই চেয়ে দিয়েন না কেউ লজ্জা, 

আপনার না থাকতে পারে লজ্জা 

আমার যায় মাথা কাটা। 

রক্তকে করে পানি 

মাথার ঘাম পায়ে ফেলি, 

আপনাদের ভালোবাসা পেতে সব ছেড়ে এসেছি সাহিত্য জগতে। 

পাঠকরাই একদিন হয় লেখক 

নবীনরা হয় প্রবীণ, 

ভুলে যাবেন না সবারই আসে সুদিন। 

আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান 

টাকা দিয়ে বই কিনে তাদের পাশে দাঁড়ান। 

মরে গেলে আদর করলে 

লাভ নেই, পাওয়া যায় না কিছু 

বেঁচে থাকতে যোগ্য মানুষকে দেন প্রাপ্ত সম্মানটুকু। 

অন্ধের দেশে

 ১.

মূর্খ সূর্খ মানুষ বাপু ধর্মের এত বাণী 

তোমাদের এত জ্ঞান বুঝি না আমি। 

কুরআন পড়তে জানি না 

বেদ পড়তে জানি না 

বাইবেল পড়তে জানি না 

ত্রিপিটক পড়তে জানি না, 

গ্রন্থের চেয়ে মানুষ বড় মানুষ মানি। 

কী হবে ধর্মের এত বাণী দিয়ে 

কী হবে তোমাদের এত জ্ঞান নিয়ে? 

মানুষ যদি মানুষ না হয় এই ভবে। 

গফুর মণ্ডল বাড়িভাড়ার লাগি 

ফাটিয়েছে মাথা ভেঙেছে হাত 

রিকশাচালক জসিম মিয়ার ঘরেতে নাই ভাত, 

শিশু শ্রমিক সবুজের অনাহারে দিন কাটছে 

কী হবে বাপু ধর্মের এত বাণী দিয়ে? 

যারা বলে অভাবে নেই কেউ 

তাদের কানে পৌঁছায় না— 

এই মানুষগুলোর কষ্টের কথা, কান্নার ঢেউ। 

আছে যাদের বেশি 

বাড়িভাড়া মওকুফ করলে কী হয় ক্ষতি? 

ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব রাষ্ট্রপ্রধান দিয়েছে যাদের হাতে 

একশোর মধ্যে নিরানব্বই জনই চোর এই দেশে। 

অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করতে এসে 

মার খেয়েছে চশমা বিক্রেতা অন্ধদের হাতে! 

লেজ ছাড়া কুকুরগুলি পেয়ে ক্ষমতা আর দায়িত্ব 

হত্যা করছে মানবতা হাসিল করছে নিজ স্বার্থ। 

কী হবে তোমাদের এত জ্ঞান নিয়ে 

আমি তো মূর্খ সূর্খ মানুষ অন্ধের দেশে। 


২. 

দিচ্ছে পরিচয় মনুষ্যত্বের 

হচ্ছে জয় মানবতার, 

তোমরা যাদের ডাক্তার বলো 

তোমরা যাদের সাংবাদিক বলো 

তোমরা যাদের সেনাবাহিনী বলো 

তোমরা যাদের পুলিশ বলো 

বলো সেচ্ছাসেবী, 

তাদেরকে আমি মানুষ বলি 

শ্রদ্ধা সম্মান করি। 

দিন আনে দিন খায় 

যে মানুষগুলি 

তাদের হক মেরে খেয়ে 

হচ্ছে যারা ধনী, 

তাদেরকে তোমরা মানুষ বলো! 

আকৃতিতে মানুষ হলেও 

চরিত্রে ওরা পশু দেখি। 

তোমরা যাদের ডাক্তার বলো 

তোমরা যাদের সাংবাদিক বলো 

তোমরা যাদের সেনাবাহিনী বলো 

তোমরা যাদের পুলিশ বলো 

বলো সেচ্ছাসেবী, 

তাদেরকে আমি মানুষ নাহি বলি 

মানুষ আকৃতি থাকলেই 

সবাই মানুষ হয় কী? 

মূর্খ সূর্খ মানুষ বাপু ধর্মের এত বাণী 

তোমাদের এত জ্ঞান বুঝি না আমি, 

গ্রন্থের চেয়ে মানুষ বড় মানুষ মানি। 

আমি মানুষ মানুষ জপি 

মানুষের জন্য লড়ে যে 

তার পূজা করি, 

তোমরা যাদের মানুষ বলো 

তাদেরকে আমি পশু বলি। 


৩. 

পাঁচকেজি চাল এককেজি তেল 

আর আধাকেজি ডাল দিয়ে 

ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলেন আপলোড 

মধ্যবিত্তকে ফকির বানিয়ে, 

হায়রে লোকদেখানো ত্রাণ 

লজ্জায় কাঁদে প্রাণ। 

অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করতে এসে 

মার খেয়েছে চশমা বিক্রেতা অন্ধদের হাতে! 

যে জাতির রক্তে দুর্নীতি মিশা 

সে জাতিকে নিয়ে কবি কত আর লিখবি কবিতা। 

মাটির নিচে চাল 

খাটের নিচে তেল, 

কারে বলবি এই কথা 

মানবতার ধর্ষক! সাজে ভালা, সব চোর শালা। 

ক্ষুধার জ্বালা বড় জ্বালা 

কারে দেখাবি মন এই দুঃখের মালা, 

লোকদেখানো ত্রাণ দেয়া কী ভালা? 

পেটে ক্ষুধার জ্বালা। 

যে জাতির রক্তে দুর্নীতি মিশা 

সে জাতিকে নিয়ে কবি কত আর লিখবি কবিতা। 


৪. 

মন মানুষের চরিত্রের দেখি দুর্দশা! 

কুকুর বুঝে কুকুরের ভাষা 

মানুষ হইয়া মানুষের ভাষা বুঝলি না, 

ওরে মানুষ মানুষ হইলি না 

মানব কুলে জন্ম নিলি মানুষ চিনলি না। 

বাড়িভাড়ার লাগি দুধের শিশুকে-সহ মধ্যরাতে ঘর ছাড়া করলি 

করোনা রোগী বলে ঘরে ঢুকতে নাহি দিলি 

জানাজার নামাজে জনসমুদ্র বানালি 

করোনার এই দিনে পা কেটে আনন্দ মিছিল করলি, 

ওরে মানুষ মানুষ হইলি না 

মানব কুলে জন্ম নিলি মানুষের মর্ম বুঝলি না। 

ওরে মানুষ আদর্শলিপি পড়লি 

হৃদয়ে আদর্শ ধারণ নাহি করলি 

মানুষ হইয়া মানুষের ভাষা শিখলি না। 

কারে বলবো মানুষ ‘শোন ওরে শোন।’ 

তুই মানুষ হইলি নারে পাপী মন। 

মানব কুলে জন্ম নিলি মানুষের মর্ম বুঝলি না। 

কলা আর মুড়ি খেয়ে কত মানুষ কাটায় দিন। 

শোধ করতে পারছিস-নি তোর মায়ের বুকের দুধের ঋণ! 

মন বিবেকের আদালতে প্রশ্ন রেখে বলি 

মানুষ হইয়া এই মানুষের জন্য, গর্ভধারিণী মায়ের জন্য কী করলি? 

যে জাতির রক্তে দুর্নীতি মিশা 

সে জাতিকে নিয়ে কবি কত আর লিখবি কবিতা। 

কুকুর বুঝে কুকুরের ভাষা 

মানুষের চরিত্রের দেখি দুর্দশা! মন তুই মানুষ হইলি না। 


৫. 

হিন্দু হইলি মুসলিম হইলি 

হইলি বৌদ্ধ খ্রিস্টান, 

মানুষ হইয়া মানুষের না গাইলি গান 

মানুষ যদি না বাঁচে ধর্ম করবে কে? 

গ্রন্থের চেয়ে মানুষ বড় মানুষ বাঁচা আগে। 

থালায় ফুল সাজিয়ে করিস যত পূজা 

মসজিদ ঘরে বসে যতই জপিস আল্লা, 

আসবে না তোর কোনো কাজে— 

মানব সেবা না করলে যে। 

ওরে মানুষ মানুষ হইলি না 

মানব কুলে জন্ম নিলি মানুষ চিনলি না 

মানুষের মর্ম বুঝলি না। 

রক্ষক হইয়া ভক্ষক হইলি 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেই মদ বিক্রি করলি! 

মনুষ্যত্ব নাইরে তোর লোভী তুই অর্থে 

মানুষ হইয়া মানুষ মারলি নিজ স্বার্থে। 

ওরে মানুষ, বনের-পশু লজ্জা পায় দেখে তোদের কর্ম। 

কুকুর বুঝে কুকুরের ভাষা 

মানুষ হইয়া মানুষের ভাষা বুঝলি না, 

আদর্শলিপি পড়লি তুই 

আদর্শ মানুষ হইলি না। 

ওরে মানুষ মানুষ ধরলি না 

মানুষ হইয়া মানুষের মর্ম বুঝলি না, 

মানুষ যদি না বাঁচে ধর্ম করবে কে? 

গ্রন্থের চেয়ে মানুষ বড় মানুষ বাঁচা আগে। 

এই দুনিয়া দুনিয়া নয়

 গরীবের ধন মাইরা খাইয়া ধনী তুই হইলি 

মানব চরিত্র নষ্ট কইরা পশুর চরিত্র ধারণ করলি, 

মতের অমিল হইলে জেলে আমায় দিবি 

দুর্নীতি কইরা কত আর খাবি? 

এই দুনিয়া দুনিয়া নয় আরেক দুনিয়া আছে 

সে দুনিয়ার হিসাব নিকাশ খোদায় করতাছে। 

কত জ্ঞাণী-গুণী লেইখা গেছে এই জাতির কথা 

তবু স্বভাব ঠিক হইল নারে ব্যাটা, 

বুঝবি মন মানবজনম যেদিন হারাবি 

গাড়ি বাড়ি ধন সম্পদ কবরে নাহি নিতে পারবি, 

সেদিন নাহয় অধমেরে আবার গালি দিস 

তবু মন মানুষ হইয়া তুই মরিস। 

ইদের আনন্দ

 ঘরে ঘরে আয়োজন 

নানা বাহারে সাজে মন 

আকাশে চাঁদ উঠলো হেসে 

হৃদয় আনন্দে ভাসে, 

খোকা খুকি নাচে 

ইদের খুশিতে 

ইদের খুশিতে। 

নতুন জামা কাপড় পরে 

মুসলিম ঈদগাহ ময়দানে 

কাঁধে কাঁধ মিলায় 

করে নামাজ আদায়। 

কোরমা পোলাও কত কি 

খাবে ধনী জ্ঞানী 

গরীবের খবর নিলো কি! 

শোনো ধনী পারো যদি 

বিলিয়ে দাও গরীবের মাঝে 

তোমার ধনের কিছু অংশ খানি, 

রেখে হাত হাতে 

চলো এক সাথে 

তবেই ইদের আনন্দ ছড়িয়ে 

যাবে সকলের মাঝে 

ইদের খুশিতে 

ইদের খুশিতে। 

অমুক ভাই তমুক ভাই

 চারিদিকে ভাই আর ভাই 

ভাইয়ের সেলাম নিতে নিতে কান আর কানের জায়গাতে নাই! 

অমুক ভাই তমুক ভাই, ভাই আর ভাই। সবাই কী ভাই? 

অভিভাবক বানিয়েছে ভাইকে, ডাকে ভাই। 

বাবা মায়েরটা খেয়ে বড় হয়েছে— সে কথা মনে নাই! 

অভিভাবক এখন ভাই, থাকবে তো সেদিন পাশে? 

যেদিন (মেয়র, কমিশনা, এমপি, মন্ত্রী) ভাই হবে। 

এখনও সময় আছে নিজের চরকায় তেল দাও। 

নিজের ঢোল নিজে বাজাও— 

ভাইকে দিলে ঢোল, ভাই কিন্তু ঢোল ফাটিয়ে ফেলবে! 

তখন কিন্তু কিচ্ছু করার নাই। 

অমুক ভাই তমুক ভাই 

ক্ষমতা পাইলে তুমি আছ, ভাই কিন্তু তোমার পাশে নাই। 

যতদিন আছ, ডাল ভাত খেয়ে বাঁচো। 

অমুক ভাই তমুক ভাই 

পঁচিশ চব্বিশ বছর বয়সে দেখেছি কত ভাই, 

ক্ষমতা শেষ হলে ভাই আর গদিতে নাই! 

সেদিন তোমার কী হবে ভাই? 

চরিত্র

 শিয়াল বলে সবার কাছে আঙ্গুর ফল টক 

তাই বলে খাওয়া ছেড়েছে মুরগি বেপারী র’ফ! 

শুধু পাপিয়া পাপী, আমরা সাধু কেউ করিনি পাপ, 

স্বার্থের দায়ে অনেকেই পাপনকে ডাকে বাপ! 

ফেইসবুকেতে ঝড় উঠেছে গালি আর হাত তালি 

আবার কেউ দ্বীন প্রচারে সেজেছে বড় ওলী। 

ধর্ম নিয়ে বারাবারি নিষেধ সর্বকালে 

যার নাই চরিত্র সে গেছে রসাতলে, 

তুমি কী মন শুদ্ধ হয়েছ মিথ্যাচারের একালে! 

নাকি নিজেকে জড়িয়ে রেখেছ শুধু মিথ্যার জালে। 

কে পাপী, কে সাধু, জানে তা স্বয়ং প্রভু 

ভারতবর্ষে যা হচ্ছে আজ তা মানুষে চায়নি কভু। 

যদি মন্দির মসজিদ ভাঙায় হয় ফরজ 

তবে মন জন্ম তোমার জারজ! 

কুকুর বেড়াল ভালোবাসি, এই মানুষদের নয় 

হোক মনুষ্যত্বের জয়। 

ধর্ম নিয়ে বারাবারি নিষেধ সর্বকালে 

যার নাই চরিত্র সে গেছে রসাতলে। 

সততা

 কর্ম করে খাও তুমি 

ধর্ম তো বেচো না, 

যে কর্মই করো তুমি 

বলতে ক্যান লজ্জা পাও মনা? 

সৎ পথে কর্ম করলে 

বলতে ক্যান লজ্জা তবে, 

কর্ম করে খাও তুমি 

ধর্ম তো বেচো না। 

তাদের নাই কোনো ধর্ম 

যাদের নাই সৎ কর্ম, 

কর্মই ভাই ধর্মের মূল ধর্ম। 

সঠিক পথে গায়ের রক্ত 

হয় যদি ভাই পানি 

তোমার চোখের জল 

সব থেকে দামি, 

সেই দামি চোখের জল 

ফেলো না ভাই অর্নগল। 

তুমিই সত্য ভাই, সৎ মানুষ 

ধর্ম তো বেচো না, 

কর্ম করে খাও তুমি 

বলতে ক্যান লজ্জা পাও মনা? 

সৎ পথে গায়ের রক্ত 

হয় যদি ভাই পানি 

তুমি সবার থেকে দামি। 

পায়ে পরি চামড়ার জুতো

 সেলিব্রিটির নেশায় আসক্ত যুবসমাজ সই 

গাধায় ভরে গেছে দেশ, গাধাদের কথা কই। 

অধম আমি হতে পারি সেলিব্রিটি নই, 

পায়ে পরি চামড়ার জুতো নয়শো পঞ্চাশ টাকা সই। 

হতে টিকটক সেলিব্রিটি, ফেসবুক সেলিব্রিটি, 

কত কিছুই করে দেখি। 

এ বড় না, ও বড়, জনপ্রিয়তার জন্য 

কমেন্টে পাড়া দিয়ে করে ঝগড়া! নাই মান্যগণ্য। 

না বোঝে লাইক আর শেয়ার 

রাস্তাঘাটে পিটানো খায় ভাইবেরাদার। 

কথা নিয়ে খেলা করি, মানুষ নিয়ে নয়। 

মানুষ হতে পৃথিবীতে এসেছি, সেলিব্রিটি অনেকেই হয়। 

সেলিব্রিটির অর্থ কি জানিস নাকি সই? 

অধম আমি হতে পারি সেলিব্রিটি নই। 

পিতা মাতার স্বপ্ন সন্তান মানুষের মতো মানুষ হবে, 

মনুষ্যত্ব যদি যায় হারিয়ে সেলিব্রিটি দিয়ে কি হবে? 

জনসংখ্যা বাড়ছে ঠিকই মানুষ বাড়ছে না, 

সেলিব্রিটি হচ্ছে সবাই মানুষ হচ্ছে না। 

গাধায় ভরে গেছে দেশ, গাধাদের কথা কই 

পায়ে পরি চামড়ার জুতো নয়শো পঞ্চাশ টাকা সই। 

প্রেমের ভাণ্ডার

 প্রেম এতটাই মধুময় যে 

শত আঘাতেও সে হাসে 

পেয়ে দুঃখ ঘৃণা বেদনা 

তবু সে প্রিয় মানুষের চায় শুভ কামনা। 

অভিমানি মন দুঃখে ভরা জীবন 

পায়নি রংধনুর দেখা 

লক্ষ মানুষের ভিড়ে সে একা। 

প্রেম এতটাই মধুময় যে, হেসে বেড়াচ্ছে 

নিয়ে মেঘ ভরা হৃদয় আকাশে। 

ভালোবাসাই তার ধর্ম 

নাই সাধন নাই কর্ম 

সে অপরাধে দেয় যদি শাস্তি 

মাথা পেতে নিতেও সে রাজি। 

কত প্রেমিক প্রতারক হয় 

ললনা হয় ছলনাময়, 

দেখেছি দু’নয়নে 

প্রকৃত প্রেমিক প্রেমিকার প্রেমের ভাণ্ডার ফুরায় না ত্রিভুবনে। 

অপরূপ

 তুমি ফুল নও 

নও ফুলেরও কলি 

তুমি অপরূপ 

বিধাতার সৃষ্টি। 

দুঃখ সুখের চাদর

 বিশাল এক রোগ জমেছে বুকের বাঁ’পাশে 

থাকে না ভালো এক মুহূর্ত সে তুমি না থাকলে পাশে 

খায় না খাবার কয় না কথা অভিমান পুষে 

বিশাল এক রোগ জমেছে বুকের বাঁ’পাশে। 

যদি লিখতে পারতাম কবিতা, গাইতে পারতাম গান 

প্রতিটি দিন শুধু তোমার জন্য রাখতাম 

দিনটি বানাতাম গানের আসর 

রাতটি হতো কবিতার বাসর 

দুইয়ে মিশে যেতাম গায়ে দিয়ে দুঃখ সুখের চাদর। 

ও-সই আমিও নিরাপদে নই

 এই দুনিয়ার মানুষ আমি, এই দেশের মানুষ নই। 

এই দেশের মানুষ যদি আমি হই, তবে কেনো ধর্ষণের শিকার হই? 

নারী হয়ে জন্ম নেয়া কী ভুল? অঝোরে ঝরে যায় সাজানো ফুল! 

এই দুনিয়ার মানুষ আমি, এই দেশের মানুষ নই। 

নির্যাতনের শিকার হয়েছে কত শিশু, ধর্ষণ হয়েছে নাম না জানা কত মেয়ে 

কত নারী, কত কিশোরী, কেউ কী সে খবর লই? 

এই দুনিয়ার মানুষ আমি, এই দেশের মানুষ নই। 

প্রচার হয় দৈনিক খবরের কাগজে ধর্ষণের কথা। 

আমার কথা কারে কই, এই কথা কারে কই?  আমরা নারী নিরাপদে নই! 

নারীর গর্ভে জন্ম আমার, এই কথা যাই আমরা ভুলে, 

মাথায় করে রাখবো তাদের রাখবো অন্তরে। 

জানোয়ারগুলো যদি জানতো নারীর গর্ভে ওদের জন্ম 

হয়তোবা তবে বুঝতো নারীর মর্ম, 

আসলে ওরা মানুষ নয়, লেজ ছাড়া কুকুর 

বনের-পশু পায় লজ্জা, দেখে ওদের কর্ম! 

ধর্ষকের শাস্তি প্রকাশ্যে হোক মৃত্যুদণ্ড। 

ঝোপের মধ্যে পড়ে ছিল ঢাবি ছাত্রীর বই-ঘড়ি-ইনহেলার! 

ও-সই যখন তখন আমিও তার মতো হতে পারি 

কখন জানি ধর্ষণের শিকার হই! আমিও নিরাপদে নই। 

নারীর গর্ভে জন্ম আমার, ক্যান যে যাই আমরা ভুলে! 

তারা তো আমাদেরই (মা বোন) আত্মীয় স্বজন, 

এই কথা কারে বোঝাই, আমরা নারী নিরাপদে নাই যে। 

এই দুনিয়ার মানুষ আমি, এই দেশের মানুষ নই। 

এই দেশের মানুষ যদি আমি হই, তবে কেনো ধর্ষণের শিকার হই? 

ধর্ষকগুলো দেখতে মানুষেরই মতো 

আসলে ওরা মানুষ নয়, লেজ ছাড়া কুকুর। 

টু জিরো জিরো টু

 ছোট ভুল বড় ভুল 

কতনা ভুল এ-জীবনে, 

আমি ভুল মালা গেঁথেছি 

সারা রাত জেগে। 

মানুষ হয়ে উড়িলাম আকাশে 

এতো আনন্দ মন সইতে না পেরে 

মাটির দেহ গড়াগড়ি করে- 

পড়ে রইলো জমিনে। 

মায়ের চোখে জল 

বাবার কাঁধে ছেলের লাশ, 

সন্তান হারিয়েছে পিতা 

সন্তান হারিয়েছে মাতা, 

স্ত্রী হারিয়েছে প্রাণের স্বামী, 

শুনে জাতি অবাক 

টু জিরো জিরো টু! 

ছোট ভুল বড় ভুল 

কতনা ভুল এ-জীবনে, 

ভুল করে ফুলের কাছে 

চেয়েছি ফুল ভুবনে। 

তোমার আমার চাওয়া পাওয়া 

ঘুমিয়ে গেলো চিরতরে, 

হবেনা আর কোনদিন পূরণ 

তোমার হাত ধরে পথচলা ত্রিভুবন। 

স্বপ্নগুলো আজ মরীচিকা, 

শুনে জাতি অবাক 

টু জিরো জিরো টু! 

ছোট ভুল বড় ভুল 

কতনা ভুল এ-জীবনে। 

হৃদয়ে রাখিবো

 জনমও জনম তোমারে ডাকিবো 

জনমও জনম তোমারে রাখিবো 

হোক না যত দুঃখ আমার 

আসুক না যত দুঃখ আমার 

তবু্ও তোমার গান গাইবো 

জনমও জনম তোমারে হৃদয়ে রাখিবো 

জনমও জনম তোমারে ডাকিবো। 

আঁধারে আমি আলোর দেখা পেয়েছি গো 

তাই তো আলো পেতে আমি আঁধারে ভালোবাসি গো 

জনমও জনম তোমারে রাখিবো 

জনমও জনম তোমারে ডাকিবো। 

রাখো মারো ইচ্ছে তোমার নাইবা ভালোবাসো 

বাসবো ভালো আমি তোমায় জনমও জনম গো 

জনমও জনম তোমারি থাকিবো 

জনমও জনম তোমারে ডাকিবো। 

আঘাতেও পাইগো আমি বেঁচে থাকার সুখ 

দেখে তোমার ভালোবাসার ঐ প্রিয় মুখ 

এই হৃদয়ে আছো তুমি যুগের পরে যুগ 

দেখবো তোমায় জনমও জনম ঐ প্রিয় মুখ। 

জনমও জনম তোমারে রাখিবো 

জনমও জনম তোমারি থাকিবো 

জনমও জনম তোমারে ডাকিবো 

জনমও জনম তোমার গান গাইবো 

জনমও জনম তোমারে ভালোবাসিবো। 

দুঃখ পেয়ে বুকে

 হৃদয়ের কত কথা বলা হয়নি তাকে 

তার কথা হৃদয়ে ব্যথা হয়ে ধরে। 

কিছু কী পাওয়ার ছিলো বাকি 

তার জন্য আজো কাঁদে দু’আখি। 

ভালোবাসায় যদি না কাঁদে মন 

ভালোবাসা মিছে, মিছে এই জীবন। 

হৃদয়ের কত কথা বলা হয়নি তাকে 

তার কথা হৃদয়ে ব্যথা হয়ে ধরে। 

সে এখন কেমন আছে, আছে কী সুখে 

সে খবর নিয়েছ কী মন দুঃখ পেয়ে বুকে? 

ভালোবাসার মানুষ যদি থাকে সুখে 

তবেই তুমি সুখী ভালোবেসে তাকে। 

কীসের এতো দুঃখ, দুঃখ দুঃখ করো 

জীবনটাকে ভালোবেসে গড়ো। 

এটাই নিয়তির নীতি 

সুখ দুঃখ হাসি কান্নায় ঘেরা এই জীবন রীতি। 

সুখ যে ত্যাগ করে সেই তো বড়ো 

কীসের এতো দুঃখ, দুঃখ দুঃখ করো। 

কেউ কারো নয়, এসেছ একা যাবে একা মাঝ পথে মায়া 

চোখের আড়াল হলে তুমি ভুলে যাবে সবাই তোমার ছায়া। 

হাসি মুখে পথ চড়ো 

কীসের এতো দুঃখ, দুঃখ দুঃখ করো। 

কী বানাইলি আমায়

 কী বানাইলি রে বন্ধু কী বানাইলি আমায় 

দুঃখ এখন আর আমায় দুঃখ দেয় না 

সুখ এখন আর আমার প্রয়োজন হয় না 

ঘৃণা আর অবহেলা দে আমায় আরও দে 

যত ইচ্ছে কর অপমান মনেপ্রাণে। 

এই যদি হয় তোর প্রেমের নীতি দিতে কষ্ট ব্যথা 

দিস তুই বলবো না কোনদিনও তোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কথা 

যত পারিস দিস বন্ধু দিস আমায় ব্যথা 

কী বানাইলি রে বন্ধু কী বানাইলি আমায় 

দুঃখ এখন আর আমায় দুঃখ দেয় না 

সুখ এখন আর আমার প্রয়োজন হয় না। 

তোর দেয়া ঘৃণা আর অবহেলা আমার কাছে শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা 

যত দিবি কষ্ট আমায় তত কাঁদবি তুই 

আমি তো জানি তুই দরদি আমার প্রাণের বন্ধু সই 

কী বানাইলি রে বন্ধু কী বানাইলি আমায় 

তুই বিহীন নিঃশ্বাস আমার বন্ধ হইয়া যায়। 

তুমি বিহীন আমি জিন্দা লাশ

 আমার ভেতরে আমি নেই আছো শুধু তুমি 

তোমার নামে লিখে দিয়েছি আমাকে আমি, 

তুমি যদি কেটে টুকরো টুকরো করো আমার এই দেহ 

টুকরো গুলোর মাঝে খুঁজে পাবে তোমার অস্তিত্ব। 

কষ্টে আছি আমি এটা মিথ্যে কথা 

তুমি কষ্টে থাকলে আমি কষ্টে থাকি পাই ব্যথা। 

নিঃশ্বাস বিহীন মানুষ মৃত্যু লাশ 

তুমি বিহীন আমি জিন্দা লাশ। 

তোমাকে ভালোবাসায় হয় যদি অপরাধ 

তোমার বিবেকের আদালতে ফাঁসি দিও আমায়, 

নেই প্রয়োজন এই জীবন যদি না পাই তোমায়। 

শত দোষ বুকে নিয়ে বিদায় নেবো আমি 

আমার মরণকালে চোখে জল এনো না তুমি, 

ভালোবাসার কাঙাল আমি পেতে তোমার ভালোবাসা 

পরের জন্মে আবার আসবো তোমার কাছে দরদিয়া। 

তোমার পথে আছি আমি তোমার পথে রবো 

যত জনম পাবো তত জনম তোমার পথে থাকবো। 

বৃথা মানবজনম আমার যদি না পাই তোমায় 

তোমার বিবেকের আদালতে ফাঁসি দিও আমায়। 

আমার ভেতরে আমি নেই আছো শুধু তুমি 

তোমার নামে লিখে দিয়েছি আমাকে আমি, 

তুমি যদি কেটে টুকরো টুকরো করো আমার এই দেহ 

টুকরো গুলোর মাঝে খুঁজে পাবে তোমার অস্তিত্ব। 

ভালোবাসার কাঙাল আমি পেতে তোমার ভালোবাসা 

পরের জন্মে আবার আসবো তোমার কাছে দরদিয়া। 

তোমারি কাছে মোর আবেদন

 তোমারি কাছে মোর আবেদন 

আমি তোমারি নিয়মিত প্রেমিক একজন 

বেশ কিছু দিন ধরে দেখেছি লক্ষ করে 

তোমারি ভালোবাসা মোর প্রয়োজন। 

আমি লিখেছি দরখাস্তো 

দরখাস্তোর প্রতি অংশে শুধু তোমারি নাম গো 

চাই তোমারি ভালোবাসা 

তোমারি ভালোবাসা মোর প্রয়োজন। 

তোমারি কাছে মোর আবেদন 

আমি তোমারি নিয়মিত প্রেমিক একজন 

তুমি বিবেচনা করে 

বাধিত করিবে ভালোবাসা দিয়ে মোরে। 

ধনদৌলত চায় না অধমের এই মন 

তোমারি কাছে মোর আবেদন 

তোমারি ভালোবাসা মোর প্রয়োজন 

আমি তোমারি নিয়মিত প্রেমিক একজন। 

বেশ কিছু দিন ধরে দেখেছি লক্ষ করে 

তোমারি ভালোবাসা মোর প্রয়োজন 

বাধিত করিবে ভালোবাসা দিয়ে মোরে 

তোমারি কাছে মোর আবেদন। 

আমি বোকা

আমি বোকা বড্ড বেশি বোকা 

বোকা না হলে বোকার মতো তোমাকে প্রশ্ন করি 

তুমি কেমন আছো জানতে চাই, 

বোকা না হলে তোমার প্রেমে পড়ি 

বোকা না হলে তোমার কথা ভাবি, 

বোকা হয়েছি বলেই 

বোকার মতো তোমাকে প্রশ্ন করি। 

আমি বোকা বড্ড বেশি বোকা 

তোমার জন্য হৃদয়ে ভালোবাসা পুষি, 

বড্ড বেশি বোকা না হলে 

জন্মান্তরে বাঁধতে চেয়েছি তোমায়। 

বোকা না হলে তোমার সাজিয়ে বলা 

মিথ্যে কথাগুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছি, 

তুমি খুব চালাক বলেই 

আমি বোকা হয়েছি খুব। 

বোকার মতো তোমাকে প্রশ্ন করি 

তুমি কেমন আছো, হ্যাঁ আমি খুবই বোকা 

বড্ড বেশি বোকা 

তোমার সুখে আমি হাসি 

তোমার দুঃখে আমি কাঁদি। 

আমি বড্ড বেশি বোকা না হলে 

তোমাকে চোখে মুখে চিন্তায় আঁকি, 

আমার হৃদয়ে রাখি 

তোমার নাম জপি। 

আমি বোকা বড্ড বেশি বোকা 

তোমার সুখের জন্য ইশ্বরের কাছে 

রোজ প্রার্থনা করি। 

হয়না রে প্রেম

 এক মরণে দুজনে মরে সে মরণ কজনে মরিতে পারে 

চাইলেই কী পাইবা মনা প্রেম কী সহজে মিলে, 

প্রেম কারো কাছে ইবাদত কারো কাছে পাপের সমতুল্য 

কেউ রাখে বানিয়ে রাজরাণি কেউ বা আবার স্বেচ্ছায় হয় দাসি। 

লাইলী পাগল মজনুর লাগি মজনু পাগল লাইলীর লাগি 

এটাই তো প্রকৃত ভালোবাসা কজনে করে সে আশা, 

হায় প্রতারণার পাহাড় জগৎ জুড়ে 

নাই এমন প্রেম এক মরণে দুজনে মরে। 

দেহের সাথে হয়না রে প্রেম, মনের সাথে হলে মনের মিলন 

অমর প্রেম অমর জীবন। 

দেখলে প্রেমের বর্তমান দ্বারা পাই ব্যথা 

নেই প্রেম আছে শুধু স্বার্থের কথা। 

রজকিনী আসতো যখন কাপড় ধুতে ওপারের ঘাটে 

চণ্ডীদাস তখন মাছ ধরার ছলে বড়শি নিয়ে এপারেতে বসে দেখতো তাকে, 

এভাবে চলতে থাকে চণ্ডীদাস আর রজকিনীর ১২ বছর 

তুমি কয়দিন নিয়েছো তোমার প্রেয়সীর খবর? 

প্রেমের একটাই কথা তুমি পাইলে আমিও পাই ব্যথা 

দুইটি দেহের একটি প্রাণ, আজ গায় কজনে এমন প্রেমের গান! 

তুমি আমি

 তুমি বিনে আমি নই 

আমি বিনে তুমি নও 

দুইয়ে মিলে এক হয়েছি 

একে মিলে দুইয়ে রই। 

যদি লাগে তোমার ভালো 

জ্বালিয়ে দাও আমার ঘরে ভালোবাসার আলো। 

আমি বিনে তুমি নও 

তুমি বিনে আমি নই 

দুইয়ে মিলে এক হয়েছি 

একে মিলে দুইয়ে রই। 

আকাশ যেমন চায় জমিন 

জমিন চায় আকাশ 

দিন রাত তোমায় চাই 

চাই তোমার গন্ধ বাতাস। 

চাঁদের যেমন নিজের নেই কোনো আলো 

তুমি আমি আমি তুমি বিহীন দু’জনেই আঁধার কালো। 

দুইয়ে মিলে এক হয়েছি 

একে মিলে দুইয়ে রই 

তুমি বিনে আমি নই 

আমি বিনে তুমি নও। 

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪

দেশটা এখন নাট্যমঞ্চ

 জাম গাছেতে জাম দেখি না 

দেখি এখন আম, 

আম গাছেতে দেখি এখন জাম! 


বিড়ালে এখন মাছ খায় না 

খায় দেখি ঘাস, 

ছাগলে দেখি খায় মাছ! 


জলের উপর ফুলের খেলা দেখি না 

দেখি ফুলের উপর জল, 

সত্য বললেই জীবন রসাতল! 


বুকে এখন প্রেম দেখি না 

প্রেম দেখি মুখে, 

গোলাপ তাই শোকে! 


দেশটা এখন নাট্যমঞ্চ 

প্রতিদিন কত নাটক ঘটে, 

তা দেখে দিন কাটে! 


মানুষে মনুষ্যত্ব দেখি না, মানুষ বলি কাকে 

তাই “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন 

পাঠ করি দমে দমে! 

ঠাঁই

 ভাবছি একটি চিঠি লিখবো 

প্রেমের চিঠি। 

এই মেয়ে তুমি কী আমার চিঠি নেবে 

ভুলেভালে লেখা চিঠি 

তুমি কী নেবে ভুলেভালে লেখা চিঠি? 

কিছু লিখতে পারি আর না পারি 

চিঠিতে তোমার নামটি সঠিক ভাবেই লিখবো আমি, 

তুমি কী নেবে চিঠি? 

প্রেমের চিঠি। 

তোমার ইচ্ছাতে পরিচালিত হতে চাই আমি 

চাই আমার মনের রাণি হও তুমি, 

হবে কী তুমি মনের রাণি? 

নেবে কী তুমি ভুলেভালে লেখা চিঠি? 

এলোমেলো জীবনটাকে সাজিয়ে দেবে কী তুমি 

তোমার মতো করে? 

আমার বুকের রক্ত দিয়ে 

চিঠি লিখবো তোমার নামে, ফিরিয়ে দিওনা তুমি 

ভুলগুলো ক্ষমা করে 

ফুলগুলো রেখো যত্নে তোমার মনের মন্দিরে। 

দেবে কী ঠাঁই আমায়? 

তরুণ তরুণী

 ছুটছে তরুণীদের পিছু তরুণদের দল 

ও তরুণদের দল কী পেয়েছিস বল? 

ও তরুণীদের দল দিয়েছিস বুঝি মন, 

কী পেয়েছিস বল? 

ছুটছে তরুণদের পিছু তরুণীদের দল 

ও তরুণীদের দল কী পেয়েছিস বল? 

ও তরুণদের দল দিয়েছিস বুঝি মন, 

কী পেয়েছিস বল? 

মনের বদলে পেয়েছিস কী মন? 

নাকি চোখের জল! 

ও তরুণ তরুণীদের দল 

না বুঝে দিলে মন

বন্ধু হবে চোখের জল, 

কী পেয়েছিস বল তোরা কী পেয়েছিস বল? 

ও তরুণদের দল ও তরুণীদের দল 

তরুণ সবাই তরণী সবাই 

প্রেমিক প্রেমিকা সকলে নয়! 

মরীচিকার পিছু ছুটছে তরুণ তরুণীদের দল 

কী পেয়েছিস বল? 

গাড়ি বাড়ি টাকা পয়সা সবাই পায় 

সুখ, ভালোবাসা কজনে পায় বল? 

ও তরুণ তরুণীদের দল 

ভালোবাসা যেন না হয় চোখের জল! 

কী পেয়েছিস বল? 

মরীচিকার পিছু ছুটছে তরুণ তরুণীদের দল 

মনের বদলে পেয়েছিস কী মন? 

নাকি চোখের জল 

চোখের জল! 

এক বছর ঘুমিয়ে ছিলাম

 কী হবে কবিতা লিখে 

কী হবে! যদি না তুমি পড়ো, 

যদি না জানতে চাও তুমি 

কবিতার মাঝে কী চায় কবি! 

এক বছর ঘুমিয়ে ছিলাম 

ঘুমিয়ে ছিলাম এক বছর আমি, 

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে 

ঘুমিয়ে পড়েছিলাম এক বছর! 

সেদিন ছিল ঊনিশ 

ঘুম থেকে উঠে দেখি বিশ! 

তুমি একটিবারও জানতে চাইলে না 

সেই রাতে

কী কারণে কবি ঘুমিয়ে গেলো 

কী তার অভিমান ছিলো, 

তোমার কথা ভাবতে ভাবতে 

এক বছর ঘুমিয়ে ছিলাম! 

কী হবে আর

কীইবা আর হবে! 

যদি না তোমার হৃদয়ে পৌঁছায় 

কবির হাহাকার! যন্ত্রণা, 

কী হবে আর ভেবে কবির কথা। 

কী হবে আর

দিয়ে মিথ্যে সান্ত্বনা, 

যদি না তোমার হৃদয়ে পৌঁছায় 

তার ব্যথার কথা! 

থাক আর লিখতে চাইনা 

নতুন কিছুর পিছু কথা, 

তুমি সুখী হও 

দিয়ে আমায় ব্যথা, 

এক বছর ঘুমিয়ে ছিলাম 

ঘুমিয়ে ছিলাম এক বছর আমি, 

কী হবে আজ বলে সে কথা! 

ভুল

 ভুল, এটা ভুল 

কাঁটার আঘাত যদি সইতে না পারো, 

তুমি নিও না ফুল। 

ভুল, এটা ভুল 

যদি প্রেমিক না হও, 

ভালোবাসতে যেয়ো না তুমি, 

ছুঁইয়ো না চুল। 

ভুল, এটা ভুল 

যদি তুমি, শাড়ি চুড়ি চোখের কাজল 

কিনে দিতে না পারো, 

ছুঁইয়ো না আঙুল। 

ভুল, এটা ভুল 

প্রেমিকার চোখে চোখ রাখা ভুল, 

ফেঁসে যাবে তোমার মনের বুলবুল। 

ভুল, এটা ভুল 

না বুঝে তুমি ছুঁইয়ো না ফুল, 

নিও না ফুল, দিও না ফুল, 

না জেনে ভালোবাসলে হারিয়ে যাবে দু’কূল। 

ভুল, এটা ভুল 

ভালোবেসে একে অপরকে ছেড়ে চলে যাওয়া 

জীবনে মস্ত বড়ো ভুল। 

ভুল, এটাই ভুল 

না বুঝে ছুঁইলে ভুল আর ফুল। 

চিনি পানি

 বাহিরেতে ঠান্ডা ভেতরেতে গরম 

নরমেতে চুমুক দিতে লাগে শরম! 

খেতে লাগে চিনি পানি আরও লাগে আদা 

পাওয়া যায় আরাম খেতে ভারি মজা, 

কে খাওয়াবে বানিয়ে এমন নরম খাবার 

পেলে খাবার হয়ে যাবো আমি যে তার, 

মজা সে-তো মজা স্বাদ লাগে চরম 

নরমেতে চুমুক দিতে লাগে শরম! 

খেতে চাই বার-বার এমন নরম খাবার 

এক চুমুকে পেয়ে যাবো ভালোবাসা তার, 

আছে নাকি এমন বন্ধু? খাওয়াবে নরম খাবার 

পেলে খাবার হয়ে যাবো আমি যে তার। 

খেতে লাগে চিনি পানি আরও লাগে লেবু 

পাওয়া যায় আরাম খেতে ভারি মজা, 

কে খাওয়াবে বানিয়ে এমন নরম খাবার 

পেলে খাবার হয়ে যাবো আমি যে তার, 

বাহিরেতে ঠান্ডা ভেতরেতে গরম 

নরমেতে চুমুক দিতে লাগে শরম! 

থরথর করে কাঁপে গা 

মনটাও খেতে চায় তা, 

আছে নাকি এমন বন্ধু? খাওয়াবে নরম খাবার 

পেলে খাবার হয়ে যাবো আমি যে তার। 

বাহিরেতে ঠান্ডা ভেতরেতে গরম 

নরমেতে চুমুক দিতে লাগে শরম! 

মজা সে-তো মজা স্বাদ লাগে চরম 

বাহিরেতে ঠান্ডা ভেতরেতে গরম, 

খেতে চাই বার-বার এমন নরম খাবার 

পেলে খাবার হয়ে যাবো আমি যে তার, 

পেয়ে যাবো ভালোবাসা— 

এক চুমুকে পেয়ে যাবো ভালোবাসা তার। 

বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৪

জাহান্নাম ভালোবাসি

 তোমাকে ভালোবাসায় যদি হয় পাপ, 

ভালোবেসে জাহান্নামে যাবো আমি— 

দাও জাহান্নামের তাপ। 

বেহেশত চাই না আমি, তুমি যদি বলো 

হাসি মুখে জাহান্নামে যাবো— 

ভালোবেসে তোমায়। 

জাহান্নামের আগুন গায়ে মেখে 

বলিবো বিধিকে, 

তোমায় যেনো রাখে সুখে 

ঐ বেহেশতে। 

আমি ভালোবেসে তোমায় 

জাহান্নামের আগুন গায়ে মাখিবো। 

দাও জাহান্নামের তাপ, 

তোমাকে ভালোবাসায় যদি হয় পাপ। 

বেহেশত চাই না আমি, তুমি যদি বলো 

হাসি মুখে জাহান্নামে যাবো— 

ভালোবেসে তোমায়। 

বিষ খেয়ে বেঁচে আছি

 এই বেশ ভালোই আছি 

বিষ খেয়ে বেঁচে আছি। 

কোথায় নেই বলো ভাই 

সবখানেই দেখতে পাই, 

আমে আছে জামে আছে 

কাঁঠালে আছে লিঁচুতে আছে 

মাছে আছে সবজিতে আছে 

ধানে আছে চালে আছে 

তেলে আছে লবণে আছে 

আছে আছে বিষ আছে। 

আছে আছে সবখানেই আছে, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে 

কিংবা মেডিকেলে অফিস আদালতে, 

হ্যাঁ হ্যাঁ ভাই মিডিয়া জগতে দুর্নীতি ভরে গেছে! 

এই বেশ ভালোই আছি 

বিষ খেয়ে বেঁচে আছি। 

প্রেমিকের চুম্বনে প্রেমিকার ভালোবাসায় 

নেই প্রেম, আছে আছে শুধু প্রতারণা হায়। 

আছি আছি 

এই বেশ ভালোই আছি, 

মৃত্যুর অপেক্ষায় 

বিষ খেয়ে বেঁচে আছি। 

প্রেমিক হও পরে মানুষ হও আগে

 যেদিকে যাই শুনিতে পাই পুরুষ আর মানুষ নাই! 

প্রেমিক মানুষ হয়নি পুরুষ প্রেমিক হয়নি 

হয়েছে ধর্ষক! লজ্জা তাই আমি পাই, 

প্রেমিক হও পরে মানুষ হও আগে তাই বলে যাই। 

পুরুষ আর মানুষ নাই যেদিকে যাই শুনিতে পাই! 

পুরুষ প্রেমিক হয়নি প্রেমিক মানুষ হয়নি 

হয়েছে ধর্ষক! লজ্জা তাই আমি পাই, 

প্রেমিক হও পরে মানুষ হও আগে তাই বলে যাই। 

মানুষের ঘরে জন্ম নিলে তুমি মানুষ হলে না 

প্রেমিক হয়ে ছুঁইলে ফুল তুমি ফুলকে চিনলে না, 

তুমি ফুল ভালোবাসলে ফুলের মর্ম বুঝলে না। 

পুরুষ প্রেমিক হয়নি প্রেমিক মানুষ হয়নি 

হয়েছে ধর্ষক! লজ্জা তাই আমি পাই, 

পুরুষ আর মানুষ নাই যেদিকে যাই শুনিতে পাই! 

প্রেমিক হও পরে মানুষ হও আগে তাই বলে যাই। 

পুরুষ তুমি মানুষ হলে না, মানুষ তুমি প্রেমিক হলে না 

প্রেমের মর্ম বুঝলে না। প্রেম পবিত্রময়, পবিত্র তার রীতিনীতি 

মানুষ হয়ে গড়লে প্রেম বিফলে যায় না পিরিতি। 

যেদিকে যাই শুনিতে পাই পুরুষ আর মানুষ নাই! 

পুরুষ প্রেমিক হয়নি প্রেমিক মানুষ হয়নি 

হয়েছে ধর্ষক! লজ্জা তাই আমি পাই, 

প্রেমিক হও পরে মানুষ হও আগে তাই বলে যাই। 

কালো মেয়ের প্রেমে পড়েছি

 কপালেতে কালো টিপ, চোখেতে কাজল 

হাতেতে পরেছে বালা 

গলাতে তার পুঁতির মালা, 

নাম না জানা প্রথম দেখা কলেজে 

কালো মেয়ে, দিচ্ছে আমায় জ্বালা। 

কালো মেয়েটির প্রেমে পড়েছি 

আমি কালো মেয়ের প্রেমে পড়েছি। 

রোজ ছুটে যাই দেখিতে তারে 

তার মনের দুয়ারে, 

লোকে আমায় ভিখারি বলে 

বলে পাগল, 

আমি তার প্রেমের ভিখারি 

প্রেম আমায় ‘সে নাহি দেয় ভিক্ষা হৃদয়ে।’ 

ও নাম না জানা কালো মেয়ে 

কলেজের নিয়মিত ছাত্র আমি নই, 

নিয়মিত প্রেমিক তোমার জন্য হই। 

যখন তখন তোমার প্রেমে পড়ি 

বিরহ নিয়ে আমি ঘরে ফিরি, 

দু’নয়নে দেখি শুধু তুমি 

তোমাকে নাহি ভুলিতে পারি। 

তোমার জন্য মরি 

আমি তোমার জন্য বাঁচি, 

নাম না জানা কালো মেয়ে 

তোমায় ভালোবাসি- 

আমি তোমার প্রেমে পড়েছি। 

এককাপ প্রেম

 চায়ের কাপে জমেছে প্রেম তোমার ছোঁয়াতে 

জল চিনি এক হয়েছে তোমার ছোঁয়াতে, 

ধোঁয়াগুলো বিরহের সুরে বলছে 

এককাপ প্রেম হবে কী— 

দেবে কী এককাপ প্রেম আমাতে? 

জমছে বিরহ হৃদয় জুড়ে 

শীতের তাপে বরফ হয়ে যাচ্ছি, 

দেবে কী এককাপ প্রেম আমাতে? 

(তোমার হৃদয়ে জমবে প্রেম 

খাওয়াবো ঠান্ডা পানি,— 

জানবে লোকে ভালোবাসি তোমায় 

খাওয়াবে গরম চা তুমি!) 

আমি আর পারছিনে বরফ হয়ে যাচ্ছি 

তুমি দেবে কী এককাপ প্রেম আমাতে? 

চায়ের কাপে জমেছে প্রেম তোমার ছোঁয়াতে 

জল চিনি এক হয়েছে তোমার ছোঁয়াতে। 

যদি আজ প্রেম পাই তোমার ছোঁয়াতে 

জল চিনির মতো মিশে যাবো আমি তোমাতে, 

দেবে কী এককাপ প্রেম আমাতে? 

চায়ের কাপে জমেছে প্রেম তোমার ছোঁয়াতে। 

অবাক হই

 আমি ছিলাম তোমার মুখে 

ছিলাম তোমার ঠোঁটে 

আমি ছিলাম তোমার শাড়ির আঁচলে 

এই কথা কারে কই, 

আমি বড্ড বেশি অবাক হই 

যখন দেখি তোমার মাঝে আমি নই। 

আমি ছিলাম তোমার খোঁপায় 

ছিলাম তোমার চুলের গোছায় 

আমি ছিলাম তোমার চোখের কাজলে 

এই কথা কারে কই, 

আমি বড্ড বেশি অবাক হই 

যখন দেখি তোমার মাঝে আমি নই। 

তোমায় দেখতে যদি ইচ্ছে হয় প্রিয় 

আমার হৃদয়ে দ্যাখো 

তোমার হৃদয়ে আমি নই 

এই ব্যথা কেম্নে সই, 

আমি বড্ড বেশি অবাক হই 

যখন দেখি তোমার মাঝে আমি নই। 

পুরুষ নয় মানুষ হও

 পুরুষ তুমি হওনি প্রেমিক 

হয়েছ ধর্ষক 

পুরুষ তুমি হয়েছ প্রতারক! 

পুরুষ নয় মানুষ হও 

পুরুষ তুমি মানুষ হও। 

নাড়ে তোমার নারীর বাঁধন 

রক্তে তোমার নারী 

গায়ে তোমার নারীর গন্ধ 

ছি পুরুষ ধর্ষক তুমি! 

পুরুষ নয় মানুষ হও 

পুরুষ তুমি মানুষ হও। 

মানুষ যে হয় না ধর্ষক 

মানুষ যে হয় না প্রতারক 

মানুষ হয় প্রেমিক, 

পুরুষ তুমি হওনি প্রেমিক 

হয়েছ ধর্ষক 

পুরুষ তুমি হয়েছ প্রতারক! 

পুরুষ তুমি মানুষ হয়ে প্রেমিক হও 

প্রেমিক তুমি মানুষ হও পুরুষ নয়। 

আমায় নাহয় ঘৃণা করিও

 প্রিয়, 

কখনো কারো প্রেমে পড়েনি 

কাউকে কখনো বলা হয়নি মনের কথা 

কারো জন্য হৃদয়ে জমেনি প্রেম। 

আমি কবি নই যে কবিতার ভাষায় বলব 

আমি শিল্পী নই যে গানের সুরে বলব 

তোমায় ভালোবাসি, 

আমি সাধারণ একজন প্রেমিক বলতে পারো তুমি। 

প্রথম যেদিন তোমাকে দেখেছিলাম 

সেদিন মনে হয়েছিল আমি মাত্র দেহ তুমি সেই দেহের প্রাণ, 

আমি তোমার যোগ্য কি-না তা আমি জানিনা 

তবে এই হৃদয়ে তোমার জন্য আছে প্রেম। 

তোমার রূপের প্রেমে পড়েনি আমি 

পড়েনি তোমার চোখের, 

আমি প্রেমে পড়েছি তোমার সুন্দর হৃদয়ের। 

আমি মনোবিজ্ঞানী নই যে তোমার মন কী চায় তা বলে দিতে পারবো, 

তবে প্রিয় তোমার জন্য দিতে পারি এই জীবনখানি। 

শুনেছি ‘প্রেমিক পাগল হয়, প্রতারক কখনো প্রেমিক হয়না।’ 

তুমি চাইলে আমায় পাগল বলে ডাকতে পারো, 

সত্যিই আজ আমি পাগল তোমার জন্য। 

প্রিয়, 

আই লাভ ইউ বললে কী ভালোবাসা হয় 

গোলাপ ফুল দিলেই কী ভালোবাসা হয়? 

ভালোবাসা তো হৃদয়ে থাকে 

সেই হৃদয়খানি আমি তোমার নামে লিখে দিয়েছি। 

প্রিয়, 

আমায় নাহয় ঘৃণা করিও, করিও অপমান 

তবুও ফিরিয়ে দিওনা মোর ভালোবাসাকে 

তোমার কাছে চাওয়ার আরকিছুই নেই আমার, 

ইতি তোমার পাগল প্রেমিক। 

একটি মেয়েকে

 একটি মেয়েকে আমি খুব ভালোবাসি 

২৪শে সেপ্টেম্বর এলে তার জন্য হাসি, 

নামাজেতে বসে প্রার্থনা করি রোজ 

এই দিনটি তার জীবনে আবার হোক। 

রেখেছি তার ছবি এই বুকেতে এঁকে 

হয়েছি শুধু তার তাকে ভালোবেসে। 

তিনি আমার ভালোবাসা 

তিনি আমার নিঃশ্বাস, 

এই জন্মে না হলেও সে আমার পরের জন্মে হবে 

মনেপ্রাণে করি বিশ্বাস। 

কাঁদতে নেই

 এইতো জীবন কেটে যাচ্ছে সুন্দর রকম 

কে দেখেছে কে নিয়েছে তার খবর, 

যে পায়নি তার পাওয়ার আছে অনেক কিছু 

যে পেয়ে হারিয়েছে তার গেছে সবকিছু। 

আপন হয়েছে পর, পর হয়েছে আপন 

এইতো সাধের মানবজীবন! 

কি পেয়েছি কি হারিয়েছি তা নিয়ে ভাবতে নেই 

মাটির মানুষ মাটির জন্য কাঁদতে নেই। 

স্বার্থের খেলা ঘরে হাসির মাঝে 

নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হয় 

কারণ কান্না মোছার মানুষ নেই 

মিছে সব অভিনয়, 

কি পেয়েছি কি হারিয়েছি তা নিয়ে ভাবতে নেই 

মাটির মানুষ মাটির জন্য কাঁদতে নেই। 

আপন হয়েছে পর, পর হয়েছে আপন 

এইতো সাধের মানবজীবন! 

নারী খোঁজে মানুষ

 ধনী করে ধনের খোঁজ 

গরীব বাঁচায় সম্মান। 

অসহায় মানুষ চায় আশ্রয় 

পথ শিশু চায় আহার। 

কুকুর পথে ঘেউ ঘেউ করে 

বেড়াল করে ম্যাউ। 

সবাই সবকিছু খোঁজে 

কজনে মানুষ হয়েছে? 

নারীকে যে বেশ্যা বলো 

সে কারো না কারো মা কিংবা বোন, 

নারী তো বেশ্যা নয় 

সে আমার আপনজন। 

ধর্ষক খোঁজে নারী 

নারী খোঁজে মানুষ। 

লেজ ছাড়া কুকুরগুলো 

আছে মানুষের পোশাক পরে 

ঘুরে এই শহরে। 

মানুষের বড্ড প্রয়োজন 

মানুষ হও মন। 

নারী খোঁজে মানুষ। 

ধর্ষকের নেই কোনো বয়স 

নেই কোনো ধর্ম। 

মানুষ হও মন 

মানুষের বড্ড প্রয়োজন। 

আমি তোমার জন্য

 আমি তোমার জন্য 

জাতীয় প্রেসক্লাবে করবো মানববন্ধন 

আমি তোমার জন্য 

রেসকোর্স ময়দানে দেবো ভাষণ 

আমি তোমার জন্য 

জাতিসংঘে রাখবো প্রস্তাব 

আমি তোমার জন্য 

ভালোবাসার ফোঁটাবো লাল গোলাপ। 

প্রতিদিন হয় জন্ম আমার 

প্রতিদিন হয় মৃত্যু 

শুধু তোমার জন্য 

শুধুই তোমার জন্য বন্ধু। 

চাই না আমি মুক্তি 

চাই শুধু প্রেম ভক্তি 

কংক্রিটের এই শহরে 

দুইয়ে মিলে এক হয়েছি 

শুধু তোমায় ভালোবাসতে 

শুধুই তোমায় ভালোবাসতে। 

তোমার হাসিতে আমার হাসি 

তোমার কাঁদাতে কাঁদা 

যতবার আমি কৃষ্ণ হবো 

ততবার তুমি রাধা, 

তোমার জন্য মরতে পারি 

আর কী চাও তুমি 

তোমার জন্য জীবন আমার 

করবো মরুভূমি। 

পুরুষ না হয়ে যদি আমি মানুষ হতাম

 যদি আমি পুরুষ না হয়ে মানুষ হতাম 

নারী ছুঁতাম 

নারীর হৃদয় ছুঁতাম। 

পুরুষ না হয়ে যদি আমি মানুষ হতাম 

নারীর কোলে ঘুমাতাম 

নারীর ভালোবাসা পেতাম। 

যদি আমি পুরুষ না হয়ে মানুষ হতাম 

নারীর যন্ত্রণা নিতাম 

নারীর দুঃখ ঘুচে দিতাম। 

পুরুষ না হয়ে যদি আমি মানুষ হতাম 

নারীর পূজা দিতাম 

ধর্ষক খেতাব নাহি পেতাম! 

যদি আমি পুরুষ না হয়ে মানুষ হতাম 

মানুষ হয়ে পুরুষ হতাম— 

তবে নারীর হৃদয়ে মিশে যেতাম 

নারীর মাঝে আমার ঠিকানা পেতাম 

আর সেদিন নারীর মর্ম বুঝতাম। 

পাপী চোখে তোমায় আঁকি

 নিকৃষ্ট কুকুর যেমন তার মনিবের ভক্ত 

আমি তার চেয়েও অধিক তোমাতে হয়েছি আসক্ত। 

তুমি আমার এমনই এক নেশা 

লক্ষ জনম পেলেও শেষ হবে না ভালোবাসা। 

পাপী চোখে তোমায় আঁকি 

হৃদয় কাবায় তোমায় রাখি। 

যাই আমি জাহান্নামে হেসে 

জাহান্নামে বলে ধন্য তুমি ভালো-বেসে। 

তুমি আমার এমনই এক ভরসা 

শুকনো গলায় জলের তৃষ্ণা। 

তুমি আমার বারান্দায় ফোঁটা পবিত্র গোলাপের চেয়েও অধিক পবিত্রতম 

তোমাতে হয়েছি আমি আসক্ত, অধম তোমাতে হয়েছি মগ্ন। 

জন্ম নেয়া অবুঝ শিশুর চেয়েও আমি অধিক অবুঝ তোমার কাছে 

সুখে দুঃখে তোমায় রাখি আমাতে। 

নিকৃষ্ট কুকুর যেমন তার মনিবের ভক্ত 

আমি তার চেয়েও অধিক তোমাতে হয়েছি আসক্ত। 

কেনো আমি প্রেমিক হলাম

 প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার কানের দুল 

খুঁজে পেতে না তুমি আমার কোনো ভুল। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার গায়ের শাড়ি 

অভিমান হলেই করতে পারতে না আমার সাথে আড়ি। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার কাঁধের ব্যাগ, হতাম খোঁপার ফুল 

কেয়ার পেতাম সব’চে বেশি চুমু খেতাম তোমার আঙুল। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার চোখের কাজল 

মিশে থাকতাম তোমার চোখে মুছে দিতাম দুখের জল। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার হাতের চুড়ি 

পাগলের মতো চিৎকার করে বলতাম ‘তোমায় ভালোবাসি’। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার ঠোঁটের লিপস্টিক 

মিশে যেতাম তোমার ঠোঁটে পেতাম ভালোবেসে তৃপ্তি। 

কেনো আমি প্রেমিক হলাম 

তোমার দেয়া ঘৃণা আর অবহেলা বুকে নিয়ে 

ভালোবাসা হতে 

তোমার থেকে দূরে রইলাম! 

রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪

উলাইকা কাল আনআম বাল হুম আদ্বাল

 সমাজে আজ হিংস্রতা বেড়েই চলছে, আমি মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না,

মনে হচ্ছে সেই আরবের বর্বর জাতি আমরা, সেই দেড় হাজার বছর পূর্বে ফিরে গিয়েছি,

জ্যান্ত নারী দাফন ছাড়া সবই হচ্ছে এখন, অতীতে আমরা মানুষ ছিলাম না,

এখনও বুঝি আমরা মানুষ হলাম না, সত্যিই কি আমরা আসলেই মানুষ না!

ঐ পাহাড়ে আমার মায়ের ঘর পুড়ে, রক্তাক্ত হয় পিতা,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ভাই মরে,

কারা ঘর পুড়ালো আমার মায়ের? কেনো ওরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মারলো?

আপনার আমার জীবনের নিশ্চয়তা আজ কোথায়? বা কতটুকুই আছে?

কে জানে হয়তো আমিও হতে পারি কিংবা আপনি রাজনীতির শিকার,

হয়তো আমরাও হতে পারি বিনাকারণে মৃত লাশ,

হয়তো আমার কিংবা আপনার বোনও হতে পারে ধর্ষণ,

মেয়েদের আজ নিরাপত্তা কোথায়?

বোধে এখন রোগ হয়েছে হারিয়ে গেছে মনুষ্যত্ববোধ,

মেধাবীদের অন্তরে এখন অহংকার জমেছে,

হয়ে উঠেছে তারা খুনি সন্ত্রাস আরও অনেক কিছু!

এমন ছাত্র ঘরে ঘরে যদি জন্মায়

মানুষ হওয়া হবে না আর এই সোনার বাংলায়,

এমন নোংরা রাজনীতি যদি চলে বাংলায়

পাহাড়ে আর থাকবে না কেউ, হবে না আর সবুজ শ্যামল বৃক্ষ ধূলির ধরায়,

পুরুষ যদি মানুষই না হয় আর ভূমিতে,

নারীর সম্মান কোথায় নিরাপত্তা কোথায়?

ছাত্ররা এখন বিচারক সেজেছে 'শিক্ষক হয়েছে লজ্জিত!

ধ্বংস হচ্ছে এই সমাজ, নেই বিবেক শুদ্ধ।

কতটা হিংস্র হলে ভাত খাওয়ানোর পর পিটিয়ে মারা হয় তোফাজ্জলকে,

ক্ষমতার জোর দেখিয়ে টোল ভাড়া না দিয়ে কর্মচারীদের গায়ে তোলা হয় হাত,

ধর্মের নামে ফতোয়া দিয়ে মানুষকে আঘাত করা হয়, হত্যা করা হয় মানুষকে!

আচ্ছা কাশফুলের কি ধর্ম আছে? দেখলাম লেবাসধারীরা কাশবন পুড়িয়ে দিলো!

পবিত্র জুম্মার দিনে বায়তুল মোকাররমে মসজিদের মধ্যে দুপক্ষের সংঘর্ষ!

ওরা কারা যাদের লাথিতে 'এক নারীর পেটে মারা গেল শিশু!

বিশ্বাস করো তোমরা জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়,

জানতে ইচ্ছে হয় কাশফুলের ধর্ম কি?

মেধা তো ইবলিশেরও ছিলো, মনুষ্যত্ব যদি না থাকে—

কি হবে আর বড় বড় ডিগ্রি দিয়ে! মানুষের ক্ষতিই যদি হয় তবে?

কোথায় যেন শুনেছিলাম “আবার তোরা মানুষ হ”

তোদের মনুষ্যত্বের বড্ড অভাব,

মনুষ্যত্ববোধ যদি জাগ্রত না হয়, সে মানুষ নয় তার পশুর স্বভাব।

পশুকে কেউ মানুষ হতে বলে না কিন্তু মানুষকে মানুষ হতে হয়,

মানুষ যদি না হতে পারিস বড় বড় ডিগ্রি তোর বৃথা!

তোদের বোধে রোগ না হলে মনুষ্যত্ববোধ হারাতো কি?

আত্মার চিকিৎসা কর হে মানবজাতি,

মানুষ যদি মানুষই না হয় তাকে তো বলা হয়—

“উলাইকা কাল আনআম বাল হুম আদ্বাল”

সকল ধর্মেই আমি পেয়েছি মানবতা, প্রেম, মানুষ,

অথচ আমি দেখি হৃদয়ে তোদের ধর্ম নেই আছে হিংস্রতা!

তাই আমি মানুষ খুঁজে পাচ্ছি না, মনে হচ্ছে সেই আরবের বর্বর জাতি আমরা,

ধর্ম তো চরিত্রের নাম, চরিত্রে যদি ধর্ম ধারণ না হয়,

লেবাসে কি হয় কাম! ধর্ম হৃদয়ে ধারণ না করলে লেবাসের ধর্মে শান্তি নাই!

মানবতা, প্রেম, সুন্দর আদর্শ আর মানুষে পৃথিবী হোক আলোকিত।

পৃথিবী ময়লার ডাস্টবিন

 হে ডাক্তার মানুষ হইও,

হে শিক্ষক মানুষ হইও,

হে পুলিশ মানুষ হইও,

হে কবি মানুষ হইও,

নইলে তোমার হাতে মানুষ বাঁচবে না,

নইলে তোমার হাতে মানুষ জন্মাবে না,

নইলে তোমার কাছে কেউ নিরাপদ নয়,

নইলে তোমার কারণে পৃথিবীতে প্রেম নেই।

মানুষ না বাঁচলে, মানুষ না জন্মালে,

মানুষ নিরাপদে না থাকলে,

পৃথিবী প্রেম না পেলে, সবকিছু শূন্য!

হে মানুষ,

যে যাই হও চরিত্রে মানুষ হইও,

মানুষ ছাড়া পৃথিবী ময়লার ডাস্টবিন!

তুমি তোমরাই বলো—

ময়লার ডাস্টবিনে মানুষ বাঁচতে পারে?

মানুষ তো থাকবে ফুলের বাগানে,

মানুষ থাকবে প্রেমের বাগানে।

মানুষ তো সুবাসের মতো—

ছড়িয়ে দিবে প্রেম, আর পৃথিবী হবে

শান্তির-স্থান বা প্রেম নগর।

হে ছাত্র মানুষ হইও,

হে ধার্মিক মানুষ হইও,

হে জগতের মানব,

চরিত্রে মানুষ হইও, মানুষ হইও,

মানুষ ছাড়া পৃথিবী ময়লার ডাস্টবিন!

হে সন্তান মানুষ হইও,

পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হইও,

তাঁদের দোয়া বিহীন জীবন নরক—

তুমি পৃথিবীর আবর্জনা।

মুজিবের জন্য শোক

এই সবুজ শ্যামল দেশে

এই স্বাধীন বাংলাদেশে,

আর না আসুক পনেরো আগষ্ট

আর না আসুক জুলাই।


মুসলিম যাক মসজিদে

হিন্দু যাক মন্দিরে,

খ্রিস্টান যাক গির্জায়

বৌদ্ধ করুক প্রার্থনা।


শান্তি থাকুক, মানুষ বাঁচুক

বৈষম্য নয়, দেশ হোক সবার

বাঙালি যদি না থাকে

পরিচয় কি তোমার আমার?

শাহবাগের পথে

 প্রেমও এখন বিপ্লব করে রাজপথে

প্রেমিক প্রেমিকার হাতে হাত ধরে,

জয় ছিনিয়ে আনতে—

হয়েছে এক সবাই শাহবাগের পথে!

গণভবনে

 রক্ত এখন আগুন হয়েছে

কণ্ঠ হয়েছে বজ্রপাত

শির হয়েছে পারমাণবিক শক্তি

দাবায়ে রাখার সুযোগ নেই আর।


এখন রক্ত চায় বিচার

কণ্ঠ বলে চাই অধিকার

শির বলে দেশের কথা

জাতীয় পতাকা সবার।


এই বিচার যারা করলে না

এই অধিকার যারা দিলে না

এই দেশের বুকে মারলে মোরে

জাতীয় পতাকা ছিনিয়ে নিয়ে

তারা প্রস্তুত হও জবাব দিতে

আসছি ছুটে গণভবনে।

নতুন এক বাংলাদেশ

 খুদা আর কবিতা কোনো নিয়ম আইন মানে না,

এরা ক্ষেপে উঠে বজ্রপাতের মতো,

আবার এরা শান্তও বটে—

ঠিক প্রেমিকার ভালোবাসার মতো।

এইযে কবিতা লেখা হচ্ছে জুলাইয়ে

এগুলো আমাদের খুদা,

এই খুদা হচ্ছে আমার ভাইবোনদের—

নির্বিচারে গুলি করে মারার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

এই খুদা আছে বলেই আমরা বিদ্রোহ করি।

আমরা সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলি।

আমাদের মৃত্যুর ভয় এখন আর নেই,

এই জুলাই আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে—

কিভাবে শির উঁচু করে বাঁচতে হয়।

বোবা, ভীরুর জন্য দেশ প্রেম না।

ভয়কে জয় করে ছাত্র সমাজ নিয়ে আসছে—

নতুন এক বাংলাদেশ।

এই ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে—

ভাগ্যবান মনে করি ‘হে কবি।

আপসোস তাদের জন্য যাদের হাতে কলম ছিলো,

অথচ লিখলো না জুলাইয়ের কবিতা।

প্রেমিকার বেশ সাহস

 প্রেমিকাকে বললাম এখন আর প্রেম হবে না—

লেখা হবে না কবিতা,

কবিতাকে মুক্তি দিয়েছে, উড়তে দিয়েছি আকাশে,

অনেক হয়েছে কবিতা লেখা, গান শোনা

মানুষ এখন শব্দ বোমা।


প্রেমিকা বলল,

ঘর এখন জেলখানা মনে হয়, মিছিলে যেতে হবে—

মিছিলে এখন স্বাধীনতার গন্ধ পাই।


প্রেম এখন বিপ্লবী কলম কবিতা খুঁজে,

প্রতিবাদী গান খুঁজে, মুক্তির সন্ধান করে,

কারণ আমাদের উড়তে হবে,

শব্দ বোমা হয়ে কবিতা লিখতে হবে

প্রতিবাদী কবিতা।


প্রেমিকার বেশ সাহস, সে রাজপথে

হাতে হাত রেখে বিদ্রোহ করে,

আর স্লোগান দেয় গলা উঁচু করে

“এক দফা এক দাবি,

স্বৈরাচার তুই গদি ছাড়বি।

চৌত্রিশে জুলাই

 কবিতার কবিরা এখন তোমরা

বিপ্লবী কলমে কবিতা লেখো।

গানের কবিরা এখন তোমরা

প্রাণ খুলে মুক্তির গান গাও।

ছবির কবিরা এখন তোমরা

বিজয়ের ছবি আঁকো।

বাংলার মানুষেরা এখন তোমরা

থেকো না কেউ আর ঘরে বন্ধী।

প্রেমিকাকে নিয়ে কবিতা লেখা বাদ দিয়েছি।

ফুল, ফল, চাঁদ, নারী, আকাশ নিয়ে—

অনেক হয়েছে কবিতা লেখা,

এখন নয়নে আগুন জ্বলে, বুকে বারুদ,

শির শব্দ বোমা,

মিছিল ছাড়া মাথায় কিচ্ছু আসছে না।

হ্যাঁ বলছি সুদিন আসবে,

সে ভালোবাসবে,

ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে ধরবে তোমাকে,

প্রিয় প্রেমিকা এখন প্রতিবাদী কবিতা হতে হবে, আর কণ্ঠ হতে হবে বজ্রপাত!

প্রতিবাদ কখনো মেঘ বৃষ্টি ঝড় তুফান বুঝে না,

সে জানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে।

চৌত্রিশে জুলাই পৃথিবীর মানুষ দেখলো—

বাঙালি বীরের জাতি,

এদেরকে দাবাইয়া রাখা যায় না।

দুই হাজার চব্বিশ লেখা থাকবে বাংলার ইতিহাসে,

কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হলো আরেক ইতিহাসের সাক্ষী।

যারা জুলাইয়ে জীবন দিয়েছিলে

আজ যখন টিএসসির পথ হাঁটতে ছিলাম,

শূন্য শূন্য লাগতে ছিলো!

অথচ এই টিএসসির মোড়ে কত স্বপ্ন উড়ে,

প্রেম হয়, বন্ধুত্ব হয়

এই টিএসসির মোড়ে গল্প হয় আগামী বাংলাদেশ নিয়ে,

সুন্দর একটি দেশ গড়ার,

ঠিক আমার মায়ের আঁচলের মতো—

যেখানে হাসবে কোটি বাঙালি, হাসবে মায়ের শিশুরা।

অথচ আজ হাসি নেই, বৃক্ষের ছায়া নেই,

পাখির ডাকাডাকি নেই,

আছে শুধু শূন্য পথ, শূন্য চারপাশ!

হায় 'আছে টিএসসির মোড় জুড়ে

নীল পোশাক পরিধানকারীরা—

এবং আরও আছে মোড় জুড়ে জুড়ে

অস্ত্র হাতে কিছু বাহিনী,

শুনলাম 'তাদের নাম নিতেও আজ লজ্জাবোধ করে

সোনার বাংলার মানুষেরা!

এই শাহবাগের পথ আজ আমাকে চিনেও চিনে না,

এই টিএসসির পথ আজ আমাকে চিনেও চিনে  না,

সেদিনের সেই চেনা পথগুলো—

আজ আমাকে বলে কে তুমি?

ঐ পথগুলো শুধু প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী বলিয়া বলিয়া—

হাহাকার করিলো খোদা!

আর বলিলো কোথায় তোমরা?

আমিও খুঁজলাম বই বিক্রেতা হাবিব চাচাকে,

সে নেই, বইয়ের গন্ধ নেই, চায়ের কাপে ঝড় নেই,

অবশেষে মাথা নিচু করে কাঁদলাম—

আর বললাম এই কি আমার সোনার বাংলা,

এই কি আমার স্বাধীন দেশ!

আলো আছে অথচ দিনের আলো আজ কতটা অন্ধকার,

সবাই শুধু মুক্তি চায়, শান্তি চায়, স্বাধীনতা চায়।

আলো হতে হবে এমন 'রাতের আঁধার হবে দিন,

মুক্তি হতে হবে এমন 'মুক্ত আকাশে পাখির মতো উড়ি,

শান্তি হতে হবে এমন 'মায়ের বুকের মধ্যে মাথা রাখি,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'মন খুলে কথা বলি,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'আমার বাবার গান,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'আমার বোনের গাঁথা মালা,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'আমার ভাইয়ের—

দৌড়ে বেড়ানো ঐ সবুজ শ্যামল মাঠে খেলা,

স্বাধীনতা হতে হবে এমন 'মুক্ত খাতায় লিখি।

অথচ আমি দিন দেখি আলো দেখি না,

অথচ আমি আকাশ দেখি উড়তে পারি না,

অথচ আমি মায়ের বুকে মাথা রেখে বলতে পারি না—

মা, ও-মা, মাগো 'তোমার খোকা তোমাকে ভালোবাসি,

অথচ আমি বলতে পারি না মন খুলে কথা—

হায় 'মন খুলে কথা বললেই জেল হাজত,

অথচ আমার বাবাকে গাইতে দেখি না গান,

অথচ আমার বোনকে গাঁথতে দেখি না মালা,

অথচ আমি আমার ভাইকে দৌড়েতে দেখি না—

ঐ সবুজ শ্যামল মাঠে,

অথচ আমি লিখতেই পারি না অধিকারের কথা,

লিখলেই কপালের মাঝ বরাবর বন্দুকের নল—

এসে বলে 'মর তুই, মইরা যায়,

তোর বেঁচে থাকার অধিকার নাই!

আমি টের পাচ্ছি কেনো শূন্য শূন্য লাগে,

আমি বুঝলাম কেনো টিএসসির মোড়ে প্রেম নেই,

কেনো বন্ধুত্ব হয় না, সুন্দর দেশ গড়ার গল্প হয় না,

কেনো বাঙালিরা আজ হাসে না,

কেনো হাসে না মায়ের শিশুরা,

আমি টের পেয়েছি কেনো হাসি নেই,

আমি বুঝলাম কেনো বৃক্ষের ছায়া নেই,

পাখির ডাকাডাকি নেই,

আমি বুঝলাম কেনো চায়ের কাপে ঝড় নেই,

কেনো বই বিক্রেতা হাবিব চাচা নেই,

শাহবাগে বইয়ের গন্ধ নেই,

অবশেষে মাথা নিচু করে কাঁদলাম,

কারণ স্বাধীনতা নেই,

আমাদের স্বাধীনতা শেষ!

এখন সাদা কাপড় মোড়ানো লাশ,

এখন মৃত মানুষের চিৎকার,

এখন পিতার শোক পুত্রের জন্য,

এখন মায়ের শোক কন্যার জন্য,

আবার কাঁদছে ভাইয়ের জন্য বোন—

কিংবা বোনের জন্য কাঁদছে ভাই।

অসহায় আমি, অসহায় জন্মভূমি,

অসহায় জাতি, অসহায় বাঙালি,

কেনো? কেনো? কেনো? —এর উত্তর কি?

আছে উত্তর মন্ত্রী সাহেব?

—এর উত্তর কি?

আছে উত্তর সাংবাদিক সাহেব?

কেনো? কেনো? কেনো?

রাজপথ শূন্য শূন্য লাগে!

অথচ ঐ টিএসসির মোড়ে কত স্বপ্ন উড়ে,

প্রেম হয়, বন্ধুত্ব হয়

এই টিএসসির মোড়ে গল্প হয় আগামী বাংলাদেশ নিয়ে,

সুন্দর একটি দেশ গড়ার,

ঠিক আমার মায়ের আঁচলের মতো—

যেখানে হাসবে কোটি বাঙালি, হাসবে মায়ের শিশুরা।

আজ মাথা নিচু করে জায়নামাজে বসে—

কাঁদে কেউ কেউ,

আবার কেউ কেউ মোনাজাতে অভিযোগ তুলে—

রাব্বুল আলামিন 'বিচার করিও তুমি,

বিচার করিও জগৎ স্বামী।

এখন আর নেই সে কোলাহল,

মানুষে মানুষে আনন্দ গান কবিতার আসর,

একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে আমি এই পথে হেঁটেছি,

পহেলা বৈশাখের দিনে আমি এই পথে নেচেছি,

বইমেলার কথা কার না আছে মনে—

বইয়ের গন্ধে দুলতো সবুজ বৃক্ষ আনন্দে,

এখন শাহবাগ, এখন টিএসসি—

এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শূন্য শূন্য লাগে!

এতোটাই শূন্য লাগে 'থেকেও যেনো কিছু নেই—

আলো নেই, অধিকার নেই, মুক্ত বাতাস নেই।

কত লাশের কথা শুনি, শুনি রক্তের কথা

শুনি মায়ের কান্না, শুনি পিতার কান্না

শুধু শুনি না গনতন্ত্র আছে এই দেশে

আছে আমাদের স্বাধীনতা!

আর কত বলা যায়, লেখা যায়

অধিকার চাই বলিয়া বলিয়া রাজপথে—

নেমে চাইতে পারি আমাদের দাবি,

স্বাধীনতা যেনো এক পরাধীন নাগরিক!

ব্যস থেমে যাচ্ছি, আর লিখছি না কবিতা

বলছি না আর আমার না বলা কথাগুলো,

যতদিন বেঁচে আছি বোবার মতো থাকবো,

অন্ধ হয়ে এই দেশে হাঁটবো,

কানে শুনেও বলবো শুনি নাই কিছু,

দেখি নাই কিছু—

কারণ আমি তো বোবা,

শুনেছি বোবার কোনো শত্রু নেই!

ওরা গুলি করে মেরে ফেললো আগামীর ভবিষ্যৎ

হত্যার মধ্যে দিয়ে জাতির হলো ভয়ংকর ক্ষতি,

অথচ এই নিয়ে কথা বলার কেউ নেই

আছে শুধু বন্দুকের নল—

আর এই নল কপালে এসে ঠেকে,

হায় আপসোস হয় জাতির করুণ দশা আজ!

মিথ্যে মামলা, হয়রানির শিকার, জেল হাজত

মুক্তি নেই, শান্তি নেই, অধিকার নেই,

আছে শুধু মৃত্যুদন্ড, ভয় দেখানো, গুম, খুন—

আর হত্যার হুমকি! কি অদ্ভুত আমার দেশ।

পা চাটা কবিরা কখনো 'নজরুল, সুকান্ত হতে পারে না!

এই ঘুমন্ত জাতিকে নজরুল পড়তে বলো

বলো পড়তে সুকান্ত, কিংবা পড়ুক নবারুণ ভট্টাচার্যকে,

তখন জানবে তারা কবি কাকে বলে

প্রতিবাদ কাকে বলে।

ঘুমন্ত জাতি কখনো সকাল দেখতে পায় না,

সকাল দেখতে হলে জাগ্রত থাকতে হয়

আলোর সন্ধান করতে হয়,

আঁধার দেখে ঘুমিয়ে গেলে দিনের আলোও তোমার কাছে অন্ধকার!

আমাদের আলো আসবে,

ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা থাকবে এই কপালে পতাকা

ঐ আকাশে উড়বে লাল সবুজের স্বাধীন পতাকা,

সেদিন আমরা সবাই দেখবো পতাকার হাসি

সে মুক্ত আকাশে উড়ছে,

আর বলছে জয় হয়েছে তোমাদের

যারা জুলাইয়ে জীবন দিয়েছিলে,

তোমাদের এই দুই হাজার চব্বিশ ভুলবে না জাতি

অক্ষয় অমর তোমরা।

হায়রে সুদিন

 এই দুর্দিনে—

সুদিনের কথা ভেবে

অনেকেই কেঁদে যাচ্ছে,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

বৃক্ষের নেই হাসি

পাখির নেই ভালোবাসা— বাসি

জমিনের নেই আনন্দ রাশি রাশি,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

ব্যস্ত নগরী থমকে আছে

রক্তে পথ 'জীবন ঝরে গেছে

রংধনুর নেই রং,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

এখন শুনি না গান

এখন লিখি না কবিতা

এখন আঁকি না ছবি,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

এখন আর ভাতে মরি না

এখন আর পানিতে ডুবি না

এখন আমি মরে যাচ্ছি—

পেয়ে তীব্র যন্ত্রণা।

এই যন্ত্রণা ভাই হারানোর

এই যন্ত্রণা বোন লাঞ্চিত হওয়ার

এই যন্ত্রণা তোমার— আমার,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

এখন বলতে ইচ্ছে হয়

আমার সেই পুরোনো কথা

'একদিন সুদিন আসিয়া দেখিবে আমি নাই।'

তবে কি সেদিন জেনেছিলাম পাবো ব্যথা!

এটাও বলেছিলাম

'রাণীর দেশে রাজারা সব প্রজা!'

তাই বোবা হয়ে হাঁটছি সবাই—

যে যার মতো সোজা!

হায়রে সুদিন

'জনসংখ্যা বাড়লো ঠিকই মানুষ বাড়লো না!'

এটাও লিখেছিলাম পেয়ে যাতনা,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

সুদিন সুদিন 'ও— সুদিন

তোমাকে বলি

যদি আসো ফিরে বাঁচবে অসহায় জাতি,

সুদিন তুমি আসবে কবে?

কেমন কবিতার দেশ

 সবুজ বৃক্ষ ঘৃণা করে

মুখ ফিরিয়া নেয় অভিমানে,

পাখির সাথে কথা বলি

সে আমারে দেয় গালি,

জমিন ফাটিয়া আমারে বলে

অনেকেই পা চাটার দলে,

লজ্জিত কলমের কালি

কবিরা ক্যান বিক্রি হইলি!


সোনার বাংলা নেই ভালো

প্রতিবাদে তাই আকাশ লাল হইলো,

নাহি তা জানা গেলো

কি দুখে স্বাধীনতার মৃত্যু হলো,

কার বুকে কে গুলি করিলো

মেধাশূন্য ভুবন কাঁদিলো,

হায় হায় কি জানি শেষ

কেমন কবিতার দেশ!


বিচার চাইলে বিচার পাই না

চুরি হয়ে গেছে মায়ের সোনার গয়না,

থানায় গেলে মামলা নেয় না

কি অদ্ভুত স্বাধীন বাংলা,

ভেঙে গেছে ভাইয়ের স্বাধীনতার আয়না

লাঞ্চিত হওয়া বোনের বিচার পাই না,

এখন শুধু মনে পড়ে 'হীরক রাজার দেশে

যায় যদি যাক প্রাণ— হীরকের রাজা ভগবান!

এগুলোও একধরনের কবিতা

*

আদৌ কি এই দেশে

সেনাবাহিনী আছে

নাকি তারাও টাকার কাছে

বিবেক বিক্রি করে বাঁচে

বিক্রি হয়ে গেছে?


*

আমি মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা করি

শ্রদ্ধা করি বঙ্গবন্ধুকে

শুধু শ্রদ্ধা আসে না তাদের প্রতি

যারা নেই সত্যের পক্ষে!


*

তুমি আমি আমরা তুমি

একই ভূমিতে জন্মাইয়াছি

কিভাবে করলে গুলি

পুলিশ বাহিনী?


*

গুজবে কেউ দিও না কান

কান হবে খান খান

তবে কান ধরে মারলে টান

গদিও যাবে যায়রে জান!


*

কারো মৃত্যু কামনা করা ভালো না

করো তাই দোয়া

শুনেছি রুহের হাক পৌঁছে যায়

পাক কালামে পাওয়া।


*

হিসাব কি আর সব

হাশরে নেয় রব

কিছু হিসাব নিকাশ

দুনিয়াতে হয় প্রকাশ।


*

ইতিহাস ঘুরিয়া ফিরিয়া আসে

আসিয়া তাহারই বক্ষে বসে

করিয়া ছিলা তুমি

পূর্বে যাহা ধরণীতে!


*

কোথাও কি বলিয়াছে কেউ

মুক্তিযোদ্ধারা বাংলার নয় কেউ

তাদের জন্য পেয়েছি দেশ

তারাই বলছে কোটার প্রয়োজন শেষ।


*

শিশুর মতো মুখটা তাহার

মাথায় ছিলো ঘুমটা

মুখে ছিলো মধুর বুলি

অহংকারে ভরা মনটা!


*

এতো আমল করিয়াও লানতের তক্তা গলায়

তবু করুণা করে গদি দিছিলো উপরওয়ালায়

সুযোগ দিয়া দেখছে তিঁনি যোগ্য ছিলে না তুমি!


*

বুক তো আমার মা-ও পাতে

আমি সে বুকে ঘুমাই মাথা রাখি

তুমি কিভাবে পারলে

ভাই হয়ে ভাইয়ের বুকে করতে গুলি?

ঐ বুকে বাংলাদেশ।

আগুন নেভাতে আগুন হতে হবে

 সারা শরীর করছে ব্যথা

মাথায় তিব্র যন্ত্রণা,

তবু বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

জ্বরে আমার চোখ জ্বলছে

যন্ত্রণায় আমার হৃদয় পুড়ছে,

তবু বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

মা বললেন 'শব্দ দিয়ে প্রতিবাদ করো

এখন বোবা থাকার সময় না,

তাই বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

তাই বলছি এখন প্রেমিকা নিয়ে

ঐ টিএসসির মোড়ে বসে—

পছন্দের চা খাওয়ার সময় না,

আর চুড়ি কিনে ঘরে ফিরে

গা ঘেষানো কাম-প্রেম বাসনা না,

এখন সময় প্রতিবাদ করার

বোবাদের জন্য দেশ প্রেম না।

বাংলার আকাশ প্রতিবাদে লাল

অনেকে হয়েছে শহিদ ষোলই জুলাই,

তাই বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

প্রিয় প্রেমিকারা তোমার বাবা বা ভাইকে বলো

তারাও যেন রাজপথে নেমে আসে,

সত্যিই যদি সোনার বাংলাকে ভালোবাসে।

“তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!

যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!

কবি নজরুলে কয়,

তাই বলছি যুদ্ধে যাওয়ার সময় হয়েছে

এই আন্দোলন মিথ্যে নয়।

প্রিয় প্রেমিকা 'যদি সত্যি হয় ঐ আকাশ

যদি সত্যি হয় ঐ আকাশের চাঁদ,

যদি সত্যিই ভালোবাসো আমাকে বা তোমাকে

তবে আজই আসতে হবে নেমে রাজপথে।

এখানে বাংলার সূর্য সন্তানেরা লড়ছে—

অন্যায়ের বিরুদ্ধে,

এই আন্দোলন অযুত নিযুত ছাত্র ছাত্রীদের,

তারা স্বপ্ন দেখছে সুন্দর একটি সকালের—

এবং আঁধার পেরিয়ে নতুন সূর্য উঠবে,

সে আলোতে আগামী বাংলাদেশ হাসবে।

জ্বরে আমার চোখ জ্বলছে

যন্ত্রণায় আমার হৃদয় পুড়ছে,

তবু বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না।

আগুন নেভাতে আগুন হতে হবে,

আগুনে না পুড়লে সোনার মানুষ রবে?

সোনার অলঙ্কার যতই হোক খাঁটি—

তাকে পুড়িয়াই পরিচয় দিতে হয় সোনা নাকি মাটি,

তাই বলছি এখন প্রেমের

কাব্য লেখার সময় না,

সারা শরীর করছে ব্যথা

মাথায় তিব্র যন্ত্রণা।

দেখি নাই বায়ান্ন

দেখি নাই একাত্তর

দেখি নাই স্বৈরাচারের নয় বছরের শাসন

দেখি নাই পচাত্তর,

তবে কি দেখবো না চব্বিশের জয়?

কত আর ঝরবে প্রাণ

হবে বাঙালিরা ক্ষয়!

এই আন্দোলন মিথ্যে নয়

সত্যের হোক জয়।

এই দেশে গনতন্ত্র নেই

 প্রিয় প্রেমিকা,

আমাদের কথা ছিলো পরন্ত এক বিকেলে আকাশ দেখবো,

আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে আমরা হবো একে অপরের,

জুলাইয়ের এক গভীর রাতে আমাদের হবে মহা মিলন,

অথচ তুমি রাজপথে আর আমি কবরে!


প্রিয় প্রেমিকা,

ওরা আমাকে হত্যা করে জানিয়ে দিয়েছে—

এই দেশে গনতন্ত্র নেই,

অথচ আমি জানতাম স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ!


প্রিয় প্রেমিকা,

রক্তে দাসত্ব মিশে গেলে সে শির কখনো মাথা উঁচু করে—

প্রতিবাদ করতে পারে না,

চাইতে পারে না ভাই হত্যার বিচার,

বোন লাঞ্চিত হওয়ার বিচার,

রক্তে দাসত্ব মিশে যাওয়া জাতি দাস ছাড়া আর কি হতে পারে?

জাতি মাইরা খ্যাতি চায়

 এক ছাগলে কত সাধুর করলো মুখোশ উন্মোচন,

তবু না হইলো রে সত্যবাদী মন।

সব শালারা এখনও নিজেরে দাবি করে সাধু,

চুরি হইয়া গেছে রে কৃষক আবুল ভাইয়ের কদু!

বড় গলায় কথা বলে নয়নের জলে,

জাতি মাইরা খ্যাতি চায়!

পা চাটা চামচারা রাজপথে বলে,

ওরাও আবার বড় গলায় ধমক মারে 'ওরাও বলে—

সবাই নাকি রাজাকার! দেশটা নাকি তার বাবার,

জাতি মাইরা খ্যাতি চায়!

আছে জাতি এক গোলকধাঁধায়,

যুদ্ধ করছে কার দাদায়? কার বাবায়?

এক ছাগলে কত সাধুর করলো মুখোশ উন্মোচন,

তবু না হইলো রে সত্যবাদী মন।

সোনার বাংলা ভালো নেই,

ভালো নেই জাতির সন্তানেরা, সবার মধ্যে এখন যন্ত্রণা!

আছে ভালো শুধু ওরা সাধুর মুখোশ পরলো যারা,

ওই ভন্ড, ওই দুর্নীতিবাজ, ওই পা চাটা দালালেরা,

ভালো আছে কোটি টাকার গাড়িতে চড়া মন্ত্রীরা,

শুধু ভালো নেই, ভালো নেই সাধারণ মানুষ যারা,

হায় 'স্বাধীন দেশে পরাধীন নাগরিক আমরা!

এক ছাগলে কত সাধুর করলো মুখোশ উন্মোচন,

তবু না হইলো রে সত্যবাদী মন।

তাই উঠেনি আজ রবি

 কত আর মুখ বুঝে সবি

এবার দেখা তোর প্রতিবাদী ছবি।

জালিমদের অত্যাচারে

কত জীবন যায় ঝরে,

আকাশ তাই লাল হয়ে

অভিমানে বলে

বাংলায় পা চাটা অনেক কবি!

এখন হলুদ সাংবাদিকে

এখন দুর্নীতিতে

ধর্মের লেবাস পরে

ভরে গেছে বাংলায় অনেক ধার্মিক,

ধর্মের দোহাই দিয়ে

লুফে নিতে চায় গদি!

কত আর মুখ বুঝে সবি

এবার দেখা তোর প্রতিবাদী ছবি।

এখন নয়নে আগুন জ্বলে

বুক শব্দ বোমা হয়ে কথা বলে

দাবাইয়া রাখতে চাইলে

শির হয় পারমাণবিক শক্তি,

কত আর মুখ বুঝে সবি

এবার দেখা তোর প্রতিবাদী ছবি।

শোকে আমার মায়ের বুক হয়েছে লাল!

দেখলাম প্রভাত কাল

তাই উঠেনি আজ রবি!

কত আর বোবা হয়ে থাকবি

কত আর দাস হয়ে বাঁচবি,

এবার দেখা তোর প্রতিবাদী ছবি।

বিজয়ের গান

 শুনিতেছি গান উড়িতেছে বিজয়ের নিশান

গাইতেছি হৃদয় দিয়ে বাংলা মায়ের শান ও মান,

সেই এক বেদানার ইতিহাস

মা আমার বীরাঙ্গনা বোন আমার ধর্ষিতা

ভাইয়ের বুকে গুলি, পিতা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে জানে বিধাতা

দিয়ে তাজা প্রাণ এনেছে বাংলার মান

তাই আজ গাইতে পারি বিজয়ের গান।

সেই এক বেদনার ইতিহাস

২৫শে মার্চ রাতের আঁধারে

পাকিস্তানি সৈন্যরা গুলি চালায় বাঙালিদের উপরে,

রক্তে লাল বাংলার আসমান

তবু মুক্তিযোদ্ধারা ছাড়েনি স্বাধীনতার হাল

কৃষক শ্রমিক ছাত্র যুবক মূর্খ সূর্খ, কেউ ছেঁড়া কাপড় পরে

অনেকে আবার দিনের পর দিন না খেয়ে

১৬ই ডিসেম্বর এনেছে বিজয়ের পতাকা

এনেছে বাংলার স্বাধীনতা।

লজ্জা লাগে আজ হৃদয়ে পাই ব্যথা

ভুলে গেছে এই জাতি একাত্তরের কথা,

টাই কোর্ট পরে কলমের খোঁচায়

দুর্নীতিতে মগ্ন শিক্ষিত সমাজ হায়!

একাত্তরে মূর্খরা করেছিল বাংলা মাকে মুক্ত

আজ শিক্ষিত সমাজ দুর্নীতিতে হয়েছে যুক্ত!

বাংলা মায়ের সম্পদ পাচার করে বিদেশের মাটিতে

ভুলে সেই বেদনার ইতিহাস

কত সাধনার ফলে পাওয়া বাংলার স্বাধীনতা যে।

ভয় পেয়ো না

 আলো আসছে

আলো জ্বলছে

আলো হাসছে

আলো ডাকছে,

বন্ধু তুমি অন্ধকার দেখে—

ভয় পেয়ো না।

ওরা আমার মেধা কাইরা নিতে চায়

বায়ান্নতে জীবন দিছে রফিক চব্বিশে জীবন দিছে কতজনে একি,
ইতিহাস ঘুরে-ফিরে আসে জানো নাকি?
কারবালার রক্ত বাংলার জমিনে,
দিয়েছে জীবন হয়েছে শহিদ নরপিশাচদের গুলিতে!
কোথায় বড় বড় কবি, লেখক, সেলেব্রিটি আর মানবতার ফেরিওয়ালারা?
আমার ভাই বোনদের রক্তে রঞ্জিত সোনার বাংলা।
ওরা কোটা দিয়ে ডুবাচ্ছে দেশ, হচ্ছে সোনার বাংলা শেষ
ওরা মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ভাঙিয়ে চলছে অনাদিকাল,
তাই বুঝি আজ বাংলার আকাশ প্রতিবাদে লাল!
ওরা ক্ষমতার জন্য অন্ধ হয়ে গেছে, মনুষ্যত্ববোধ বিক্রি করে খায়।
ওরা আমার মেধা কাইরা নিতে চায়!
জান দিয়ে মান কেনা বাংলাদেশ ভালো নেই,
নরপিশাচরা খামচে ধরেছে মেধাবীদের লাল সবুজের পতাকা।
অন্যায়ের কাছে ইমাম হোসাইন হয়নি নতো,
দিয়েছে জীবন থেকেছে সত্যের পক্ষে জানে বিশ্ব।
হে বাংলার সূর্য সন্তানেরা তোমাদেরই হবে জয়,
ভুলো না বায়ান্নর আন্দোলন একাত্তরের ইতিহাস
তোমরা ছাত্র সমাজ ভয়কে করো জয়, তোমাদের নেই ভয়।

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৪

চিঠি।

পশ্চিম শেওড়াপাড়া মিরপুর, ঢাকা ১২১৬ 
০৪ আগস্ট ২০২১ 
রাত 

শ্রদ্ধেয় বন্ধুসুলভ প্রিয় ইব্রাহিম ভাই একটা চিঠি দিলাম ব্যথার জলে। আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়ের লেখাটি আপনার কাছে লিখে গেলাম। 
ছোট থেকে মানুষ হয়েছি জীবনের সাথে সংগ্রাম করে। কোনোদিনও নিজের চাওয়া পাওয়ার উপর দাবি বসাইনি। 
জীবনে ভোগ বিলাসিতার চেয়ে ত্যাগ করার চেষ্টাটাই অধিক করেছি। জীবনে কখনো কারো ক্ষতি চাইনি, কারো দুটাকা মেরে খাইনি, 
কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না আমার জন্য কারো ক্ষতি হয়েছে, যদি কেউ বলে তাহলে বুঝে নিয়েন সে তার স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যে রটনা করেছে। 
আমার এই লেখা কোনো অভিযোগ বা কারো বিরুদ্ধে নালিশ নয়, এই লেখা আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়ে ঘটে যাওয়ার করুণ দিনগুলি। 
পড়ালেখা করার সুযোগ পাইনি তেমন, ছোটবেলা খুব ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনী হব, ভাগ্যের লিখুন আজ আমায় কোথায় নিয়ে এসেছে, 
এই সমাজ আমাকে কবি বলে ডাকে আজ। বিশ্বাস করুন আমি কোনোদিনও কবি হতে চাইনি, চেয়েছিলাম মানুষের উপকার করতে, মানুষের দুঃখে পাশে থাকতে। 
জীবন আমায় অনেক কিছু দিয়েছে, জীবনের চাওয়া পাওয়ার হিসেব একদমই নেই। আমার বাবা, মা, ভাই, বোন, ছোট্ট ভাগ্নি এরা সবাই 
আদর স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে সবসময় আমাকে ভালো রেখেছে, এদের ঋণ এই জন্মের পর পরের জন্মেও শোধ হবে কিনা সন্দেহ আছে। 
প্রিয় ভাই, অর্থ বা খাওয়ার অভাব আমার নেই, আল্লাহ যা দিয়েছে তা দিয়ে ডাল ভাত খেয়ে সুন্দরভাবে জীবন চলে যায়। আমার বড্ড অভাব প্রিয় একজন মানুষের। 
যে আমাকে বুঝবে, আমার মন খারাপ দূর করবে, সুখদুঃখের ভাগীদার হবে, আমার দোষ গুণ গুলোকে ভালোবাসবে। 
আমার জীবনে প্রেম এসেছে কিন্তু প্রিয় মানুষ আসেনি। স্কুলে পড়তে কাজলী নামের একটি মেয়ে আমাকে ভালোবেসেছিল, 
আমার যখন চাকরি জীবন শুরু হয় তখন ফাতেমা নামের একটি মেয়ে আমাকে ভালোবেসেছিল, 
এরা দুজনেই নিজ হতে এসে তাদের প্রয়োজন শেষে আমার জীবন থেকে চলেও গেছে। কাজলীর খোঁজ খবর জানি না, 
ফাতেমার সুখের সংসার তার কোলজুড়ে ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তান। তানিয়ার কথা তো সবই জানেন 
নতুন করে লিখে আর কি জানাবো আপনাকে, তবু কিছু কথা লিখা থাক এই চিঠিতে। 
তানিয়াকে প্রথম দেখেছিলাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে, এরপর অমর একুশে বইমেলায়, সেখানে তার সাথে পরিচয় হয় কথা হয় ফেসবুকে বন্ধুত্ব হয়। 
আমার পছন্দের রং সাদা কালো কেনো জানেন? কারণ এই রং ছাড়া আমার জীবনে আর কোনো রং আমাকে গ্রহণ করেনি, 
যারাই করেছে প্রয়োজন শেষে বাসি ফুলের মতো ময়লার ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলেছে। কোনোদিনও নিজের থেকে কোনো মেয়েকে বলা হয়নি ভালোবাসি, 
এই প্রথম সাহস করে একটি মেয়েকে বলেছি ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি।’ তানিয়া উত্তর দিয়ে বলল ‘ভালোবাসাগুলো বাঁচিয়ে রাখবেন।’ 
এরপর সে তার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মোবাইল নম্বরে আমাকে ব্লক লিস্টে রাখলেন। তার সাথে যোগাযোগ করার আর সুযোগ পাইনি। 
তার এমন অদ্ভুত আচরণে আমি পাগলের মতো হাসতে ছিলাম আর ভাবতে ছিলাম আমি একটা পাগল। 
মানুষ তখনই একজন মানুষকে ভালোবাসে যখন সে তার যোগ্য হয়। প্রিয় ভাই, হাসতে আর ভাবতে ভাবতে চলতে থাকে আমার জীবন। 
২০১৮ তে আমার কর্মজীবনের কঠিন একসময় আসে, চাকরি নেই চাকরি খুঁজে পাচ্ছি না, কোথায় যাই কার কাছে চাকরির কথা বলব, কে দেবে চাকরি। 
পরিচিত যত মুখ ছিল কমবেশি সবার দুয়ারে গিয়েছি চাকরির খোঁজে, কিন্তু প্রয়োজন শেষে সবাই বলেছে এবার তুমি আসতে পারো, কেউ আর চাকরি দিলো না। 
একদিন এক প্রযোজকের সাথে নিজের খারাপ সময় শেয়ার করলাম, তার সাথে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। 
সে বলল দেখা করতে, তার সাথে দেখা করতে ছুটে গেলাম চাকরির খোঁজে, হয়ত তিনি একটা ব্যবস্থা করে দেবেন আমার। 
পকেটে ২০টাকা নিয়ে কারওয়ান বাজারের সামনে নেমে বাস ভাড়া ১০টাকা দিয়ে পকেটে রইলো মাত্র ১০টাকা। 
তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে জানতে পারি সে এটিএন বাংলায় আছে। আমাকে বলল আরটিভি ভবনের পিছে বেশকিছু চায়ের দোকান আছে সেখানে গিয়ে বসতে। 
গলিতে ঢুকে দেখি টেলিভিশনের পর্দায় দেখা বেশকিছু গুণী মানুষেরা এখানে দাঁড়িয়ে সিগারেট চা খাচ্ছে আর আড্ডা দিচ্ছে। 
পকেটে টাকা নেই তাই সাহস করে কোনো দোকানে গিয়ে বসলাম না, দাঁড়িয়ে আছি প্রযোজকের অপেক্ষায়। 
ভিক্ষুক ভিক্ষার জন্য যেভাবে মানুষের দুয়ারে দাঁড়ায় সেদিন আমার মনে হয়েছিল আমিও তাদের আত্মীয় হয়ে এসেছি নিজের কর্ম ভিক্ষা পেতে। 
দাঁড়িয়ে থেকে ২ঘন্টা চলে গেলো তার আসার খবর নেই, মোবাইলটি বার-বার হাতে নিয়েও ফোন করি না ভয়ে, যদি সে কিছু মনে করে। 
অবশেষে তার হাসিমাখা মুখটাকে দেখলাম, ‘কষ্ট হয়েছে তোমার তাই না, চলো এখন।’ 
সে হাঁটে তার পিছে পিছে আমি হাঁটি, এভাবে হেঁটে কারওয়ান বাজারের কোন এক গলিতে নিয়ে গেলো, সেখানে গিয়ে দেখি কম্পিউটারের একটি দোকান, 
কি জানি টাইপিং করালো সে, প্রিন্ট শেষে কাগজটি হাতে নিয়ে এবার আবার সে হাঁটে তার পিছে পিছে আমি হাঁটি। 
এটিএন বাংলায় দুজনে প্রবেশ করলাম, আমাকে রিসিপশনে রেখে প্রযোজক এটিএন বাংলার চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাৎ করে তার নাটকের কাজ সেরে 
এবার নিয়ে আসলো মগবাজারের এক বাড়িতে, সেখানে এসে দেখি ভিডিও এডিটিং রুম, দেশের সিনেমা টিনেমা নাটক গান এখানে কাটছাট করা হয়। 
রাতের দশটায় বাসা থেকে বাবার ফোন কোথায় বাসায় আসো। প্রযোজক স্যারকে বললাম স্যার এখন বাসায় যেতে হবে, বাসা থেকে ফোন এসেছে। 
তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে পেটের খুদা পেটে লয়ে মগবাজার থেকে হেঁটে হেঁটে কারওয়ান বাজারের ট্রাফিক সিগনালের সামনে আসি। 
১০টাকা বাস ভাড়া দিয়ে আগারগাঁও তালতলায়। বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া করে ঘুম। 
সেদিন প্রযোজক নিজের স্বার্থ হাসিলের পর আমাকে চাকরির উপহার স্বরূপ কিছু জ্ঞান দিয়েছিল চাকরি নয়। 
মানুষের কাছ থেকে বিনা পয়সায় জ্ঞান পাওয়া যায়, এটার জন্য কোনো মানুষ আপনাকে বলবে না আমাকে টাকা দাও জ্ঞান দিয়েছি তাই, 
কিন্তু চাকরি চান, বলবে টাকা আছে? জীবন আমাকে অনেকিছু শিখিয়েছে, এই জন্য জীবনদাতাকে খুব ভক্তি করি। 
প্রিয় ভাই, কোথাও যখন চাকরি পাচ্ছিলাম না, তখন বাধ্য হয়ে নিজের পরিবারে থাকা বাবা, মা, ভাই, বোনদের মুখের দিক তাকিয়ে একটি কলেজে চাকরি নিই, 
চাকরিটা ছিল এমন যে কলেজ যতক্ষণ চলবে তুমি গেইট দেখাশোনা করবে এরপর তোমার ছুটি। সকাল ৭টায় গিয়ে কলেজ খুলতাম আর ৩টায় বন্ধ করে বাসায় চলে আসতাম। 
একদিকে সংসার আরেকদিকে সাহিত্য সাধনা সবমিলিয়ে আমার জীবন ‘কেমন জানি লাগে।’ ২০১৮ বা ১৯ এ কলেজের চাকরিটা নিই, এরমধ্যে আরও কত ঘটনা জীবনে ঘটে গেলো, 
একটি চাকরি চাই, আমাকে একটি চাকরি দেবেন, সবাই দিয়েছে চাকরির উপহার স্বরূপ জ্ঞান। 
২০১৯ এ যখন তানিয়ার অবহেলায় আমি ব্যথিত তখন কলেজের একটি মেয়েকে পছন্দ হয়, নাম তার নূরজাহান। 
সে তার জীবনের অনেক কথাই আমার সাথে শেয়ার করেছে, তার আচরণ খুবই মিষ্টি নম্র ভদ্র। 
২০১৯ থেকে ৪আগস্ট ২০২১ বুধবার দুপুর ২টা ৩১মিনিটের আগ পর্যন্ত তার কাছে আমি একজন ভালো মানুষ হিসেবেই ছিলাম। 
আজ যখন তাকে বললাম ‘আপনাকে দেখে যাচ্ছি বছর দুই এক ধরে, আমি আপনাকে ভালোবাসি।’ 
সে উত্তর দিয়ে বলল ‘আমি আপনার থেকে এমন কিছু কখনও আশা করিনি যাক সেসব কথা। আমি দুঃখিত আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে আরো অনেকদিন আগে আমার কাজিনের সাথে।’ 
প্রিয় ভাই, এই হচ্ছে আমার জীবন। তানিয়ার অবহেলা ভুলতে নূরজাহানকে বলেছিলাম ‘ভালোবাসি।’ অথচ সে আমাকে ভুল বুঝলো। 
তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি সাথে সাথে, বলেছি ‘যদি পারেন ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে।’ 
প্রিয় ভাই, প্রিয় মানুষকে হারানোর যন্ত্রণার চেয়ে দ্বিতীয় কোনো যন্ত্রণা পৃথিবীতে নেই। আমার নামের পাশে অধম দেখে আপনি একদিন বলেছিলেন নিজেকে ওত তুচ্ছ ভাবতে নেই, 
ভাই নিজেকে কখনো তুচ্ছ ভাবিনা। আমিত্ব আমাকে যেনো গ্রাস করতে না পারে সেজন্য নিজেকে সবসময় অধম বলে গন্য করি। 
আমার খাওয়ার অভাব নেই, এখন একটি চাকরি আছে, বেতন যা পাই তা দিয়ে ডাল ভাত খেয়ে সুন্দরভাবে দিন চলে যা, কারো কাছে যেতে হয় না। 
জীবনের খারাপ সময় মানুষের চিরদিন থাকে না, সুসময় মানুষের জীবনে আসে। তবে একটা কথা কি এই মনে যাকে ধরে সে মানুষটি যদি একবার হারিয়ে যায় আর ফিরে আসে না। 
আমি জীবনে যাকেই আপন করতে চেয়েছি সেই আমাকে ভুল বুঝেছে। আমি সবার জন্যই প্রার্থনা করি, সবাই ভালো থাকুক, সুখে থাকুক, সবার জীবনে সুখ আসুক, কেউ যেনো না কাঁদে। 
নূরজাহান এই শহরের নামিদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন, গ্রিন ইউনিভার্সিটি। কিছুদিন পর তার বিয়ে হয়ে যাবে। তার জন্য শুভ কামনা। 
প্রিয় ভাই, বিধাতার কাছে শুকরিয়া তিনি আমাকে ধৈর্য শক্তি দান করেছেন, আমি কোনোদিনও তার কাছে অভিযোগ করে বলবো না ‘তুমি এটা দাওনি, ওটা দাওনি। 
শুধু বলবো বিধাতা পৃথিবীতে যা কিছু সৃষ্টি করেছ সবই তো সৃষ্টির কল্যাণে, তবে তোমার দোজখে আমাকে ঠাঁই দাও, আমি দোজখে বসে আমার কল্যাণ গড়তে চাই। 
ছোট্ট জীবনে মানুষের কত্ত কথা! এত্ত কথা না বলে মানুষ যদি বাঁচতে পারতো তবে সাহিত্যের জন্ম না হলেও মানুষ বাঁচতে পারতো। 
গান, কবিতা, গল্প এগুলো আছে বলেই মানুষ পৃথিবীতে বাঁচতে পারে শত আঘাতে। তাই সাহিত্যের বিশেষ ভূমিকা পৃথিবী জুড়ে। 
প্রিয় ভাই, অনেক কথাই বলে ফেলেছি আপনাকে, আমার কোনো কথায় আপনি ব্যথিত হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, পারলে ক্ষমা করে দিবেন। আর আমার মৃত্যুর পর 
কিছু গোলাপের কাঁটা আমার কবরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে আসবেন, কারণ তখন আমার কবরে ফুল দেয়ার মানুষের অভাব হবে না, 
যতটা অভাব আজ প্রিয় মানুষের কাছ থেকে একটি গোলাপ ফুল পাওয়ার। 
প্রিয় ভাই, এখন রাত আর লিখতে পারছি না। সারাদিন অফিস করে শরীর অনেকটা দুর্বল, সকালে অফিসে যেতে হবে। 
চিঠির সমাপ্তি দিচ্ছি আজ, পরিশেষে সবার মঙ্গল কামনা করি। আপনি ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন, হাজার বছর বাঁচুন।

ইতি, 
আপনার ছোট ভাই 
অধম।

মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪

কেনো আমি প্রেমিক হলাম

 প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার কানের দুল 

খুঁজে পেতে না তুমি আমার কোনো ভুল। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার গায়ের শাড়ি 

অভিমান হলেই করতে পারতে না আমার সাথে আড়ি। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার কাঁধের ব্যাগ, হতাম খোঁপার ফুল 

কেয়ার পেতাম সব’চে বেশি চুমু খেতাম তোমার আঙুল। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার চোখের কাজল 

মিশে থাকতাম তোমার চোখে মুছে দিতাম দুখের জল। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার হাতের চুড়ি 

পাগলের মতো চিৎকার করে বলতাম ‘তোমায় ভালোবাসি’। 

প্রেমিক না হয়ে 

যদি হতাম আমি তোমার ঠোঁটের লিপস্টিক 

মিশে যেতাম তোমার ঠোঁটে পেতাম ভালোবেসে তৃপ্তি। 

কেনো আমি প্রেমিক হলাম 

তোমার দেয়া ঘৃণা আর অবহেলা বুকে নিয়ে 

ভালোবাসা হতে 

তোমার থেকে দূরে রইলাম! 

আমাকে আর ডেকো না

 হে প্রেম, তোমার খোদার দোহাই  আমাকে আর ডেকো না,  হৃদয় ভেঙে গেছে  হৃদয় মরে গেছে!  তোমার কাছে যাওয়ার মতো  শক্তি আজ নেই হৃদয়ের,  হৃদয় আজ ক্লান্...