মানুষের জীবনে কিছু না ঘটলে জানা যায় না জীবন সম্পর্কে।
মানুষকে লিখতে হলে পড়তে হয়, পড়তে না জানলে লিখতে পারবে না।
ইকবাল সাহেবের এই শহরে দীর্ঘ বিশ বছর ধরে আসা যাওয়া এবং থাকাও হয় তার।
তবে সে কিছু না কিছুর কারণে এই শহরের মায়া ছাড়তে পারে না।
অফিসে চাকরি করা কালিন তার সাথে আমার পরিচয়।
অফিসের বাকি আটদশটা মানুষের চেয়ে সে অনেকটাই ভিন্ন বলা যায়।
সে কথায় কথায় হাসে, কারণে অকারণে হাসে।
আমি এই মানুষটার সাথে পরিচয় হওয়ার জন্য তার সাথে মিশার জন্য
নিজের থেকেই একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দেই তার দিকে,
দেখি কিছু না বলা কথাগুলো যদি শুনতে পারি।
ইকবাল সাহেব বিয়ে করেছেন?
হ্যাঁ ভাই বিয়ে করেছি।
ছেলে মেয়ে আছে?
একটি ছেলে আছে।
তারা কোথায় থাকে?
বউ, ছেলে ও মা তারা তিনজন গ্রামের বাড়িতে থাকে।
বাবা আছে?
না বাবা মারা গেছে।
বউয়ের মন রাখার জন্য অনেক সময় বাবা মায়ের বিরুদ্ধে যেতে হয়।
তুমি এখন বিয়ে করোনি তাই সংসার সম্পর্কে তোমার ধারণা নেই।
ইচ্ছে হলেই টাকা খরচ করতে পারো, কেউ জিজ্ঞেস করে না কোথায় যাচ্ছো,
তোমাকে পিছন থেকে টেনে ধরার কেউ নেই, কিন্তু আমাকে টেনে ধরার মানুষ আছে
আছে বুকে জড়িয়ে ধরার, আবার আছে যন্ত্রণাও।
প্রেমিকদের জীবনে বিচ্ছেদটাই মনে হয় বেশি থাকে, প্রেম ওতো প্রতারকদের জন্য,
প্রতারণা করাই প্রতারকদের গুণ। আর প্রেমিকরা বুকে বিচ্ছেদ নিয়ে
ভালোবাসার মানুষটির শান্তি কামনা করে যায়।
ইকবাল সাহেব তার বন্ধুদের ছবিতে লাইক দিতে গিয়ে ফেসবুক টাইমলাইনে ঘুরতে ছিল
হঠাৎ একটা মেয়ের আইডি, তা দেখে তাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দেয়। মেয়েটা এড করে নেয়,
কিছুদিন পর হাই লিখে ইকবাল সাহেবকে মেসেজ পাঠানো হয়,
সে রিপ্লাই দেয়। তাদের মাঝে আলাপ হচ্ছে।
মেয়েটা বলল এটা আমার ছোট বোনের ছবি প্রোফাইলে যেটা দেয়া,
এইভাবে তাদের কথা বলা শুরু, নিয়মিত কথা বলতে বলতে পরিচয়।
হঠাৎ একদিন একে অপরের সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলো।
ডিসেম্বরের পঁচিশ দুই হাজার বারোতে দুপুর একটায় তারা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করবে।
ইকবাল সাহেব বসে আছে মেয়েটা আসবে কিন্তু তার কোনো খবর নেই আসার,
ফোন দিচ্ছে, মেয়েটা বলল আমি আসতেছি রিকশায় আছি।
এরপর দুজনের দেখা হলো দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর। কথা হলো আড্ডা হলো
দুপুরের খাবার খেলো একসাথে। চাঙ্খারপুল মোড়ে এসে মেয়েটা বলল
স্যরি আমি খুব নারবাচ হয়ে গিয়েছিলাম ভয় পেয়েছিলাম তাই দেরি হয়েছিল।
সেদিন তার সাথে প্রথম দেখা, কাচ্চি খেয়ে রিকশায় ঘুরে
তাদের সেদিনের সে মুহূর্ত কেটে যায় আড্ডায় আড্ডায়।
এরপর ইকবাল সাহেব বিদায় নিয়ে মেয়েটাকে রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে চলে গেলো।
মেয়েটার এই শহরে কেউ নেই। তার বাবা মা ভাই বোন সবাই গ্রামের বাড়িতে থাকে।
ছোট বোন কুমিল্লায় পড়ালেখা করে, সেখানেই তার বসবাস।
মাঝে মধ্যে বড় বোনের সাথে সাক্ষাৎ করতে চলে আসে ব্যস্ত শহরে,
বড় বোনের সাথে থাকা হয় দু একদিন তার। একদিন বড় বোনের সাথে কথা বলতে বলতে
ইকবাল সাহেবের কথা সে জানতে পারে।
তখন সে তার বড় বোনকে বলল ‘একদিন ভাইয়াকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসি তাহলে,
আমাদের সাথে খাওয়া দাওয়া করবে।
ইকবাল সাহেবের প্রেমিকা খিচুড়ি রান্না করে তাকে ফোন দিয়ে বলল তার বাসায় যেতে,
সে বলল না, তখন তার প্রেমিকা বলল ‘তুমি যদি বাসায় না আসো
আমি গরম খিচুড়ির ভেতর হাত ঢুকিয়ে দেবো। প্রেমিকা অনেক রাগি।
মেয়েদের হোস্টেলে ছেলেরা যাওয়া নিষেধ, কিন্তু তার প্রেমিকা দায়িত্ব থাকা দারোয়ানকে
টাকা দিয়ে রাজি করিয়ে নেয় সেদিন।
ইকবাল সাহেব বলল ‘আমাকে ওর বাসায় নিয়ে গিয়েছিল,
ওর বাসায় গেলাম খাবার দিলো, গরম খিচুড়ি গোরুর মাংস দেখে জিভে জল চলে এলো,
আহ্ কি মজাদার খাবার।
‘প্রেমিকার হাতের রান্না যে প্রেমিকের কপালে জুটলো,
সত্যিই সে ভাগ্যবান বলে মনে করি। আর
প্রেমিকার হাতের রান্না যে প্রেমিকের কপালে জুটলো না,
সত্যিই সে হতভাগা কপাল পোড়া।’
সে রাতে বাসায় আসা হয়নি, আমি চলে আসতে চাইলেও
ও আমাকে আসতে দিতে চাচ্ছে না, বলল আজ থেকে যাও তুমি।
তার জড়াজড়িতে রয়ে গেলাম সে রাতে। দুচোখে আমাদের ঘুম ছিল না,
সারারাত গল্প করে কাটিয়ে দিলাম। সকাল ভোরে নামাজ পড়ে বাসায় চলে আসি।
সে আসাই শেষ আসা। তারপর?
বছর ছয়েক পর আমাদের দেখা। সে আমাকে ফোন দিলো,
আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করতে টিএসসি ছুটে গেলাম।
সে বলল আমি যেন ঠিক চারটায় টিএসসিতে থাকি। পুরান ঢাকায় থাকা কিছু বন্ধুদের সাথে
দেখা করে চারটার আগেই এসে বসে আছি টিএসসি।
অনেক সময় বসে থাকার পর আমি ফোন দেই তাকে। সে রিসিভ করে বলল আমি রিকশায় আছি।
টিএসসি থেকে গেলাম গাউসিয়া নিউ মার্কেট, রিকশায় যাচ্ছি আর কথা হচ্ছে,
সে এখন অনলাইনে শাড়ির বিজনেস করে। তার স্বামী একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা,
প্রতি মাসে একলক্ষ টাকা বেতন পায়। বছর ছয়েক পর যখন তাকে দেখি, আমাদের সাক্ষাৎ হয়,
সে শাড়ি পরে কপালে টিপ দিয়ে সেজেগুজে আসে,
সাথে নিয়ে আসে তরমুজ, সে জানতো তরমুজ আমার খুব পছন্দ।
সাপ্তাহখানেক দিন পর আবার তার সাথে দেখা করতে শাহবাগ আসি,
তখন সে কাঁচা আম খেতে চায়, ও সময় কাঁচা আম পাওয়া খুব কষ্টকর
সে কাঁচা আম খেতে খুব পছন্দ করে। বড় বোন কাঁচা আমের আঁচার তৈরি করেছিল,
আমি সে আঁচার নিয়ে পরের দিন দুপুরবেলা তার বাসায় যাই,
সে আমাকে জড়িয়ে ধরে সুখের কান্না করতে ছিল। তুমি আমাকে কত্ত ভালোবাসো।
ইকবাল সাহেব এরপর কী হলো?
মাস দুয়েক দিন পরের ঘটনা ‘শবনম আর আমি টিএসসিতে আসি, আড্ডা দিচ্ছি
সেদিন তাকে বললাম, তুমি তরমুজ নিয়ে এসেছিলে খেয়েছি।
তুমি কাঁচা আম পছন্দ করো তাই তোমার বাসায় আমের আঁচার নিয়ে গিয়েছি।
তবে এটা আমার ভুল ছিল, কারণ এখন তুমি অন্যের ঘরণী।
শবনম বলল ‘আজ কত কাছে থেকেও কত দূরে আমরা,
অথচ একদিন কত দূরে থেকেও কত কাছে ছিলাম।’
আমরা মনে করি মানুষ পাওয়া সহজ, কিন্তু না মানুষ পাওয়া সহজ না, টাকা পাওয়া সহজ।
ঘাম ঝরালে টাকা পাওয়া যায়, কিন্তু টাকা থাকলেই মনের মানুষ পাওয়া যায় না।
প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে ফেলার পর ইকবাল সাহেব পারি দিয়ে ছিলেন বিদেশে।
সেখানে গিয়ে একটা হোলিডেইন ফাইভ স্টার হোস্টেলে চাকরি নেন।
বাংলাদেশের টাকায় তার বেতন পনেরো হাজার টাকা মাত্র।
সেখানে গিয়ে তার সাথে পরিচয় হয় নেপালীর নাগরিক নীরমালার সাথে।
নীরমালা এই হোস্টেলে ছয় মাসের জন্য একটা কোর্স করতে আসে।
ইকবাল সাহেবের সাথে তার পরিচয়ে নীরমালা প্রথম দেখাতেই তাকে ভালোবেসে ফেলে।
তারা তাদের কাজ শেষে একে অপরের সাথে প্রতিদিন আড্ডায় মেতে উঠে।
এইভাবে চলতে থাকে তাদের প্রবাসী জীবন।
নীরমালা একদিন ইকবাল সাহেবকে বলল তাকে সিনেমা দেখাতে নিয়ে যেতে।
বিদেশের সিনেমা হলে তার সিনেমা দেখা হয়নি, কখনো যায়নি। ইকবাল সাহেব রাজি হয়।
এই প্রথম নীরমালা বিদেশী সিনেমা হলে যাচ্ছে। ইকবাল সাহেব নীরমালাকে নিয়ে
গাড়ির জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করছে, গাড়ি এসে হাজির।
তারা অনেকটা পথ গল্প করতে করতে সিনেমা হলে এসে
টিকেট কেটে সিনেমা দেখে হোস্টেলে ফিরে আসে।
ইকবাল সাহেব আর নীরমালা প্রতি সাপ্তাহে বা মাসে দুইবার সিনেমা হলে যায়, ছবির দেখার জন্য।
আসলে ছবি দেখাটা তাদের মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে
তারা একে অপরের সাথে সময় কাটাতে এই দিনটাকে বেছে নিয়েছে,
হোস্টেলে সবাই থাকে চাইলেও যেকোনো বিষয় নিয়ে কথা বলা যায় না।
তাই ছুটির দিনটাতে সিনেমা হলে গিয়ে আড্ডা দেয়া ছবি দেখা
আর সুখ দুঃখের গল্প করে কাটিয়ে দেয়াই তাদের আনন্দ বা সুখের জীবন মনে করে।
নীরমালা তার প্রেমিকের কাঁধে মাথা রেখে সিনেমা দেখে শান্তি পায়,
আর ইকবাল সাহেবও শান্তি পায় তার কাঁধে প্রেমিকার মাথা রাখাতে।
একদিন সিনেমা দেখা শেষ করে হোস্টেলে আসার পথে
অর্ধেক রাস্তায় নীরমালার পিরিয়ডের ব্যথা শুরু হয়, তার ব্যথা দেখে
ইকবাল সাহেব কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বলল ‘তোমার আজ বের হওয়াটা ঠিক হয়নি।
ব্যথার মাঝে জ্ঞানের কথাও ব্যথাই মনে হয়। নীরমালা চুপ করে আছে।
ইকবাল সাহেব তাকে যাত্রী ছাউনির নিচে বসা করিয়ে ছুটে গেলো সুপার শপে
সেখান থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে নীরমালাকে নিয়ে এক বাঙালি মুসলিমের বাড়িতে উঠলো।
নীরমালা নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে ঘন্টাখানেক পর বলল এবার আমরা যাই।
ইকবাল সাহেব সে বাঙালি মুসলিমের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নীরমালাকে নিয়ে হোস্টেলে ফিরে আসলো।
কঠিন সময়ে যে তোমার পাশে থাকে সেই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধু,
হোক সে মা বাবা ভাই বোন প্রিয় মানুষ বা অপরিচিত কেউ।
ভাগ্য অনেক সময় উল্টে গিয়ে নিজেকে ছোবল দেয়।
ইকবাল সাহেবের ভাগ্যে সবসময় তাই হয়েছে, প্রিয় মানুষটাকে ছেড়ে বিদেশে এসেছে,
এখানে চেয়েছিল জীবনটাকে নতুন করে গড়ার, কিন্তু কি অদ্ভুত তার ভাগ্য!
সেদিন ইকবাল সাহেব আর নীরমালা একসাথে হোস্টেলে প্রবেশ করে, যা দেখে ফেলে নীরমালার স্যার।
সেই নেপালী স্যার হোস্টেলের দায়িত্ব থাকা মেনেজারকে বিষয়টি ভিন্ন ভাবে বলায়,
ইকবাল সাহেবের উপর সতর্কবার্তা চলে আসে। তাই তাকে তার স্থান পরিবর্তন করতে হয়।
নীরমালার সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইকবাল সাহেবের কাজকর্মে মন বসে না,
মালয়েশিয়া মনে হয় তার কাছে বন্দি জেলখানা।
শক্ত করে হাত ধরে আছে শবনম। ‘আমি ভয় পাচ্ছি সে যদি কোনো বিপদে ফেলে আমাকে।
আমি তাকে বললাম কী হয়েছে তোমার? তুমি এমন করছো কেনো?
ইকবাল তোমাকে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না, আমাকে তুমি ছেড়ে চলে যেও না।
শবনম আরও বলল ‘আমি স্বামী পেয়েছি কিন্তু প্রেমিক পাইনি,
তোমার মতো করে কেউ আমাকে ভালোবাসে না।’
প্রত্যেক নারীই চায় তার স্বামী তাকে ভালোবাসুক, তাকে জানুক,
তার না বলা কথাগুলো সে বুঝার চেষ্টা করুক।
‘ভালোবাসা ছাড়া জীবন হচ্ছে লবণ ছাড়া তরকারির মতোই, স্বাদ লাগে না।
ভালোবাসা ছাড়া জীবনের মানেই হচ্ছে স্বাদহীন।’
ব্যথা পেলে কষ্ট পেলে আনন্দ লাগে প্রিয় মানুষটি যদি ভালোবাসে,
নয়তো যতই সুখ আর আনন্দ নিজেকে ঘেরা দিয়ে রাখুক না, মনে শান্তি নেই, প্রিয় মানুষটিকে ছাড়া।
স্মৃতি আর বিরহের গল্পে ফুরিয়ে আসে শবনম আর ইকবাল সাহেবের সময়, এরপর সন্ধ্যার আজান।
শবনমকে ঝিগাতলা পর্যন্ত পৌছিয়ে দিয়ে ইকবাল সাহেব চলে যায় গাজীপুর।
ইকবাল সাহেব যে সুখ চেয়েছিল মালয়েশিয়াতে গিয়ে তাও আজ মরিচীকা হয়ে গেছে।
নিজ দেশের মাটিতে শবনম বেঁধেছে ঘর অন্যের সাথে, তার সংসারে ফুটফুটে কন্যা সন্তান।
নীরমালার খবর আজ অজানা। সেও হয়তো সুখেই আছে নেপালে।
সত্যিই কিছু কিছু মানুষের জীবনে সুখ হচ্ছে মরিচীকা। ইকবাল সাহেবের মায়ের বয়স হয়েছে,
মাকে গ্রামের বাড়িতে একা রেখে ব্যস্ত শহরে এসে কাজকর্ম করতে ভয় হয় তার।
তাই ভাগ্যকে বিধাতার চরণে দিয়ে। নতুন জীবনে পা রেখেছে সে।
ইকবাল সাহেবের সংসারে একটি রাজপুত্র এখন। প্রতিদিন ছেলের সাথে হোয়াটসঅ্যাপ-এ কথা বলে।
তার ছেলে যখন তাকে জিজ্ঞেস করে আব্বু খেয়েছো?
সে বলে হুম, সে হুম হুম বেশ বলতে পারে।
পরের অধীনে কাজ করা মানেই তাদের মন যোগাড় করে চলতে হবে চলতে হয়।
ইকবাল সাহেব এখন আইটি অফিসে চাকরি করে, সেখানে সে লজিস্টিক সাপোর্টে আছে।
প্রতিদিনই কমবেশি তার এক অফিস থেকে আরেক অফিসে প্রডাক্ট নিয়ে যেতে হয়,
ডেলিভারির কাজ তাকেই করতে হয়। সময় আর শরীর একসাথে দৌড়াতে থাকে শেষ নেই,
যতক্ষণ অফিস চলবে ততক্ষণ ঘড়ির কাঁটা টিক টিক টিক আর তার দেহ ঠিক ঠিক ঠিক।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন